সৃজনশীল (CQ)
১. রাহাতের নেপালি বন্ধু গোমেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। রাহাত বাংলাদেশ সরকারের একটি সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি দলের সদস্য হয়ে নেপালের শিল্পকলা একাডেমিতে গান পরিবেশন করেন। রাহাত নেপালে অবস্থান কালে গোমেজের বাড়িতে বেড়াতে যান।
- ক) আসিয়ানের পূর্ণরূপ কী?১
- খ) দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।২
- গ) নেপালে গিয়ে রাহাতের গান পরিবেশন করা সার্কের কোন ধরনের কাজ? ব্যাখ্যা কর।৩
- ঘ) উক্ত কাজটি ছাড়াও সার্ক দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নে কাজ করে- বিশ্লেষণ কর।৪
উত্তর দেখুন
ক) আসিয়ানের পূর্ণরূপ—Association of Southeast Asian Nations.
খ) দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বলতে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সেই চুক্তিকে বোঝানো হয়, যা পারস্পরিক সহযোগিতা ও স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একে অপরকে সহায়তা করার জন্য গৃহীত হয়।
এই চুক্তির মাধ্যমে দেশ দুটি তাদের অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, রাজনৈতিক, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি, কৃষি, পরিবেশ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করে। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় সব দেশই তাদের উন্নয়ন কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করতে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রাখছে। এ ধরনের চুক্তি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য পারস্পরিক কল্যাণ ও উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি করে।
গ) নেপালে গিয়ে রাহাতের গান পরিবেশন করা সার্কের সাংস্কৃতিক সহযোগিতা সংক্রান্ত কার্যক্রমের অংশ।
সার্কের অন্যতম লক্ষ্য হলো সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানো। সাংস্কৃতিক সহযোগিতার মাধ্যমে দেশগুলোর জনগণ একে অপরের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, ভাষা ও কৃষ্টির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়, যা আঞ্চলিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে।
রাহাত বাংলাদেশ সরকারের সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে নেপালের শিল্পকলা একাডেমিতে গান পরিবেশন করেছেন, যা দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের একটি দৃষ্টান্ত। এটি শুধুমাত্র বিনোদনমূলক কার্যক্রম নয়, বরং দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়ন ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধির একটি মাধ্যম। এছাড়া, রাহাত নেপালে অবস্থানকালে তার নেপালি বন্ধু গোমেজের বাড়িতে বেড়াতে যান, যা দুই দেশের জনগণের মধ্যে ব্যক্তিগত ও সামাজিক পর্যায়ে সম্পর্ক উন্নয়নেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। সার্কের এই সাংস্কৃতিক বিনিময়ের উদ্যোগ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য ও সহযোগিতা বাড়াতে সহায়তা করে এবং আঞ্চলিক সংহতি জোরদার করে।
ঘ) শুধু সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেই নয়, সার্ক দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নে আরও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে কাজ করে থাকে।
প্রথমত, অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে, এটি দক্ষিণ এশীয় মুক্ত বাণিজ্য এলাকা (SAFTA) চালু করেছে, যা সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বাণিজ্য সুবিধা বৃদ্ধি করে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করে। বিনিয়োগ ও প্রযুক্তির আদান-প্রদান সহজ করতে সার্ক বিভিন্ন নীতি প্রণয়ন করেছে।
দ্বিতীয়ত, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে, সার্ক ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা বৃত্তি প্রদান এবং গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে, যা দক্ষ জনশক্তি গঠনে ভূমিকা রাখে।
তৃতীয়ত, স্বাস্থ্য খাতে, এটি সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, মা ও শিশুর স্বাস্থ্য উন্নয়ন, এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
এছাড়াও, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সার্ক সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জন্য যৌথ কর্মপরিকল্পনা (যেমন ২০১০ সালের থিম্পু জলবায়ু ঘোষণা) গ্রহণ করেছে। নিরাপত্তা ও সন্ত্রাস দমনেও, সার্কের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এটি সন্ত্রাসবাদ, মাদক ও মানব পাচার প্রতিরোধে যৌথ নীতিমালা তৈরি করেছে। ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির মাধ্যমে, সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সৌহার্দ্য ও ঐক্য বৃদ্ধি করা হয়, যা পারস্পরিক সহযোগিতাকে আরও সুদৃঢ় করে। পাঠ্যবই অনুযায়ী সার্কের লক্ষ্য হলো সার্কভুক্ত দেশগুলোর জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, মুক্ত বাণিজ্য ও কল্যাণমূলক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চালু করা, আত্মনির্ভরশীলতা গড়ে তোলা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন এবং বিরোধ দূর করে পারস্পরিক সমঝোতা সৃষ্টি করা। সার্কের এসব উদ্যোগ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সার্বিক উন্নয়ন এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।)