ক) পাইরুভিক এসিডের সংকেত, C₃H₄O₃।
খ) যে শ্বসন প্রক্রিয়া অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে হয় তাকে অবাত শ্বসন বলে। অর্থাৎ যে শ্বসন প্রক্রিয়ায় কোনো শ্বসনিক বস্তু অক্সিজেনের সাহায্য ছাড়াই কোষ মধ্যস্থ এনজাইম দ্বারা আংশিকরূপে জারিত হয়ে বিভিন্ন প্রকার জৈব যৌগ (ইথাইল অ্যালকোহল, ল্যাকটিক এসিড ইত্যাদি), CO₂ ও সামান্য পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন করে তাকে অবাত শ্বসন বলে।
গ) উদ্দীপকের A উপাদানটি সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার আত্মীকরণ শক্তি ATP ও NADPH + H⁺। এটি সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় তৈরি হচ্ছে।
আলোকনির্ভর পর্যায়ের জন্য আলো অপরিহার্য। এ পর্যায়ে সৌরশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। এই রূপান্তরিত শক্তি ATP-এর মধ্যে সঞ্চিত হয়। ATP ও NADPH + H⁺ সৃষ্টিতে পাতার ক্লোরোফিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ক্লোরোফিল অণু আলোকরশ্মির ফোটন শোষণ করে এবং শোষণকৃত ফোটন হতে শক্তি সঞ্চয় করে ADP (অ্যাডিনোসিন ডাইফসফেট) এর সাথে অজৈব ফসফেট (Pi = inorganic phosphate) মিলিত হয়ে ATP তৈরি করে। ATP তৈরির এই প্রক্রিয়াকে ফটোফসফোরাইলেশন বলে।
ADP + Pi ক্লোরোফিল ———→ ATP
সূর্যালোক ও ক্লোরোফিলের সহায়তায় পানি বিয়োজিত হয়ে অক্সিজেন, হাইড্রোজেন ও ইলেকট্রন উৎপন্ন হয়। এ প্রক্রিয়াকে পানির ফটোলাইসিস বলা হয়। ফটোফসফোরাইলেশন প্রক্রিয়ায় ATP উৎপন্ন হয় এবং পানির ইলেকট্রন NADP-কে বিজারিত করে NADPH + H⁺ উৎপন্ন করে। ATP এবং NADPH + H⁺-কে আত্মীকরণ শক্তি বলা হয়।
ঘ) A উপাদানটি হলো আত্মীকরণ শক্তি ATP ও NADPH + H⁺ যা উৎপন্নে ব্যাঘাত ঘটলে উদ্ভিদের পক্ষে বেঁচে থাকা সম্ভব হবে না। কারণ-
সালোকসংশ্লেষণ পদ্ধতিতে সবুজ উদ্ভিদ CO₂, H₂O, খনিজ পদার্থ প্রভৃতি সরল উপাদানগুলো গ্রহণ করে সূর্যের আলোর উপস্থিতিতে জৈব খাদ্যবস্তু সংশ্লেষ করে। সংশ্লেষিত প্রাথমিক শর্করা জাতীয় খাদ্যবস্তু থেকে উদ্ভিদ অন্যান্য সকল প্রকার খাদ্য- প্রোটিন, ফ্যাট ও ভিটামিন সংশ্লেষ করে। উদ্ভিদ নিজের বিপাকীয় কাজ চালানোর জন্য স্বল্প অংশ ব্যয় করে বাকি অংশ ফল, বীজ, দানা শস্য হিসেবে নিজের দেহাংশে জমা রাখে। এছাড়া এই খাদ্য বস্তুতে রাসায়নিক শক্তি ATP কে স্থৈতিক শক্তিরূপে সঞ্চিত করে রাখে যা তার বিভিন্ন বিপাকীয় কাজে বিশেষ করে শ্বসনে ব্যবহৃত হয়।
সুতরাং A উপাদানটির উৎপন্নে ব্যাঘাত ঘটলে উদ্ভিদের পক্ষে বেঁচে থাকা মোটেই সম্ভব হবে না। অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাবে এবং মানুষসহ জীবজগতের সকলেই ধ্বংস হয়ে যাবে।