SSC · জীববিজ্ঞান · ব্যবহারিক
জীববিজ্ঞান ব্যবহারিকের ভাইভা প্রশ্নোত্তর
১. যৌগিক অণুবীক্ষণ যন্ত্রে পেঁয়াজের কন্দপত্রের ত্বকের কোষ (উদ্ভিদকোষ) পর্যবেক্ষণ
- প্রশ্ন ১: উদ্ভিদকোষ ও প্রাণিকোষের প্রধান পার্থক্য কী?
উত্তর: উদ্ভিদকোষে কোষপ্রাচীর, প্লাস্টিড ও বড় কোষগহ্বর থাকে; প্রাণিকোষে কোষপ্রাচীর নেই, সেন্ট্রিওল থাকে, কোষগহ্বর ছোট। - প্রশ্ন ২: স্যাফ্রানিন কেন ব্যবহার করা হয়?
উত্তর: কোষপ্রাচীর ও নিউক্লিয়াসকে লালচে রঙে রঞ্জিত করে স্পষ্ট দেখানোর জন্য। - প্রশ্ন ৩: গ্লিসারিন কেন দেওয়া হয়?
উত্তর: নমুনা যাতে তাড়াতাড়ি শুকিয়ে না যায় এবং স্বচ্ছ দেখায়। - প্রশ্ন ৪: পেঁয়াজের কোষে ক্লোরোপ্লাস্ট নেই কেন?
উত্তর: কন্দপত্র মাটির নিচে থাকে, আলো পায় না, তাই সালোকসংশ্লেষণ করে না। - প্রশ্ন ৫: অণুবীক্ষণ যন্ত্রের মোট বিবর্ধন কীভাবে বের করো?
উত্তর: অভিনেত্রের বিবর্ধন × অভিলক্ষ্যের বিবর্ধন। যেমন 10× × 40× = 400×। - প্রশ্ন ৬: কোষপ্রাচীর কী দিয়ে তৈরি?
উত্তর: প্রধানত সেলুলোজ দিয়ে। - প্রশ্ন ৭: কোষের প্রাণকেন্দ্র কাকে বলে?
উত্তর: নিউক্লিয়াসকে, কারণ এটি কোষের সব কাজ নিয়ন্ত্রণ করে এবং বংশগতির উপাদান বহন করে।
২. পেঁয়াজের মূলের অগ্রভাগে মাইটোসিস কোষ বিভাজনের বিভিন্ন ধাপ পর্যবেক্ষণ
- প্রশ্ন ১: মাইটোসিস কাকে বলে?
উত্তর: যে কোষ বিভাজনে মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস একবার বিভাজিত হয়ে সমান সংখ্যক ক্রোমোসোমযুক্ত দুটি অপত্য নিউক্লিয়াস তৈরি করে, তাকে মাইটোসিস বলে। - প্রশ্ন ২: মাইটোসিস কোথায় হয়?
উত্তর: দেহকোষে, যেমন মূল ও কাণ্ডের অগ্রভাগের ভাজক টিস্যুতে, ভ্রূণে ও ক্ষত সারার সময়। - প্রশ্ন ৩: ক্রোমোসোম সবচেয়ে স্পষ্ট দেখা যায় কোন ধাপে?
উত্তর: মেটাফেজ ধাপে, কারণ তখন এরা সবচেয়ে খাটো ও মোটা থাকে। - প্রশ্ন ৪: HCl কেন ব্যবহার করা হয়?
উত্তর: কোষগুলোর মধ্যবর্তী পর্দা (মধ্যপর্দা) গলিয়ে কোষ আলাদা ও নরম করার জন্য। - প্রশ্ন ৫: ফিক্সেশন কেন করা হয়?
উত্তর: কোষের বিভাজন যে অবস্থায় আছে সেই অবস্থায় থামিয়ে রাখার জন্য। - প্রশ্ন ৬: ইন্টারফেজ কী?
উত্তর: দুটি বিভাজনের মাঝের সময়, যখন DNA-র প্রতিলিপন হয়; একে বিভাজনের প্রস্তুতি দশা বলে। - প্রশ্ন ৭: মাইটোসিসের গুরুত্ব কী?
উত্তর: বৃদ্ধি, ক্ষতস্থান পূরণ, অযৌন জনন এবং প্রজাতির ক্রোমোসোম সংখ্যা স্থির রাখা।
৩. সালোকসংশ্লেষণে আলো প্রয়োজন: পাতায় শ্বেতসারের উপস্থিতি পরীক্ষা
- প্রশ্ন ১: গাছকে অন্ধকারে রাখা হয় কেন?
উত্তর: পাতায় আগে থেকে জমা শ্বেতসার শেষ করার জন্য, যাতে নতুন তৈরি শ্বেতসারই পরীক্ষায় ধরা পড়ে। - প্রশ্ন ২: পাতা পানিতে সেদ্ধ করা হয় কেন?
উত্তর: কোষ মেরে ফেলে কোষপ্রাচীর নরম করার জন্য, যাতে অ্যালকোহল ও আয়োডিন সহজে ঢুকতে পারে। - প্রশ্ন ৩: অ্যালকোহলে গরম করা হয় কেন?
উত্তর: ক্লোরোফিল সরিয়ে পাতা বর্ণহীন করার জন্য, নইলে আয়োডিনের রং বোঝা যায় না। - প্রশ্ন ৪: শ্বেতসার শনাক্ত করার বিকারক কী?
উত্তর: আয়োডিন দ্রবণ; শ্বেতসার থাকলে নীল-কালো রং হয়। - প্রশ্ন ৫: সালোকসংশ্লেষণের জন্য কী কী লাগে?
উত্তর: আলো, ক্লোরোফিল, কার্বন ডাইঅক্সাইড ও পানি। - প্রশ্ন ৬: সালোকসংশ্লেষণে কোন গ্যাস বের হয়?
উত্তর: অক্সিজেন।
৪. আলুর অসমোমিটারের সাহায্যে অভিস্রবণ প্রক্রিয়া প্রদর্শন
- প্রশ্ন ১: অভিস্রবণ কাকে বলে?
উত্তর: অর্ধভেদ্য পর্দার মধ্য দিয়ে দ্রাবকের কম ঘন দ্রবণ থেকে বেশি ঘন দ্রবণের দিকে যাওয়াকে অভিস্রবণ বলে। - প্রশ্ন ২: ব্যাপন ও অভিস্রবণের পার্থক্য কী?
উত্তর: ব্যাপনে পর্দা লাগে না এবং দ্রব-দ্রাবক দুটিই চলে; অভিস্রবণে অর্ধভেদ্য পর্দা লাগে এবং শুধু দ্রাবক চলে। - প্রশ্ন ৩: সেদ্ধ আলু দিয়ে পরীক্ষা করলে কী হবে?
উত্তর: কোষ মরে যাওয়ায় পর্দা অর্ধভেদ্য থাকে না, তাই অভিস্রবণ হবে না। - প্রশ্ন ৪: উদ্ভিদের জীবনে অভিস্রবণের গুরুত্ব কী?
উত্তর: মূলরোম দিয়ে মাটি থেকে পানি শোষণ, কোষের রসস্ফীতি বজায় রাখা এবং পত্ররন্ধ্র খোলা-বন্ধ হওয়া। - প্রশ্ন ৫: লবণ দিলে শাক নেতিয়ে যায় কেন?
উত্তর: বাইরের দ্রবণ বেশি ঘন হওয়ায় কোষ থেকে পানি বের হয়ে যায় (বহিঃঅভিস্রবণ)।
৫. খাদ্যে শ্বেতসার, গ্লুকোজ, আমিষ ও স্নেহ পদার্থের উপস্থিতি পরীক্ষা
- প্রশ্ন ১: বেনেডিক্ট দ্রবণে কী থাকে?
উত্তর: কপার সালফেট, সোডিয়াম সাইট্রেট ও সোডিয়াম কার্বনেট। - প্রশ্ন ২: ইটের মতো লাল অধঃক্ষেপটি কী?
উত্তর: কিউপ্রাস অক্সাইড (Cu₂O)। - প্রশ্ন ৩: বাইউরেট পরীক্ষায় বেগুনি রং কেন হয়?
উত্তর: আমিষের পেপটাইড বন্ধন ক্ষারীয় মাধ্যমে Cu²⁺ আয়নের সাথে বেগুনি জটিল যৌগ তৈরি করে। - প্রশ্ন ৪: শর্করার প্রধান কাজ কী?
উত্তর: দেহে শক্তি সরবরাহ করা। - প্রশ্ন ৫: সুক্রোজ বেনেডিক্ট পরীক্ষা দেয় কি?
উত্তর: না, সুক্রোজ অবিজারক শর্করা; আগে এসিড দিয়ে আর্দ্রবিশ্লেষণ করলে দেয়। - প্রশ্ন ৬: স্নেহ পদার্থের পানির দাগ থেকে পার্থক্য কী?
উত্তর: পানির দাগ শুকালে চলে যায়, স্নেহের দাগ স্থায়ী ও স্বচ্ছ থাকে।
৬. পাতার মাধ্যমে প্রস্বেদন প্রদর্শন (পলিথিন ব্যাগ ও কোবাল্ট ক্লোরাইড কাগজ পদ্ধতি)
- প্রশ্ন ১: প্রস্বেদন কাকে বলে?
উত্তর: উদ্ভিদের বায়বীয় অঙ্গ থেকে জলীয় বাষ্প আকারে পানি বের হওয়ার প্রক্রিয়াকে প্রস্বেদন বলে। - প্রশ্ন ২: প্রস্বেদন কত প্রকার?
উত্তর: তিন প্রকার: পত্ররন্ধ্রীয়, কিউটিকুলার ও লেন্টিসেলীয়। - প্রশ্ন ৩: প্রস্বেদনকে প্রয়োজনীয় অমঙ্গল বলা হয় কেন?
উত্তর: এতে পানি নষ্ট হয় (অমঙ্গল), আবার পানি ও খনিজ ওপরে টানা এবং পাতা ঠান্ডা রাখার জন্য এটি দরকার (প্রয়োজনীয়)। - প্রশ্ন ৪: কোন কোন বিষয় প্রস্বেদন বাড়ায়?
উত্তর: বেশি তাপমাত্রা, তীব্র আলো, বাতাসের প্রবাহ এবং কম আর্দ্রতা। - প্রশ্ন ৫: মাটি পলিথিনে ঢাকা হয় কেন?
উত্তর: মাটি থেকে বাষ্পীভূত পানি যাতে ফলাফলকে ভুল না করে।
Online Model Test · https://onlinemodeltest.com/practical