উত্তর: ক) আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে গতির পরিবর্তন এবং বলের গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। নিউটনের গতির সূত্রানুসারে, কোনো বস্তুর গতির অবস্থা পরিবর্তন করতে হলে অবশ্যই বাহ্যিক বল প্রয়োগ করতে হয়। নিচে এর কয়েকটি প্রভাব বর্ণনা করা হলো: স্থির বস্তুকে গতিশীল করা: আমাদের চারপাশের অনেক বস্তু স্থির থাকে, যেমন-মাঠে পড়ে থাকা একটি ফুটবল বা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা রিকশা। যখন একজন খেলোয়াড় ফুটবলে কিক করেন বা রিকশাচালক প্যাডেল মারেন, তখন পেশিজ বল প্রয়োগের ফলে স্থির বস্তুটি গতিশীল হয়। বেগের মান পরিবর্তন: কোনো চলন্ত বস্তুর গতির দিকে আরও বল প্রয়োগ করলে তার বেগ বেড়ে যায়। যেমন-সাইকেল চালানোর সময় জোরে প্যাডেল মারলে সাইকেলের গতি বৃদ্ধি পায়। আবার গতির বিপরীতে বল প্রয়োগ করলে বেগ কমে যায়, যেমন-গাড়িতে ব্রেক কষলে চাকার ঘর্ষণ বল গাড়িটিকে থামিয়ে দেয়। গতির দিক পরিবর্তন: বল প্রয়োগ করে চলন্ত বস্তুর দিক পরিবর্তন করা যায়। ক্রিকেট খেলায় বোলার যখন বল ছোড়েন, তখন ব্যাটসম্যান ব্যাটের মাধ্যমে বল প্রয়োগ করে বলের দিক পরিবর্তন করে চার বা ছক্কা মারেন। জড়তা কাটিয়ে তোলা: স্থির বস্তু চিরকাল স্থির থাকতে চায়, একে স্থির জড়তা বলে। এই জড়তা কাটিয়ে তাকে স্থানান্তরিত করতে বলের প্রয়োজন অপরিহার্য।
খ) বল প্রয়োগের ধরন: আমরা প্রধানত দুইভাবে বল প্রয়োগ করি—ধাক্কা (যেমন: দরজা ঠেলে খোলা, ফুটবলে কিক) ও টান (যেমন: দড়ি টেনে বালতি তোলা, ড্রয়ার টেনে খোলা)।
বল প্রয়োগের প্রভাব:
• স্থির বস্তু গতিশীল হয় (যেমন: স্থির বল কিক করলে চলতে শুরু করে)।
• গতিশীল বস্তুর গতি বাড়ে, কমে বা থেমে যায় (যেমন: জোরে প্যাডেল মারলে সাইকেলের গতি বাড়ে, ব্রেক কষলে থামে)।
• চলন্ত বস্তুর দিক পরিবর্তন হয় (যেমন: ব্যাট দিয়ে আঘাত করলে ক্রিকেট বলের দিক বদলায়)।
• বস্তুর আকার পরিবর্তন হতে পারে (যেমন: কাদামাটি চাপ দিলে বা স্পঞ্জ চেপে ধরলে আকার বদলায়)।