সৃজনশীল (CQ)
১. অনিক, নয়ন ও শিমুল তিন বন্ধু পরামর্শ করে পরিবারের কাউকে না জানিয়ে তারা ট্রেনে করে দূরে কোথাও ঘুরে আসবে। যেই কথা সেই কাজ, যার কাছে যা টাকাণ্ডপয়সা জমা ছিল তা নিয়ে কাউকে না জানিয়ে খুব ভোরেই সবাই ট্রেন স্টেশনে উপস্থিত হলো। ট্রেনে উঠে বেশ আয়েশ করে বসতেই আধা ঘণ্টার মধ্যে চেকার এলে বেশ গচ্ছা দিয়েই তাদের আসন নিতে হলো। পাঁচ-সাতটা স্টেশনের পরেই তারা নেমে পড়ল। খিদেয় সবারই অবস্থা নাকাল। অচেনা জায়গা, অপরিচিত মানুষ কে তাদের খাবার দিবে, কে নিরাপত্তা দেবে। শেষ পর্যন্ত নিরূপায় হয়ে তারা পুলিশের আশ্রয় নিল। পুলিশের নানা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিদ্যালয়ের আইডি কার্ড জমা রেখে শেষ পর্যন্ত তারা নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছাল। ঝোঁকের বশে যে তাদের এমন অচেনা পথে যাত্রা করা উচিত হয়নি, তা খুব ভালোভাবেই বুঝতে পারল।
- ক) মামার বিয়ে ঠিক হয়েছিল কত তারিখে?১
- খ) চৌধুরী বাড়িতে মামা কেন ভাগনেকে চিনতে পারল না? বুঝিয়ে লেখ।২
- গ) উদ্দীপকের কিশোরদের ট্রেনে গচ্ছা দেওয়ার বিষয়টি 'মামার বিয়ের বরযাত্রী' গল্পের যে দিকটি নির্দেশ করে তা তুলে ধর।৩
- ঘ) ঝোঁকের বশে ট্রেনে যাত্রা করার কারণে উদ্দীপকের কিশোররা ও গল্পের কিশোর ফোকলা যে বিপত্তির সম্মুখীন হয়েছে, তা থেকে তুমি কী শিক্ষা লাভ কর? উপস্থাপন কর।৪
উত্তর দেখুন
ক) মামার বিয়ে ঠিক হয়েছিল সতেরো তারিখে।
খ) ভাগনে অর্থাৎ কিশোর ছেলেটি ভুল লাইনের ট্রেনে উঠে অন্য চৌধুরী বাড়ির বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ায় মামা ভাগনেকে চিনতে পারেনি। কিশোর ছেলেটি পরীক্ষার কারণে মেজো মামার বিয়েতে যেতে পারবে না বলে সরাসরি কনের বাড়িতে যাওয়ার পরিকল্পনা করে। কিন্তু তাড়াহুড়োর কারণে ঝোঁকের বশে ভুল লাইনের ট্রেনে উঠে যায়। কনের বাড়ির স্টেশনের নাম ও ঠিকানা না জানায় কাকতালীয়ভাবে মিলে যাওয়া অন্য চৌধুরী বাড়ির বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়। বরযাত্রী এলে দেখা গেল, বর তার মেজো মামাই নন—অন্য এক ব্যক্তি। তাই বর বলেন, "ও তো আমার ভাগনে নয়। আর একে তো আমি চিনিই না।"
গ) উদ্দীপকের কিশোরদের ট্রেনে গচ্ছা দেওয়ার বিষয়টি 'মামার বিয়ের বরযাত্রী' গল্পের মেজো মামার বিয়েতে অংশগ্রহণের জন্য যাত্রারত ভাগনের ট্রেনের চেকারকে আট আনা ফাইন দেওয়ার বিষয়টিকে নির্দেশ করে। ট্রেনে ভ্রমণের পূর্বে টিকিট না করলে জরিমানা দিতে হয়। এ বিষয়টি যাদের জানা নেই তাদের টিকিটের অতিরিক্ত টাকা ব্যয় হয়। তাই ট্রেনে ভ্রমণের পরিকল্পনা করলে যাত্রার পূর্বে টিকিট কেটে নেওয়া উচিত। উদ্দীপকে দেখা যায়, তিনজন কিশোর পরিবারের কাউকে না জানিয়ে ট্রেনে করে দূরে কোথাও ভ্রমণের পরিকল্পনা করে। ট্রেনে উঠে চেকার তাদের কাছে টিকিট না পাওয়ায় জরিমানা আদায় করে। কিশোরদের টিকিটের টাকার অধিক পরিমাণে টাকা গচ্ছা দিতে হয়। 'মামার বিয়ের বরযাত্রী' গল্পে কিশোরটি টিকিট না করেই ট্রেনে উঠে যায়। স্টেশনে পৌঁছে গাড়ি চলতে শুরু করেছে দেখে সে টিকিট না কেটেই লাফিয়ে ট্রেনে উঠে পড়ে। তাই চেকার টিকিট চাইলে তাকে আট আনা ফাইন দিয়ে টিকিট করে নিতে হয়। গল্পের এই দিকটি উদ্দীপকে প্রকাশ পেয়েছে।
ঘ) ঝোঁকের বশে ট্রেনে যাত্রা করার ফলে উদ্দীপকের কিশোররা ও গল্পের কিশোর ফোকলা যে বিপত্তির সম্মুখীন হয়েছে, আমি তা থেকে বুঝেছি যে বুঝে-শুনে কাজ করব; ঝোঁকের বশে নয়। কোনো কাজই ঝোঁকের বশে করা উচিত নয়। না জেনে অপরিকল্পিত যাত্রায় অনেক সময় অধিক পরিমাণে অর্থ গুনতে হয়। আবার নানা রকম সমস্যায় পড়তে হয়। উদ্দীপকের কিশোর তিন বন্ধু পরিবারের কাউকে না জানিয়ে ট্রেনে করে দূরে কোথাও যাওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। না জানার কারণে প্রথমেই তাদের ট্রেনের চেকারকে অধিক পরিমাণ টাকা গচ্ছা দিতে হয়। এরপর তারা ক্ষুধায় নাকাল হয়ে যায়, নিরাপত্তাহীনতায় পড়ে, অবশেষে পুলিশের সহায়তায় বাড়িতে ফিরে নিজেদের ভুল বুঝতে পারে। 'মামার বিয়ের বরযাত্রী' গল্পের কিশোরটি ঝোঁকের বশে তাড়াহুড়ো করে ভুল লাইনের ট্রেনে উঠে যায়। আগে থেকে টিকিট না কাটায় তাকে আট আনা ফাইন দিতে হয়। ঠিকানা না জেনে তাড়াহুড়ো করে যাত্রা শুরু করায় সে ভুল বিয়েবাড়িতে চলে যায়। পরে চৌধুরী সাহেবের সহযোগিতায় নিরাপদে বাড়ি ফেরে। গল্পের কিশোর ফোকলা ও উদ্দীপকের কিশোররা ঝোঁকের বশে ভুল করে নানা বাধাবিপত্তির সম্মুখীন হয়। তাই তাদের পরিস্থিতি থেকে এই শিক্ষা লাভ করেছি যে ঝোঁকের বশে কোনো কাজ করব না।