Online Model Test Online Model Test
৯০%

ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলা ১ম পত্র ২০শ অধ্যায়: আনন্দপাঠ: আলাউদ্দিনের চেরাগ

ষষ্ঠ শ্রেণি Bangla 1st Paper Chapter 20 · MCQ, CQ ও বোর্ড প্রশ্ন উত্তরসহ

সৃজনশীল সংক্ষিপ্ত

এই অধ্যায়ের কয়েকটি প্রশ্ন

সৃজনশীল (CQ)
১. কিশোর অন্তু ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। দেখতে সুন্দর এবং পড়াশোনাতেও ভালো। কিন্তু একদিন তাকে গ্রামের কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরের দিন সকালে তাকে দেখা গেল বড় তেতুল গাছের মগডালে। তাকে দেখে সবাই তো তাজ্জব। গ্রামের দক্ষ গেছো লাল মিয়ার মাধ্যমে তাকে গাছ থেকে নামানো হয়। তার ভাবভঙ্গি দেখে গ্রামের ছেলে-বুড়ো সবাই হাঁ করে তাকিয়ে থাকে। সে সবাইকে জানায়, তাকে পরিরা নিয়ে গিয়েছিল। সে বন্ধুদের পরির দেশের সুন্দর সুন্দর গল্প বলে। এক পরি তাকে অনেক সোনা-দানা, হীরা-মুক্তা দিতে চেয়েছিল। কিন্তু সে তা গ্রহণ না করে লাটিম ও ক্রিকেট খেলার লোভে আবার গ্রামে চলে এসেছে। তার কাছে পরির দেশের বালাখানার চেয়ে গ্রামের খেলাধুলাই ভালো।
  1. ক) নিশানাথ বাবুর দুটো চোখে কী পড়েছে?১
  2. খ) 'তারপর তার মনে হলো—এটা স্বপ্ন ছাড়া কিছুই নয়'—কে কোন প্রসঙ্গে বলেছে? ব্যাখ্যা কর।২
  3. গ) উদ্দীপকের কিশোর অন্তুর মধ্যে 'আলাউদ্দিনের চেরাগ' গল্পের নিশানাথ বাবুর কোন বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে আলোচনা কর।৩
  4. ঘ) "সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকটিতে 'আলাউদ্দিনের চেরাগ' গল্পের মৌলভাব অনুপস্থিত"—মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।৪
উত্তর দেখুন
ক) নিশানাথ বাবুর দুটো চোখে ছানি পড়েছে।
খ) চেরাগের দৈত্য চটির পেরেক ঠিক করে দিয়ে ধোঁয়া হয়ে চেরাগে ঢুকে যাওয়ার পর স্তম্ভিত নিশানাথবাবুর মনে হয়েছে—এটা স্বপ্ন ছাড়া কিছুই নয়। গল্পে দেখা যায়, নিশানাথ বাবু তার চটি জুতার পেরেক ঠিক করার জন্য লম্বা একটা জিনিস দিয়ে বাড়ি মারে। জুতায় আঘাত করার সাথে সাথে কালো ধোঁয়ায় ঘর ভরে গিয়ে এক দৈত্যের আগমন ঘটে। তাকে দেখে স্কুলশিক্ষক ভয় পায় এবং তার পরিচয় জানতে চায়। দৈত্য জানায়, সে আলাউদ্দিনের চেরাগ, তাকে যা হুকুম করা হয় তাই সে নিয়ে আসতে বাধ্য। দৈত্যের হাবভাব, বড় দুটো শিং এবং কথা শুনে নিশানাথ বাবুর কাছে অলীক কল্পনা মনে হয়। আবার দৈত্য যখন চেরাগের মধ্যে ঢোকে, তখন নিশানাথ বাবুর মনে হয়েছে এটা স্বপ্ন ছাড়া কিছুই না।
গ) উদ্দীপকের কিশোর অন্তুর মধ্যে 'আলাউদ্দিনের চেরাগ' গল্পের নিশানাথ বাবুর নির্লোভ ও সরলতার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে। মানব চরিত্রের অন্যতম ভূষণ হলো নির্লোভ মানসিকতা ও সরলতা। সমাজে যেমন কুটিল এবং লোভী মানুষ আছে; তেমনি লোভহীন সরল মানুষও আছে। শত প্রলোভন এবং পরের অর্থসম্পদ তাদেরকে আকৃষ্ট করে না। নিজের যা আছে, তাই নিয়ে তারা সন্তুষ্ট থাকে। জীবনের দুঃখ-কষ্ট সবকিছুকে তারা সহজভাবে গ্রহণ করে। উদ্দীপকের কিশোর অন্তু একবার ঘটনাক্রমে পরির দেশে যায়। পরিরা তাকে অনেক সুযোগ-সুবিধা এবং সোনাদানা দিতে চায়। কিন্তু সরল অন্তু তাদের সোনাদানা-বালাখানা না নিয়ে নিজের গ্রামের খেলাধুলায় সন্তুষ্ট থেকেছে। 'আলাউদ্দিনের চেরাগ' গল্পে অঙ্ক শিক্ষক নিশানাথ বাবুর নির্লোভ চেতনা, সরলতা এবং মনুষ্যত্ববোধ প্রকাশ পেয়েছে। চেরাগের দৈত্য মাস্টার বাবুর দারিদ্র্য দূর করতে, চিকিৎসার জন্য টাকাণ্ডপয়সা এমনকি প্রচুর অর্থ-সম্পদ দিতে চেয়েছে। কিন্তু নিশানাথ বাবু অর্থসম্পদের দিকে দৃষ্টি না দিয়ে তার নষ্ট জুতা সেরে দিতে বলেছেন। আবার পরশ পাথরের স্পর্শে লোহার বালতি সোনার বালতি হলেও তা তিনি নিজের স্কুলে দিয়ে দেন। মূলত নিশানাথ বাবুর এই নির্লোভ মানসিকতা এবং সরলতা উদ্দীপকের অন্তুর মধ্যেও লক্ষণীয়।
ঘ) 'সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকটিতে 'আলাউদ্দিনের চেরাগ' গল্পের মৌলভাব অনুপস্থিত'—মন্তব্যটি যথার্থ। সমাজে ভালো-মন্দ, লোভী-নির্লোভ, স্বার্থপর-পরার্থপর বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ বসবাস করে। সমাজের অনেক ব্যক্তি আছেন, যারা দারিদ্র, ক্ষুধা এবং রোগ-শোককে জীবনেরই অংশ মনে করেন। নানা প্রলোভনও ওই সকল ব্যক্তির পদস্খলন ঘটাতে পারে না। শত দুঃখ-কষ্টের মধ্যেও তারা নির্লোভ চেতনা ধারণ করে এবং মানবসেবায় নিয়োজিত থাকে। উদ্দীপকের অন্তুকে একবার ভিনদেশি পরিরা তাদের দেশে নিয়ে যায়। সেখানে অন্তুকে সুন্দর খাবার, সোনাদানা ইত্যাদি দেওয়া হয়। কিন্তু নির্লোভ ও সরল অন্তু তার শৈশবের লাটিম এবং ক্রিকেট খেলাকে বেশি পছন্দ করে। আর এ জন্য সে পরির দেশ থেকে নিজের গ্রামে চলে আসে। গল্পে নিশানাথ বাবুর মনুষ্যত্ব, নির্লোভ চেতনা এবং সহজ-সরল জীবনভাবনা ফুটে উঠেছে। আলাউদ্দিনের চেরাগের দৈত্য মাস্টার বাবুকে অনেক সোনাদানা দিতে চাইলেও দরিদ্র নিশানাথ তার ন্যায়পথ থেকে সরে যাননি। তার কর্মে এবং লোভহীন মানসিকতায় খুশি হয়ে দৈত্য তাকে একটি পরশপাথর দেয়। পরশপাথরের সাহায্যে লোহার বালতি সোনার বালতি হলে তা তিনি নিজের স্কুলের উন্নয়নে দান করেন। উপযুক্ত বিশ্লেষণ থেকে দেখা যায়, 'আলাউদ্দিনের চেরাগ' গল্পের মূলভাব হলো নিশানাথ বাবুর মনুষ্যত্ব এবং নির্লোভ চেতনা। কিন্তু উদ্দীপকে শুধু কিশোর অন্তুর কৈশোরিক চাওয়া-পাওয়া ফুটে উঠেছে। তাই বলা যায়, সরলতার বিষয়ে সাদৃশ্য থাকলেও গল্পের মূলভাব উদ্দীপকে অনুপস্থিত।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
২. ক. নিশানাথবাবুর জীবনে সবচেয়ে বড় কষ্ট কী ছিল? এবং তিনি কেন তা সহ্য করে যাচ্ছিলেন? খ. নিশানাথবাবু প্রথম আলাউদ্দিনের চেরাগের দৈত্যকে কীভাবে চিনতে পারলেন এবং তার প্রতিক্রিয়া কী ছিল?
উত্তর দেখুন
উত্তর: ক. নিশানাথবাবুর জীবনে সবচেয়ে বড় কষ্ট ছিল তার শারীরিক অসুস্থতা ও একাকিত্ব। দুই চোখেই ছানি পড়ায় তিনি প্রায় কিছুই দেখতে পারতেন না, ফলে তার দৈনন্দিন জীবনে অনেক অসুবিধা হচ্ছিল। তিনি নিজেই বলেন যে, তিনি এমন অনেক মানুষ দেখেছেন যারা তার থেকে অনেক বেশি কষ্টে আছে, এবং এই চিন্তা তাকে নিজের কষ্ট সহ্য করার শক্তি দেয়। পাশাপাশি, তার শরীরেও সমস্যা ছিল। বাতের ব্যথা তাকে ভোগাতো, এমনকি হাঁটাচলারও অসুবিধা হচ্ছিল। তিনি একাকী জীবন কাটাচ্ছিলেন, কারণ তার ছেলে-মেয়ে কেউ নেই। স্ত্রীর মৃত্যুর পর তিনি নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন। তার একমাত্র মেয়ে ছোটবেলায় টাইফয়েডে মারা গেছে। এসব কষ্ট সত্ত্বেও তিনি এইসব সহ্য করছিলেন, কারণ তার মনে ছিল যে তার চাইতে আরও অনেক মানুষ আছেন যারা তার থেকেও বেশি কষ্টে আছেন। এভাবে নিজেকে সান্ত্বনা দিয়ে তিনি সব কষ্ট সহ্য করছিলেন। এছাড়া, তিনি মনে করতেন যে তার জীবনের আর বেশিদিন বাঁচার সময় নেই, আর কিছুটা কষ্ট করলেই তো চলে যাবে, তাই খুব বেশি চিন্তা করতেন না। জীবন কাটাতে তিনি এত কষ্টে থেকেও যেন অল্প সময়ের জন্য শান্তি পেতে চেয়েছিলেন। খ. হাতুড়ি না পেয়ে নিশানাথবাবু জঞ্জালের ঝুড়িতে পাওয়া লম্বাটে পুরোনো চেরাগটি দিয়ে চটির পেরেকে বাড়ি দিতেই ঘর ধোঁয়ায় ভরে যায়। নিশানাথবাবু প্রথমে ভেবেছিলেন, হয়তো তার চোখের সমস্যার কারণে তাকে বিভ্রান্তি হচ্ছে, কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যে সেই ধোঁয়া কেটে যায় এবং একটি গম্ভীর গলায় কথা বলতে থাকা দৈত্যের কথা শোনেন। দৈত্য জানায়, সে আলাউদ্দিনের চেরাগের দৈত্য এবং নিশানাথবাবু যে চেরাগটি হাতে নিয়েছেন সেটিই সেই বিখ্যাত চেরাগ। নিশানাথবাবু যখন দৈত্যের বিশাল আকার এবং তার মাথায় দুটি শিং দেখতে পান, তখন তার মধ্যে সন্দেহ আর ভয় একসঙ্গে কাজ করতে থাকে। প্রথমে তিনি কাঁপা গলায় বলেন, 'কে? কে কথা বলে?' পরে ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করেন, 'বাবা তুমি কে?' তখন দৈত্য তার পরিচয় দেয়। নিশানাথবাবু দৈত্যের উপস্থিতি এবং গম্ভীর গলায় কথা বলার কারণে প্রথমে কিছুটা ভীত হয়ে পড়েন, তবে তার পরবর্তী প্রতিক্রিয়া ছিল অবাক হওয়া এবং বিস্মিত হওয়া। তিনি প্রথমে বিশ্বাস করতে পারেননি যে সত্যিই একটি দৈত্য তার সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। একটু পরে তাঁর ভয় কেটে যায়; তিনি দৈত্যের শিং দেখে বলেন "বিশ্রী দেখাচ্ছে"। দৈত্য চলে যাওয়ার পর তাঁর মনে হয়, পুরো ঘটনাটি স্বপ্ন ছাড়া কিছু নয়।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
৩. ক. চেরাগের দৈত্যের সঙ্গে নিশানাথবাবুর সম্পর্ক কেমন ছিল? খ. দৈত্য নিশানাথবাবুকে কোন সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল? নিশানাথবাবু তার প্রস্তাবে কী জবাব দিয়েছিলেন?
উত্তর দেখুন
উত্তর: ক. নিশানাথবাবু এবং চেরাগের দৈত্যের সম্পর্ক ছিল একদিকে অবিশ্বাস্য, তবে অন্যদিকে কিছুটা আস্থারও ছিল। প্রথমবার যখন দৈত্য তার সামনে হাজির হয়, তখন নিশানাথবাবু প্রচণ্ড ভয় পেয়ে যান এবং বিশ্বাস করতে চান না যে, সে আসলেই একটি দৈত্য। তবে দৈত্যের কথা এবং তার অদ্ভুত আচরণ থেকে নিশানাথবাবু বুঝতে পারেন যে, এই ঘটনা সত্যি। প্রথমে তিনি দৈত্যের উপস্থিতি নিয়ে সন্দিহান ছিলেন, কিন্তু কিছু সময় পরে দৈত্যের উপকারিতা এবং তার সেবা গ্রহণ করে তিনি তার সঙ্গে একটা সম্পর্ক তৈরি করেন। দৈত্য নিশানাথবাবুকে সাহায্য করতে চাইলেও, নিশানাথবাবু সবসময় তাকে কোনো কিছু প্রয়োজন ছিল না বলেই জানান। এভাবে, দৈত্যের সঙ্গে নিশানাথবাবুর সম্পর্ক ছিল এক ধরনের দ্বন্দ্বময়-অবিশ্বাসের পাশাপাশি, দৈত্যের সহায়তা গ্রহণে তিনি এক ধরনের অদ্ভুত নির্লোভ মনোভাবের পরিচয় দেন। তার প্রতি দৈত্যের আন্তরিকতা এবং সেবা তাকে কিছুটা অবাক করেছিল, তবে তিনি এই সাহায্য নেয়াতে সংকোচ বোধ করতেন। খ. দৈত্য নিশানাথবাবুকে অনেক ধরনের সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। প্রথমে, দৈত্য তাকে টাকার প্রস্তাব দেয়। সে বলে 'এক কলসি সোনার মোহর এনে আপনার খাটের নিচে রেখে দেব,' কিন্তু নিশানাথবাবু এতে আগ্রহী হননি। তিনি বলেন, 'এত টাকা দিয়ে আমি করব কী? কদিনই-বা বাঁচব।' এরপর দৈত্য তার কাছে আরও সুবিধা দিতে চায়—চিকিৎসা না করানোর কারণ জিজ্ঞেস করে টাকা এনে দিতে চায়, পরে নিজে থেকেই পরশপাথর এনে দেয় যা দিয়ে সোনা বানানো যায়। কিন্তু নিশানাথবাবু সবসময় একে এড়িয়ে চলেন। তিনি জানান যে তার কোনো কিছুই চাইতে ইচ্ছা নেই, কারণ তার জীবনের এখন অনেক কিছুই অপ্রয়োজনীয় এবং কোনো বিশাল ধনসম্পদ তার জন্য গুরুত্বহীন। দৈত্য কোনো কাজ চাইলে তিনি শুধু মশারিটা খাটিয়ে দিতে বলেন; দৈত্য মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিলে তিনি বলেন, 'আচ্ছা দাও।' এইভাবে, দৈত্য নানা সুবিধা দেওয়ার পরেও নিশানাথবাবু তার প্রস্তাবে তেমন আগ্রহ দেখাননি এবং সবসময় নিজেকে সরলভাবে রাখার চেষ্টা করেছেন।

এই অধ্যায়ের বাকি সব প্রশ্ন, পরীক্ষা আর প্রশ্নপত্র তৈরি অ্যাকাউন্ট খুললেই পাবেন।

⚑ এই প্রশ্নে কী সমস্যা?

একটা বেছে নিন, চাইলে দুই লাইন লিখুন। সাইট নিজে বইয়ের সাথে মিলিয়ে যাচাই করবে।

+ ঠিক উত্তরটা জানলে দিন (ঐচ্ছিক)

আপনার রিপোর্টে প্রশ্ন ঠিক হলে ২০ কয়েন উপহার। ফ্রি অ্যাকাউন্ট খুললে বা লগইন করলে কয়েন আপনার অ্যাকাউন্টে জমা হবে।