সৃজনশীল (CQ)
১. রহমত আলীর হাঁসের খামার ছিল। প্রতিদিন হাঁসের ডিম বেচে তার আর্থিক উন্নতি ঘটতে লাগল। একসময় তারা তিনটি খামার হলো। কিন্তু রহমত আলীর প্রতিবেশী ছিল ছকু বিশ্বাস। তার একটি হাঁসের খামার ছিল। কিন্তু এ খামার থেকে তেমন কোনো আয় রোজগার হতো না। তাই প্রতিবেশী রহমতের প্রতি সে কিছুটা ঈর্ষান্বিত হয়ে ওঠে। তাই একদিন ঈর্ষাপরায়ণ হয়ে ছকু বিশ্বাস বিষ মেশানো খাবার রহমতের খামারে দিয়ে আসে। এ দিকে খুব ভোরে ছকু বিশ্বাসের ছোট ছেলে বিষ মাখানো খাবার হাঁসগুলোকে দেওয়া মাত্র চোখের সামনে হাঁসগুলো ছটফট করতে থাকে। ব্যাপারটি হলো ছকু বিশ্বাস রাতের অন্ধকারে বিষমুক্ত খাবারের পাত্র ভুল করে রহমতের খামারে রেখে আসে। ছকু বিশ্বাস তার সঙ্গে ঘৃণ্য কর্মের জন্য রহমতের কাছে ক্ষমা চায়। কথায় বলে পাপ বাপকেও ছাড়ে না।
- ক) জুমচাষি দম্পতি মেয়েটির কাছে উঠোনে কী শুকাতে দিয়ে গেল?১
- খ) সাদা টিয়া ও হলুদ টিয়ারা মেয়েটির ওপর খুশি হলো কেন?২
- গ) উদ্দীপকের ছকু মিয়া 'হলুদ টিয়া সাদা টিয়া' রূপকথার কার সঙ্গে তুল্য—উপস্থাপন কর।৩
- ঘ) প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপক ও 'হলুদ টিয়া সাদা টিয়া' এ রূপকথার মূলচেতনা অভিন্ন ধারায় গ্রোথিত—তোমার দৃষ্টিকোণ থেকে যৌক্তিক বিশ্লেষণ কর।৪
উত্তর দেখুন
ক) জুমচাষি দম্পতি মেয়েটির কাছে উঠোনে ধান শুকাতে দিয়ে গেল।
খ) মেয়েটির নির্লোভ ও সাদাসিধে আচরণ দেখে সাদা টিয়া ও হলুদ টিয়ারা তার ওপর খুশি হলো। টিয়ারা ধান খেয়েছে বলে মেয়েটির বাবা-মা তাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। মেয়েটি অনেক কষ্টে টিয়ার দেশে এলে টিয়ারা তাকে সোনার সিঁড়ি, সোনার থালা, সোনার খাট দিতে চায়; কিন্তু সে গরিব বলে কাঠের সিঁড়ি দিয়ে ওঠে, সাধারণ থালায় খায়, মেঝেতে শোয়। পরদিন সে টিয়াদের তার দুঃখের কথা জানালে টিয়ারা তাকে সান্ত্বনা দেয়। ভালো ভালো খাবার-দাবার পোশাক পরিচ্ছদ, সোনা-রূপাসহ তারা মেয়েকে পুরস্কার দেয়।
গ) উদ্দীপকের ছকু মিয়া 'হলুদ টিয়া সাদা টিয়া' রূপকথার লোভী বাবা-মার সঙ্গে তুল্য। লোভী মানুষ অপরের সুখ-শান্তি দেখে হিংসায় জ্বলতে থাকে। ঈর্ষার কারণে সে অন্যের ভালো মেনে নিতে পারে না। অপরের উন্নতি দেখে সে হিংসাপরায়ণ হয়ে ওঠে। এ জন্য আমাদের সবার উচিত লোভী মানসিকতা ত্যাগ করা। উদ্দীপকের ছকু মিয়া একজন লোভী ও ঈর্ষাপরায়ণ লোক। প্রতিবেশী রহমতের হাঁসের খামারের উন্নতি দেখে সে হিংসার আগুনে জ্বলতে থাকে। ঈর্ষার কারণে সে বিষমিশ্রিত খাবার রহমতের খামারে রাখলে, সেই খাবারে তার হাঁসই মারা যায়। 'হলুদ টিয়া সাদা টিয়া' রূপকথার লোভী পরিবার তার মেয়েকে তাড়িয়ে দিয়ে টিয়ার দেশে পাঠায়। টিয়ারা মেয়েটি এবং তার পরিবারের লোভ বুঝতে পারে। টিয়ারা সাত কলস বিষধর সাপ দিয়ে মেয়েটিকে তার বাবা-মার কাছে পাঠিয়ে দেয়। মেয়েটির পরিবার সেই সাপের কামড়ে মারা যায়। এই লোভী পরিবারের সাথে উদ্দীপকের ছকু মিয়ার তুলনা করা যায়।
ঘ) প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপক ও 'হলুদ টিয়া সাদা টিয়া' রূপকথার মূল চেতনা অভিন্ন ধারায় গ্রোথিত। অল্পতে সন্তুষ্ট থাকলে মানবজীবনে শান্তি আসে। কিন্তু পরের সম্পদে লোভ করলে মানুষের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টি হয়। এতে পারিবারিক জীবন ধ্বংস হয়। তাই আমাদের সবার উচিত লোভহীন চেতনা ধারণ করা। উদ্দীপকের রহমত কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের হাঁসের খামারে আর্থিক উন্নতি করে। তার আর্থিক উন্নতি দেখে প্রতিবেশী ছকু মিয়া ঈর্ষার আগুনে জ্বলতে থাকে। সে প্রতিহিংসার কারণে রহমতের হাঁসের খামারে বিষমিশ্রিত খাবার রেখে আসে। কিন্তু ঘটনাক্রমে ছকু মিয়ার হাঁসই সে বিষমিশ্রিত খাবার খেয়ে মারা যায়। হলুদ টিয়া সাদা টিয়া রূপকথার গল্পে জুমচাষি দম্পতির মেয়ে নির্লোভ বলে তাকে টিয়ারা সোনাদানা উপহার পাঠায়। আবার তাদের প্রতিবেশী লোভী বলে টিয়ার দেশ থেকে বিষধর সাপ ভর্তি সাতটি কলস পাঠায়। বিষধর সাপের কামড়ে লোভী পরিবার নির্বংশ হয়ে যায়। উপরের দুটি আলোচনার প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও এর মূল চেতনা লোভের পরিণাম দেখানো। উদ্দীপকের ছকু মিয়া এবং গল্পের লোভী পরিবার একই বৈশিষ্ট্যের পরিচয় দিয়েছে। তাই বলা যায়, প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপক ও গল্পের মূল চেতনা অভিন্ন।