HSC · রসায়ন (১ম ও ২য় পত্র) · ২য় পত্র, অধ্যায় ৩: পরিমাণগত রসায়ন
প্রমাণ অক্সালিক এসিড দ্রবণের সাহায্যে KMnO₄ দ্রবণের ঘনমাত্রা নির্ণয় (জারণ-বিজারণ টাইট্রেশন)
🎯 উদ্দেশ্য
অম্লীয় মাধ্যমে উষ্ণ অক্সালিক এসিড দিয়ে KMnO₄ টাইট্রেশন করে তার মোলারিটি বের করা।
📖 তত্ত্ব ও সূত্র
অম্লীয় মাধ্যমে KMnO₄ শক্তিশালী জারক; MnO₄⁻ (বেগুনি) বিজারিত হয়ে Mn²⁺ (প্রায় বর্ণহীন) হয়। KMnO₄ নিজেই নির্দেশক (স্বনির্দেশক): শেষ বিন্দুতে এক ফোঁটা বাড়তি KMnO₄ দ্রবণকে হালকা গোলাপি করে।
- 2KMnO₄ + 5H₂C₂O₄ + 3H₂SO₄ → K₂SO₄ + 2MnSO₄ + 10CO₂ + 8H₂O
- 5 × M_KMnO₄ × V_KMnO₄ = 2 × M_অক্সালিক × V_অক্সালিক
🧰 প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও উপকরণ
- ব্যুরেট, পিপেট (10 mL), কনিক্যাল ফ্লাস্ক
- থার্মোমিটার ও তারজালি-বার্নার
- 0.05 M অক্সালিক এসিড দ্রবণ
- অজানা ঘনমাত্রার KMnO₄
- লঘু H₂SO₄
🧪 কার্যপদ্ধতি: ধাপে ধাপে
- ১ ব্যুরেটে KMnO₄ নাও (গাঢ় রঙের জন্য অবতল তলের ওপরের কিনারা পড়বে)।
- ২ কনিক্যাল ফ্লাস্কে 10 mL অক্সালিক এসিড ও প্রায় 10 mL লঘু H₂SO₄ নাও।
- ৩ মিশ্রণ 60–70°C পর্যন্ত গরম করো (ফোটাবে না)।
- ৪ ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে ব্যুরেট থেকে KMnO₄ দাও; প্রথম দিকে রং ধীরে যায়, পরে দ্রুত।
- ৫ যে ফোঁটায় হালকা গোলাপি রং ৩০ সেকেন্ড স্থায়ী হয়, সেখানে থেমে পাঠ নাও। সমপাতী পাঠ পর্যন্ত করো।
⚠️ সতর্কতা
- অক্সালিক এসিড 60–70°C-এ গরম করবে, ফোটালে ভেঙে যায়।
- H₂SO₄ পর্যাপ্ত দেবে, কম হলে বাদামি MnO₂ অধঃক্ষেপ পড়ে।
- HCl বা HNO₃ দিয়ে অম্লীয় করবে না।
- ব্যুরেটে KMnO₄-এর ওপরের কিনারা পড়বে।
📝 খাতায় যেভাবে লিখবে
নিচের ছক ও হিসাব নমুনা পাঠ দিয়ে করা। নিজের পরীক্ষণে যে পাঠ পাবে সেটাই লিখবে, হিসাবের ধাপ একই থাকবে।
📊 পর্যবেক্ষণ ও উপাত্ত ছক
টাইট্রেশনের ছক (পিপেটে 10 mL 0.05 M অক্সালিক এসিড)
| নং | প্রাথমিক পাঠ (mL) | চূড়ান্ত পাঠ (mL) | ব্যবহৃত KMnO₄ (mL) | সমপাতী পাঠ (mL) |
|---|---|---|---|---|
| ১ | 0.00 | 10.20 | 10.20 | 10.10 |
| ২ | 10.20 | 20.30 | 10.10 | |
| ৩ | 20.30 | 30.40 | 10.10 |
🧮 হিসাব
- 5 × M_KMnO₄ × 10.10 = 2 × 0.05 × 10
- M_KMnO₄ = 1.0 / 50.5 = 0.0198 M
✅ ফলাফল
KMnO₄ দ্রবণের ঘনমাত্রা 0.0198 M (প্রায় 0.02 M)।
✍️ খাতা লেখার ক্রম
- প্রতিটি পরীক্ষণ নতুন পাতায় শুরু করো: ওপরে পরীক্ষণ নং, তারিখ আর পরীক্ষণের নাম।
- ক্রম: পরীক্ষণের নাম → তত্ত্ব ও সূত্র → যন্ত্রপাতি → কার্যপদ্ধতি → পর্যবেক্ষণ ও উপাত্ত ছক → হিসাব → ফলাফল → সতর্কতা।
- ডান পাতায় লেখা, বাম পাতায় পেন্সিলে চিহ্নিত চিত্র আর ছক (অনেক প্রতিষ্ঠানে এভাবেই চায়)।
- ছকের প্রতিটি কলামে একক লেখো, যেমন cm, s, mL।
- ফলাফল এক লাইনে, এককসহ, বক্স করে লেখো।
🎤 ভাইভায় যা জিজ্ঞেস করে
প্রশ্ন শুনে আগে মুখে উত্তর দাও, তারপর উত্তর মিলিয়ে নাও। মক টেস্টে প্রশ্ন পড়ে শোনানো হবে, তুমি বলবে, তোমার কথা লেখা হয়ে উত্তরের সাথে মেলানো হবে।
-
১
KMnO₄-কে স্বনির্দেশক বলা হয় কেন?
উত্তর দেখো
এর বেগুনি রং বিক্রিয়ায় বর্ণহীন হয়ে যায়, আর শেষ বিন্দুতে এক ফোঁটা বাড়তি KMnO₄ নিজেই গোলাপি রং দেখায়, আলাদা নির্দেশক লাগে না।
-
২
মিশ্রণ গরম করা হয় কেন?
উত্তর দেখো
ঘরের তাপমাত্রায় বিক্রিয়া ধীর; 60–70°C-এ দ্রুত হয়।
-
৩
HCl দিয়ে অম্লীয় করা যায় না কেন?
উত্তর দেখো
KMnO₄ HCl-কে জারিত করে Cl₂ তৈরি করে, ফলে বেশি KMnO₄ খরচ হয় ও ভুল ফল আসে।
-
৪
প্রথমে রং ধীরে চলে যায়, পরে দ্রুত কেন?
উত্তর দেখো
উৎপন্ন Mn²⁺ আয়ন বিক্রিয়ার প্রভাবক হিসেবে কাজ করে (স্বপ্রভাবন)।
-
৫
এই বিক্রিয়ায় জারক ও বিজারক কোনটি?
উত্তর দেখো
KMnO₄ জারক, অক্সালিক এসিড বিজারক।
-
৬
অম্লীয় মাধ্যমে Mn-এর জারণ সংখ্যা কত থেকে কত হয়?
উত্তর দেখো
+7 থেকে +2।
✅ নিজেকে যাচাই করো
উত্তর চাপলেই ঠিক-ভুল আর ব্যাখ্যা দেখাবে। 🎤 চেপে মুখে "ক", "খ" বলেও উত্তর দেওয়া যায়।
১. অম্লীয় মাধ্যমে MnO₄⁻ বিজারিত হয়ে হয়—
২. এই টাইট্রেশনে ব্যবহৃত এসিড—
৩. KMnO₄ ও অক্সালিক এসিডের মোল অনুপাত—
৪. শেষ বিন্দুতে দ্রবণের রং—
লগইন করো বা ফ্রি অ্যাকাউন্ট খোলো, তাহলে কুইজের ফল আর কয়েন তোমার অ্যাকাউন্টে জমা থাকবে।
ভার্চুয়াল ল্যাব: টাইট্রেশন (ব্যুরেট)
স্টপকক খুলে ফোঁটা ফেলো, রং বদলালেই থামো, ব্যুরেটের পাঠ নাও
ল্যাব চালু হচ্ছে…
ছবিটি আসল যন্ত্রের মতো করে আঁকা; প্রতিবার "🔄 নতুন" চাপলে নতুন বস্তু ও নতুন পাঠ আসে। স্কেল বড় করে দেখতে আঙুল দিয়ে ছবিতে চাপো (🔍)।
ক্লাসের বন্ধুদের পাঠাও
শেষ যাচাই: ৬ নভেম্বর ২০২৬। বইয়ের সাথে না মিললে "⚑ ভুল রিপোর্ট" চাপো; যাচাই করে ঠিক করা হবে।