Online Model Test Online Model Test
৯০%

ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলা ১ম পত্র ২২শ অধ্যায়: আনন্দপাঠ: মামার বিয়ের বরযাত্রী

ষষ্ঠ শ্রেণি Bangla 1st Paper Chapter 22 · MCQ, CQ ও বোর্ড প্রশ্ন উত্তরসহ

সৃজনশীল সংক্ষিপ্ত

এই অধ্যায়ের কয়েকটি প্রশ্ন

সৃজনশীল (CQ)
১. অনিক, নয়ন ও শিমুল তিন বন্ধু পরামর্শ করে পরিবারের কাউকে না জানিয়ে তারা ট্রেনে করে দূরে কোথাও ঘুরে আসবে। যেই কথা সেই কাজ, যার কাছে যা টাকাণ্ডপয়সা জমা ছিল তা নিয়ে কাউকে না জানিয়ে খুব ভোরেই সবাই ট্রেন স্টেশনে উপস্থিত হলো। ট্রেনে উঠে বেশ আয়েশ করে বসতেই আধা ঘণ্টার মধ্যে চেকার এলে বেশ গচ্ছা দিয়েই তাদের আসন নিতে হলো। পাঁচ-সাতটা স্টেশনের পরেই তারা নেমে পড়ল। খিদেয় সবারই অবস্থা নাকাল। অচেনা জায়গা, অপরিচিত মানুষ কে তাদের খাবার দিবে, কে নিরাপত্তা দেবে। শেষ পর্যন্ত নিরূপায় হয়ে তারা পুলিশের আশ্রয় নিল। পুলিশের নানা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিদ্যালয়ের আইডি কার্ড জমা রেখে শেষ পর্যন্ত তারা নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছাল। ঝোঁকের বশে যে তাদের এমন অচেনা পথে যাত্রা করা উচিত হয়নি, তা খুব ভালোভাবেই বুঝতে পারল।
  1. ক) মামার বিয়ে ঠিক হয়েছিল কত তারিখে?১
  2. খ) চৌধুরী বাড়িতে মামা কেন ভাগনেকে চিনতে পারল না? বুঝিয়ে লেখ।২
  3. গ) উদ্দীপকের কিশোরদের ট্রেনে গচ্ছা দেওয়ার বিষয়টি 'মামার বিয়ের বরযাত্রী' গল্পের যে দিকটি নির্দেশ করে তা তুলে ধর।৩
  4. ঘ) ঝোঁকের বশে ট্রেনে যাত্রা করার কারণে উদ্দীপকের কিশোররা ও গল্পের কিশোর ফোকলা যে বিপত্তির সম্মুখীন হয়েছে, তা থেকে তুমি কী শিক্ষা লাভ কর? উপস্থাপন কর।৪
উত্তর দেখুন
ক) মামার বিয়ে ঠিক হয়েছিল সতেরো তারিখে।
খ) ভাগনে অর্থাৎ কিশোর ছেলেটি ভুল লাইনের ট্রেনে উঠে অন্য চৌধুরী বাড়ির বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ায় মামা ভাগনেকে চিনতে পারেনি। কিশোর ছেলেটি পরীক্ষার কারণে মেজো মামার বিয়েতে যেতে পারবে না বলে সরাসরি কনের বাড়িতে যাওয়ার পরিকল্পনা করে। কিন্তু তাড়াহুড়োর কারণে ঝোঁকের বশে ভুল লাইনের ট্রেনে উঠে যায়। কনের বাড়ির স্টেশনের নাম ও ঠিকানা না জানায় কাকতালীয়ভাবে মিলে যাওয়া অন্য চৌধুরী বাড়ির বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়। বরযাত্রী এলে দেখা গেল, বর তার মেজো মামাই নন—অন্য এক ব্যক্তি। তাই বর বলেন, "ও তো আমার ভাগনে নয়। আর একে তো আমি চিনিই না।"
গ) উদ্দীপকের কিশোরদের ট্রেনে গচ্ছা দেওয়ার বিষয়টি 'মামার বিয়ের বরযাত্রী' গল্পের মেজো মামার বিয়েতে অংশগ্রহণের জন্য যাত্রারত ভাগনের ট্রেনের চেকারকে আট আনা ফাইন দেওয়ার বিষয়টিকে নির্দেশ করে। ট্রেনে ভ্রমণের পূর্বে টিকিট না করলে জরিমানা দিতে হয়। এ বিষয়টি যাদের জানা নেই তাদের টিকিটের অতিরিক্ত টাকা ব্যয় হয়। তাই ট্রেনে ভ্রমণের পরিকল্পনা করলে যাত্রার পূর্বে টিকিট কেটে নেওয়া উচিত। উদ্দীপকে দেখা যায়, তিনজন কিশোর পরিবারের কাউকে না জানিয়ে ট্রেনে করে দূরে কোথাও ভ্রমণের পরিকল্পনা করে। ট্রেনে উঠে চেকার তাদের কাছে টিকিট না পাওয়ায় জরিমানা আদায় করে। কিশোরদের টিকিটের টাকার অধিক পরিমাণে টাকা গচ্ছা দিতে হয়। 'মামার বিয়ের বরযাত্রী' গল্পে কিশোরটি টিকিট না করেই ট্রেনে উঠে যায়। স্টেশনে পৌঁছে গাড়ি চলতে শুরু করেছে দেখে সে টিকিট না কেটেই লাফিয়ে ট্রেনে উঠে পড়ে। তাই চেকার টিকিট চাইলে তাকে আট আনা ফাইন দিয়ে টিকিট করে নিতে হয়। গল্পের এই দিকটি উদ্দীপকে প্রকাশ পেয়েছে।
ঘ) ঝোঁকের বশে ট্রেনে যাত্রা করার ফলে উদ্দীপকের কিশোররা ও গল্পের কিশোর ফোকলা যে বিপত্তির সম্মুখীন হয়েছে, আমি তা থেকে বুঝেছি যে বুঝে-শুনে কাজ করব; ঝোঁকের বশে নয়। কোনো কাজই ঝোঁকের বশে করা উচিত নয়। না জেনে অপরিকল্পিত যাত্রায় অনেক সময় অধিক পরিমাণে অর্থ গুনতে হয়। আবার নানা রকম সমস্যায় পড়তে হয়। উদ্দীপকের কিশোর তিন বন্ধু পরিবারের কাউকে না জানিয়ে ট্রেনে করে দূরে কোথাও যাওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। না জানার কারণে প্রথমেই তাদের ট্রেনের চেকারকে অধিক পরিমাণ টাকা গচ্ছা দিতে হয়। এরপর তারা ক্ষুধায় নাকাল হয়ে যায়, নিরাপত্তাহীনতায় পড়ে, অবশেষে পুলিশের সহায়তায় বাড়িতে ফিরে নিজেদের ভুল বুঝতে পারে। 'মামার বিয়ের বরযাত্রী' গল্পের কিশোরটি ঝোঁকের বশে তাড়াহুড়ো করে ভুল লাইনের ট্রেনে উঠে যায়। আগে থেকে টিকিট না কাটায় তাকে আট আনা ফাইন দিতে হয়। ঠিকানা না জেনে তাড়াহুড়ো করে যাত্রা শুরু করায় সে ভুল বিয়েবাড়িতে চলে যায়। পরে চৌধুরী সাহেবের সহযোগিতায় নিরাপদে বাড়ি ফেরে। গল্পের কিশোর ফোকলা ও উদ্দীপকের কিশোররা ঝোঁকের বশে ভুল করে নানা বাধাবিপত্তির সম্মুখীন হয়। তাই তাদের পরিস্থিতি থেকে এই শিক্ষা লাভ করেছি যে ঝোঁকের বশে কোনো কাজ করব না।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
২. ক. গল্পকথক কীভাবে ভুল ট্রেনে উঠেছিলেন? খ. 'বারোটার ট্রেনেই যত গন্ডগোলের মূল'—কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর দেখুন
উত্তর: ক. গল্পকথক ভুল ট্রেনে উঠেছিলেন। এর পেছনে কয়েকটি কারণ ছিল। ছোট মামা তাকে চট্টগ্রাম লাইনের সাড়ে বারোটার ট্রেনে যেতে বলেছিলেন, কিন্তু গল্পকথক সাড়ে এগারোটায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে স্টেশনে পৌঁছে দেখেন একটি গাড়ি চলতে আরম্ভ করেছে; সেটিকেই নিজের ট্রেন ভেবে তিনি লাফ দিয়ে উঠে পড়েন। আসলে সেটি ছিল বারোটার ময়মনসিংহ লাইনের ট্রেন। ট্রেনে এক ভদ্রলোকের ঘড়িতে বারোটা দেখে তিনি ভেবেছিলেন ঘড়িটিই বুঝি ঠিকমতো চলছে না। ছোট মামা গল্পকথককে বলেছিলেন ঢাকা থেকে বারোটি স্টেশন পরে নামতে। তিনি চট্টগ্রাম লাইনের কথা বললেও, গল্পকথক ভুল করে ময়মনসিংহ লাইনে উঠে পড়ায়, তিনি ময়মনসিংহ লাইনের বারোটি স্টেশন পরেই নেমে যান। ভাগ্যক্রমে, গল্পকথক যেখানে নামেন, সেখানেও চৌধুরী নামে একজন লোক ছিলেন এবং তার মেয়ের বিয়েও মেজো মামার বিয়ের পরের দিনই ছিল। এই কাকতালীয় ঘটনার কারণে গল্পকথক ভুল জায়গায় নেমেও নিজেকে মেজো মামার শ্বশুরবাড়িতে এসেছেন বলে মনে করেন। খ. গল্পকথকের মামার বিয়ের বরযাত্রী হওয়ার পরিকল্পনায় 'বারোটার ট্রেনেই যত গন্ডগোলের মূল' কথাটি যথার্থ। কারণ, এই বারোটার ট্রেনকে কেন্দ্র করেই গল্পের মূল জটিলতাগুলো তৈরি হয়েছে। ছোট মামা গল্পকথককে সাড়ে বারোটার ট্রেনে যেতে বলেছিলেন, যা ছিল চট্টগ্রাম লাইনের ট্রেন। কিন্তু গল্পকথক সাড়ে এগারোটায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে স্টেশনে পৌঁছে দেখেন একটি গাড়ি চলতে আরম্ভ করেছে; সেটিকেই নিজের ট্রেন ভেবে তিনি লাফ দিয়ে উঠে পড়েন। আসলে সেটি ছিল বারোটার ময়মনসিংহ লাইনের ট্রেন। ট্রেনে এক ভদ্রলোকের ঘড়িতে বারোটা দেখে তিনি ভেবেছিলেন ঘড়িটিই বুঝি ঠিকমতো চলছে না। গল্পকথক ভুল করে ময়মনসিংহ লাইনের ট্রেনে উঠে পড়েন। এই ভুলের কারণেই তিনি ভুল স্টেশনে নেমে পড়েন এবং সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি পরিস্থিতিতে জড়িয়ে যান। ময়মনসিংহ লাইনের বারোটি স্টেশন পরে নেমে গল্পকথক সম্পূর্ণ অপরিচিত একটি জায়গায় পৌঁছান। সেখানেও ঘটনাক্রমে চৌধুরী নামে একজন লোক ছিলেন এবং তার মেয়ের বিয়েও ছিল, যা গল্পে বিভ্রান্তি তৈরি করে। ভুল জায়গায় পৌঁছে গল্পকথক নিজেকে মামার ভাগ্নে হিসেবে পরিচয় দেন, যা পরে জটিলতার সৃষ্টি করে। এই ভুলের কারণেই তাকে একটি বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়। তাই, দেখা যাচ্ছে যে, বারোটার ট্রেনটিকে কেন্দ্র করেই গল্পের সব জটিলতা তৈরি হয়েছে। গল্পকথকের ভুল সময়জ্ঞান, ভুল ট্রেন নির্বাচন এবং ভুল গন্তব্যে অবতরণের মতো ঘটনাগুলো 'বারোটার ট্রেনেই যত গন্ডগোলের মূল' কথাটিকে যথার্থতা দেয়। সূত্র: আনন্দপাঠ, ষষ্ঠ শ্রেণি (NCTB, ২০২৫), পৃ. ২১, ২৫
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
৩. ক. ট্রেনে উঠে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে কিশোর কেন আশ্চর্য হয়েছিল? খ. গল্প কথক কেন চেকারকে ফাইন দিয়েছিল? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর দেখুন
উত্তর: ক. ট্রেনে উঠে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে কিশোরের আশ্চর্য হওয়ার প্রধান কারণ ছিল সময়ের বিভ্রান্তি। তার ছোট মামা তাকে বলেছিলেন ট্রেনটি ছাড়বে সাড়ে বারোটায়, কিন্তু কিশোর যখন ট্রেনে ওঠে তখন ঘড়িতে সময় ছিল ঠিক বারোটা। গাড়ি ছাড়ার কথা সাড়ে বারোটায়, অথচ পাশের ভদ্রলোকের ঘড়িতে মোটে বারোটা—তাই সে ভেবেছিল ঘড়িটি বুঝি বন্ধ বা ঠিকমতো চলছে না, এবং জিজ্ঞেস করেছিল, "আপনার ঘড়িটা ঠিকমতো চলছে তো?" আসলে ঘড়ি ঠিকই ছিল; সে ভুল করে বারোটার ময়মনসিংহ লাইনের ট্রেনে উঠে পড়েছিল। খ. গল্পকথক চেকারকে ফাইন দিয়েছিল কারণ তার কাছে কোনো বৈধ টিকিট ছিল না। গল্পকথকের ছোট মামা তাকে মেজো মামার বিয়ের বরযাত্রী হিসেবে কনের বাড়ি যেতে বলেছিলেন। কিন্তু ছোট মামা তাকে সঠিক তথ্য না দেওয়ায় গল্পকথক বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। ছোট মামা তাকে বলেছিলেন ঢাকা থেকে বারোটি স্টেশন পরে নামতে, কিন্তু তিনি কোন লাইনের ট্রেনে যেতে হবে তা উল্লেখ করেননি। গল্পকথক ভুল করে ময়মনসিংহ লাইনের ট্রেনে উঠে পড়েন, যেখানে তার যাওয়ার কথা ছিল চট্টগ্রাম লাইনের ট্রেনে। ট্রেনে ওঠার পর যখন চেকার এসে টিকিট দেখতে চায়, তখন গল্পকথকের কাছে কোনো টিকিট না থাকায় তিনি ফাইন দিতে বাধ্য হন। স্টেশনে পৌঁছে গাড়ি চলতে শুরু করেছে দেখে তিনি টিকিট না কেটেই লাফ দিয়ে উঠে পড়েছিলেন। তাই চেকার টিকিট চাইলে তিনি ভদ্রলোকের কাছ থেকে জেনে নেওয়া স্টেশনের নাম বলে আট আনা ফাইন দিয়ে চেকারের কাছ থেকে ওই স্টেশনের টিকিট করে নেন। চেকার তার দায়িত্ব পালনের জন্য টিকিটবিহীন যাত্রীদের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করতে বাধ্য। গল্পকথক আইন মেনে চলা এবং পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য চেকারকে ফাইন দিয়েছিলেন। সূত্র: আনন্দপাঠ, ষষ্ঠ শ্রেণি (NCTB, ২০২৫), পৃ. ২১–২২

এই অধ্যায়ের বাকি সব প্রশ্ন, পরীক্ষা আর প্রশ্নপত্র তৈরি অ্যাকাউন্ট খুললেই পাবেন।

⚑ এই প্রশ্নে কী সমস্যা?

একটা বেছে নিন, চাইলে দুই লাইন লিখুন। সাইট নিজে বইয়ের সাথে মিলিয়ে যাচাই করবে।

+ ঠিক উত্তরটা জানলে দিন (ঐচ্ছিক)

আপনার রিপোর্টে প্রশ্ন ঠিক হলে ২০ কয়েন উপহার। ফ্রি অ্যাকাউন্ট খুললে বা লগইন করলে কয়েন আপনার অ্যাকাউন্টে জমা হবে।