Online Model Test Online Model Test
৯০%

ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলা ১ম পত্র ২৪শ অধ্যায়: আনন্দপাঠ: হলুদ টিয়া সাদা টিয়া

ষষ্ঠ শ্রেণি Bangla 1st Paper Chapter 24 · MCQ, CQ ও বোর্ড প্রশ্ন উত্তরসহ

সৃজনশীল সংক্ষিপ্ত

এই অধ্যায়ের কয়েকটি প্রশ্ন

সৃজনশীল (CQ)
১. রহমত আলীর হাঁসের খামার ছিল। প্রতিদিন হাঁসের ডিম বেচে তার আর্থিক উন্নতি ঘটতে লাগল। একসময় তারা তিনটি খামার হলো। কিন্তু রহমত আলীর প্রতিবেশী ছিল ছকু বিশ্বাস। তার একটি হাঁসের খামার ছিল। কিন্তু এ খামার থেকে তেমন কোনো আয় রোজগার হতো না। তাই প্রতিবেশী রহমতের প্রতি সে কিছুটা ঈর্ষান্বিত হয়ে ওঠে। তাই একদিন ঈর্ষাপরায়ণ হয়ে ছকু বিশ্বাস বিষ মেশানো খাবার রহমতের খামারে দিয়ে আসে। এ দিকে খুব ভোরে ছকু বিশ্বাসের ছোট ছেলে বিষ মাখানো খাবার হাঁসগুলোকে দেওয়া মাত্র চোখের সামনে হাঁসগুলো ছটফট করতে থাকে। ব্যাপারটি হলো ছকু বিশ্বাস রাতের অন্ধকারে বিষমুক্ত খাবারের পাত্র ভুল করে রহমতের খামারে রেখে আসে। ছকু বিশ্বাস তার সঙ্গে ঘৃণ্য কর্মের জন্য রহমতের কাছে ক্ষমা চায়। কথায় বলে পাপ বাপকেও ছাড়ে না।
  1. ক) জুমচাষি দম্পতি মেয়েটির কাছে উঠোনে কী শুকাতে দিয়ে গেল?১
  2. খ) সাদা টিয়া ও হলুদ টিয়ারা মেয়েটির ওপর খুশি হলো কেন?২
  3. গ) উদ্দীপকের ছকু মিয়া 'হলুদ টিয়া সাদা টিয়া' রূপকথার কার সঙ্গে তুল্য—উপস্থাপন কর।৩
  4. ঘ) প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপক ও 'হলুদ টিয়া সাদা টিয়া' এ রূপকথার মূলচেতনা অভিন্ন ধারায় গ্রোথিত—তোমার দৃষ্টিকোণ থেকে যৌক্তিক বিশ্লেষণ কর।৪
উত্তর দেখুন
ক) জুমচাষি দম্পতি মেয়েটির কাছে উঠোনে ধান শুকাতে দিয়ে গেল।
খ) মেয়েটির নির্লোভ ও সাদাসিধে আচরণ দেখে সাদা টিয়া ও হলুদ টিয়ারা তার ওপর খুশি হলো। টিয়ারা ধান খেয়েছে বলে মেয়েটির বাবা-মা তাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। মেয়েটি অনেক কষ্টে টিয়ার দেশে এলে টিয়ারা তাকে সোনার সিঁড়ি, সোনার থালা, সোনার খাট দিতে চায়; কিন্তু সে গরিব বলে কাঠের সিঁড়ি দিয়ে ওঠে, সাধারণ থালায় খায়, মেঝেতে শোয়। পরদিন সে টিয়াদের তার দুঃখের কথা জানালে টিয়ারা তাকে সান্ত্বনা দেয়। ভালো ভালো খাবার-দাবার পোশাক পরিচ্ছদ, সোনা-রূপাসহ তারা মেয়েকে পুরস্কার দেয়।
গ) উদ্দীপকের ছকু মিয়া 'হলুদ টিয়া সাদা টিয়া' রূপকথার লোভী বাবা-মার সঙ্গে তুল্য। লোভী মানুষ অপরের সুখ-শান্তি দেখে হিংসায় জ্বলতে থাকে। ঈর্ষার কারণে সে অন্যের ভালো মেনে নিতে পারে না। অপরের উন্নতি দেখে সে হিংসাপরায়ণ হয়ে ওঠে। এ জন্য আমাদের সবার উচিত লোভী মানসিকতা ত্যাগ করা। উদ্দীপকের ছকু মিয়া একজন লোভী ও ঈর্ষাপরায়ণ লোক। প্রতিবেশী রহমতের হাঁসের খামারের উন্নতি দেখে সে হিংসার আগুনে জ্বলতে থাকে। ঈর্ষার কারণে সে বিষমিশ্রিত খাবার রহমতের খামারে রাখলে, সেই খাবারে তার হাঁসই মারা যায়। 'হলুদ টিয়া সাদা টিয়া' রূপকথার লোভী পরিবার তার মেয়েকে তাড়িয়ে দিয়ে টিয়ার দেশে পাঠায়। টিয়ারা মেয়েটি এবং তার পরিবারের লোভ বুঝতে পারে। টিয়ারা সাত কলস বিষধর সাপ দিয়ে মেয়েটিকে তার বাবা-মার কাছে পাঠিয়ে দেয়। মেয়েটির পরিবার সেই সাপের কামড়ে মারা যায়। এই লোভী পরিবারের সাথে উদ্দীপকের ছকু মিয়ার তুলনা করা যায়।
ঘ) প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপক ও 'হলুদ টিয়া সাদা টিয়া' রূপকথার মূল চেতনা অভিন্ন ধারায় গ্রোথিত। অল্পতে সন্তুষ্ট থাকলে মানবজীবনে শান্তি আসে। কিন্তু পরের সম্পদে লোভ করলে মানুষের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টি হয়। এতে পারিবারিক জীবন ধ্বংস হয়। তাই আমাদের সবার উচিত লোভহীন চেতনা ধারণ করা। উদ্দীপকের রহমত কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের হাঁসের খামারে আর্থিক উন্নতি করে। তার আর্থিক উন্নতি দেখে প্রতিবেশী ছকু মিয়া ঈর্ষার আগুনে জ্বলতে থাকে। সে প্রতিহিংসার কারণে রহমতের হাঁসের খামারে বিষমিশ্রিত খাবার রেখে আসে। কিন্তু ঘটনাক্রমে ছকু মিয়ার হাঁসই সে বিষমিশ্রিত খাবার খেয়ে মারা যায়। হলুদ টিয়া সাদা টিয়া রূপকথার গল্পে জুমচাষি দম্পতির মেয়ে নির্লোভ বলে তাকে টিয়ারা সোনাদানা উপহার পাঠায়। আবার তাদের প্রতিবেশী লোভী বলে টিয়ার দেশ থেকে বিষধর সাপ ভর্তি সাতটি কলস পাঠায়। বিষধর সাপের কামড়ে লোভী পরিবার নির্বংশ হয়ে যায়। উপরের দুটি আলোচনার প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও এর মূল চেতনা লোভের পরিণাম দেখানো। উদ্দীপকের ছকু মিয়া এবং গল্পের লোভী পরিবার একই বৈশিষ্ট্যের পরিচয় দিয়েছে। তাই বলা যায়, প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপক ও গল্পের মূল চেতনা অভিন্ন।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
২. ক. মেয়েটি সাদা টিয়া আর হলুদ টিয়াদের ধান খেতে নিষেধ করল কেন? খ. মেয়েটি কীভাবে তার সততার পুরস্কার পেল তা বর্ণনা কর।
উত্তর দেখুন
উত্তর: ক. মেয়েটি বাবা-মার কাছে মার খাওয়ার ভয়ে সাদা টিয়া আর হলুদ টিয়াদের ধান খেতে নিষেধ করল। গল্পে এক জুমচাষি দম্পতির কথা বর্ণনা করা হয়েছে। তাদের একটি মেয়েকে নিয়ে সুখে দিন কাটছিল। ভোরবেলা দম্পতি জুমচাষে বেরিয়ে যেত আর মেয়েটি ঘর পাহারা দিত আর ঘরের খুঁটিনাটি কাজ করত। একদিন তারা মেয়েকে ধান শুকাতে বলে গেল। মা-বাবা বেরিয়ে যাবার পর তাদের নির্দেশমতো উঠানে ধান শুকাতে দিল। ধান প্রায় শুকানোর মুহূর্তে এক ঝাঁক সাদা আর হলুদ টিয়া এসে সব ধান খেয়ে ফেলল। মেয়েটি বাবা-মার মার খাওয়ার ভয়ে তাদের অনেক নিষেধ করলেও তারা তা শোনেনি। খ. মেয়েটি পাখিদের কাছে তার সততার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সততার পুরস্কার পেল। 'হলুদ টিয়া সাদা টিয়া' গল্পে দেখা যায় এক জুমচাষি দম্পতির মেয়ের সততার কাহিনি। জুমচাষি দম্পতি তাদের একমাত্র মেয়েকে বাড়িতে রেখে বাইরে কাজে চলে যায়। একদিন ধান শুকাতে দিলে অনেকগুলো হলুদ ও সাদা টিয়া পাখি এসে সব ধান খেয়ে ফেলে। এভাবে তৃতীয় দিন একই ঘটনা ঘটলে দম্পতি তাদের মেয়েকে ঘর থেকে বের করে দেয়। পাখিগুলো যখন ধান খাচ্ছিল তখন মেয়েটি তাদের খেতে নিষেধ করলে তারা বলেছিল যে যদি বাবা-মা তাকে মারে বা তাড়িয়ে দেয় তবে মেয়েটি যেন তাদের কাছে চলে যায়। মেয়েটির মা-বাবা তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিলে মেয়েটি পাখিদের রাজ্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পথ না চেনা থাকায় মেয়েটি রাখাল, মেষপালক, অশ্বরক্ষক ও হস্তীরক্ষকের সাহায্য নিয়ে পাখিদের রাজ্যে পৌঁছে। সেখানে গেলে পাখিরা তাকে স্বর্ণের ও রূপার সিঁড়ি বেয়ে ঘরে উঠতে বললে মেয়েটি বলে, আমরা গরিব মানুষ কাঠের সিঁড়িতে যাব। তার খাওয়া, ঘুম ইত্যাদির মধ্যে দিয়ে পাখিরা তাকে আরও পরীক্ষা করে। পরীক্ষা শেষে পাখিরা বুঝতে পারে মেয়েটি খুবই সৎ। তারা মেয়েকে সোনা ও রূপার সাত কলস মোহরসহ বাড়ি পৌঁছে দেয়। এভাবেই মেয়েটি তার সততার পুরস্কার পেল।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
৩. ক. জুমচাষি দম্পতি তাদের মেয়েকে ঘর থেকে বের করে দিল কেন? খ. টিয়াদের দেশে মেয়েটি কেমন অভ্যর্থনা পেল বর্ণনা কর।
উত্তর দেখুন
উত্তর: ক. ধান ঠিকমতো পাহারা না দিতে পারায় জুমচাষি দম্পতি তাদের মেয়েকে ঘর থেকে বের করে দিলেন। জুমচাষি দম্পতি প্রতিদিন কাজ করতে বাইরে চলে যেত। বাড়িতে থাকতো তাদের এক মেয়ে। একদিন ধান শুকাতে দিলে কতগুলো হলুদ ও সাদা টিয়া পাখি এসে সব ধান খেয়ে ফেলে। দম্পতি এসে মেয়েকে বকাঝকা করলেন। তার পরের দিনও একই কাণ্ড ঘটে। দম্পতি মেয়েকে ভীষণ মারধর করে এবং সাবধান করে দেয় যে, আবার যদি এ রকম ঘটে তাহলে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিবেন। সত্যি সত্যি তৃতীয় দিনও পাখিগুলো এসে সব ধান খেয়ে ফেলে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জুমচাষি দম্পতি তাদের মেয়েকে ঘর থেকে বের করে দিলেন। খ. টিয়াদের দেশে মেয়েটি সাদর অভ্যর্থনা পেল। মেয়েটি বিভিন্নজনের সাহায্য নিয়ে ক্লান্ত অবসন্ন দেহে অবশেষ টিয়াদের দেশে পৌঁছাল। চারিদিকে তাকাতেই সামনে দেখতে পেল এক সুবর্ণ অট্টালিকা। মেয়েটির পরিচয় এবং সেখানে আসার উদ্দেশ্য জানতে পেরে সাদা টিয়া, হলুদ টিয়ারা তাকে সাদরে অভ্যর্থনা জানালো। সোনার সিঁড়ি নাকি রূপার সিঁড়ি কোনটা বেয়ে মেয়েটির ঘরে ওঠার ইচ্ছা তা জানতে চাইল। মেয়েটি বলল তারা গরিব তাই কাঠের সিঁড়ি বেয়ে উঠতে অভ্যস্ত, তারা মেয়েটিকে তাই করতে দিল। বাড়িতে ঢুকে চারিদিকে ঐশ্বর্যের ছড়াছড়ি দেখে সে অবাক হয়ে গেল। পরিশ্রান্ত মেয়েটিকে স্নান করিয়ে সুন্দর সুন্দর পোশাক পরতে দিল। তারপর সোনার থালায় রূপার থালায় করে রকমারি খাবার খেতে দিল। মেয়েটি ওইসব থালায় খেতে অভ্যস্ত নয় বলে সে সাধারণ থালায় খেল। মেয়েটি জীবনে কোনোদিন এমন সুস্বাদু খাবার খায়নি। তাই সে খুব তৃপ্তিসহকারে খেল। টিয়ারা তাকে রাতে শোবার ঘরে নিয়ে গেল। সেখানেও সোনার খাটে রূপার খাটে শুভ্র কোমল বিছানা করা হয়েছে দেখতে পেল। কোনটাতে মেয়েটি ঘুমাবে জানতে চাইলে মেয়েটি জানালো তারা মেঝেতে শুতেই অভ্যস্ত। তারা তাকে মেঝেতেই শুতে দিল। মোটকথা, মেয়েটিকে অভ্যর্থনার জন্য টিয়াদের বিলাসী আয়োজন ছিল। নির্লোভ মেয়েটি সেসব প্রত্যাখ্যান করে সাধারণভাবেই তাদের অভ্যর্থনা গ্রহণ করল। এতে টিয়ারা তার উপর খুব খুশি হলো।

এই অধ্যায়ের বাকি সব প্রশ্ন, পরীক্ষা আর প্রশ্নপত্র তৈরি অ্যাকাউন্ট খুললেই পাবেন।

⚑ এই প্রশ্নে কী সমস্যা?

একটা বেছে নিন, চাইলে দুই লাইন লিখুন। সাইট নিজে বইয়ের সাথে মিলিয়ে যাচাই করবে।

+ ঠিক উত্তরটা জানলে দিন (ঐচ্ছিক)

আপনার রিপোর্টে প্রশ্ন ঠিক হলে ২০ কয়েন উপহার। ফ্রি অ্যাকাউন্ট খুললে বা লগইন করলে কয়েন আপনার অ্যাকাউন্টে জমা হবে।