সৃজনশীল (CQ)
১. রহিমা খাতুন নিজের বাসগৃহে প্রতিবেশী নিরক্ষর মহিলাদের অক্ষরজ্ঞান দিতে শুরু করেন। বেতন ছাড়াই তিনি এ কাজ করেন। ঈদের কেনাকাটা থেকে কিছু টাকা বাঁচিয়ে রহিমা সবচেয়ে গরিব ও লেখাপড়ায় আগ্রহী মহিলাকে পুরস্কার দেন। এতে উৎসাহী হয়ে শিক্ষার্থী বাড়তে থাকে। নিজের ছোট গণ্ডির মধ্যে দায়িত্ববোধ ও মানবসেবার লক্ষ্যে তিনি এই মহৎ কাজ চালিয়ে যান।
- ক) সেবা কাজের জন্য মাদার তেরেসার প্রাপ্ত শ্রেষ্ঠ সম্মাননা কোনটি?১
- খ) মাদার তেরেসা গাউন ছেড়ে শাড়ি পরেছিলেন কেন?২
- গ) উদ্দীপকের রহিমা খাতুনের টাকা বাঁচানোর কাজটিতে মাদার তেরেসার যে ঘটনার প্রতিফলন ঘটেছে তা বর্ণনা দাও।৩
- ঘ) 'উদ্দীপকের রহিমা খাতুনের চেয়ে মাদার তেরেসার সেবামূলক কাজের পরিধি ছিল ব্যাপক কিন্তু তাদের লক্ষ্য অভিন্ন।'— কথাটির যথার্থতা মূল্যায়ন কর।৪
উত্তর দেখুন
ক) মাদার তেরেসার সেবাকাজের জন্য প্রাপ্ত শ্রেষ্ঠ সম্মাননা হলো নোবেল শান্তি পুরস্কার।
খ) মাদার তেরেসা গাউন ছেড়ে শাড়ি পরেছিলেন কারণ, তিনি সম্পূর্ণভাবে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চেয়েছিলেন। শাড়ি ছিল সাধারণ বাঙালি নারীদের পোশাক, বিশেষ করে দরিদ্র নারীদের। দরিদ্র মানুষের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করার জন্য এবং তাদের আরও কাছে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে তিনি গাউন ছেড়ে সাদা শাড়ি পরা শুরু করেন, যার পাড় ছিল নীল। এছাড়া, তিনি খুবই সাধারণ জীবনযাপন করতেন-তার কখনো তিনটির বেশি শাড়ি ছিল না, যা তিনি প্রয়োজন অনুযায়ী পরতেন ও ব্যবহার করতেন।
গ) উদ্দীপকের রহিমা খাতুনের টাকা বাঁচিয়ে গরিব ও আগ্রহী মহিলাদের পুরস্কার দেওয়ার কাজে মাদার তেরেসার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার প্রতিফলন পাওয়া যায়। মাদার তেরেসা তাঁর স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে মানবসেবার অনুপ্রেরণা জাগানোর জন্য সেবার আগ্রহ জাগাতে চেষ্টা করতেন। তিনি নিজেও খুব সাধারণ জীবনযাপন করতেন এবং কখনো নিজের জন্য কোনো অর্থ ব্যয় করতেন না। এমনকি নোবেল পুরস্কারের অর্থও তিনি দুঃখী-দরিদ্র মানুষের সেবায় দান করেছিলেন। রহিমা খাতুনের ঈদের কেনাকাটা থেকে টাকা বাঁচিয়ে শিক্ষার্থীদের পুরস্কার দেওয়ার বিষয়টি মাদার তেরেসার এই দানশীলতা ও মানবসেবার চেতনারই প্রতিফলন ঘটায়। দুজনই নিজেদের আরামের কথা না ভেবে, অর্থের সঠিক ব্যবহার করে মানবকল্যাণে কাজ করেছেন।
ঘ) উদ্দীপকের রহিমা খাতুনের সেবামূলক কাজ এবং মাদার তেরেসার কাজের মধ্যে মূল পার্থক্য তাদের কর্মপরিধিতে। মাদার তেরেসার সেবার ক্ষেত্র ছিল আন্তর্জাতিক পর্যায়ের, যেখানে তিনি শুধু ভারতের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্যই কাজ করেননি, বরং সারা বিশ্বে মানবসেবার বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি কুষ্ঠরোগী, অনাথ শিশু, অসুস্থ ও অসহায় মানুষদের জন্য হাসপাতাল, আশ্রয়কেন্দ্র এবং সেবামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। অন্যদিকে, রহিমা খাতুনের কাজ ছিল স্থানীয় পর্যায়ের, যেখানে তিনি তার নিজ এলাকার নিরক্ষর নারীদের শিক্ষার আলো পৌঁছে দিচ্ছিলেন এবং নিজের অর্থ সাশ্রয় করে গরিব ও আগ্রহী শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করছিলেন। তবে পরিধি ভিন্ন হলেও তাদের লক্ষ্য ছিল অভিন্ন—মানবসেবা। মাদার তেরেসা ধর্ম, জাতি বা বর্ণভেদ ভুলে দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে আপন করে নিয়েছিলেন। তিনি শুধুমাত্র সেবাদানই করেননি, বরং আরও অনেককে এই মহৎ কাজে যুক্ত করেছেন। একইভাবে, রহিমা খাতুনও বিনা পারিশ্রমিকে নারীদের শিক্ষার সুযোগ করে দিচ্ছেন এবং তাদের মধ্যে শিক্ষার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করছেন। এতে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে, যা মাদার তেরেসার সেবার আদর্শের প্রতিফলন। তাই বলা যায়, মাদার তেরেসার কাজের পরিধি ব্যাপক হলেও দুজনের লক্ষ্য অভিন্ন—কথাটি যথার্থ।