সৃজনশীল (CQ)
১. মাহফুজা চমৎকার কবিতা লেখেন। জীবনের বিভিন্ন অংশের স্মৃতিকে শব্দের ভিতর সাজাতে পছন্দ তাঁর। মাহফুজার ভাইপো নির্ঝর তাঁকে খুব পছন্দ করে। কারণ তিনি তাঁর ভাইপো নির্ঝরকে প্রায়ই নানা রকম কবিতা শোনান। নির্ঝর ফুফুকে পেলেই ছড়া শোনার বায়না ধরে। একদিন নির্ঝর তাঁকে বলে "ফুফু তুমি এতো সুন্দর কবিতা কীভাবে লেখ?" মাহফুজা উত্তর দেন, "তুমি তোমার চারপাশের সুন্দর স্বপ্নময় শব্দগুলোকে বুঝে ধারণ করে রাখবে, দেখবে তুমিও একদিন চমৎকার কবিতা লিখতে পারবে।"
- ক) কবিতা লেখার জন্য প্রথমেই কোনটি প্রয়োজন?১
- খ) 'কবিতার জন্য দরকার শব্দ রংবেরঙের শব্দ।'—বুঝিয়ে লেখ।২
- গ) কবিতার বিষয়ে নির্ঝরের প্রশ্নের উত্তর 'শব্দ থেকে কবিতা' প্রবন্ধে কীভাবে প্রতিফলিত হয়েছে? লেখ।৩
- ঘ) মাহফুজার উত্তর 'শব্দ থেকে কবিতা' প্রবন্ধের মূলভাবকে ধারণ করে কি? যুক্তিসহ বিচার কর।৪
উত্তর দেখুন
ক) কবিতা লেখার জন্য প্রথমেই দরকার শব্দ—রংবেরঙের শব্দ।
খ) কবিতা লেখার জন্য শব্দ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, আর তা হতে হবে রংবেরঙের, সুরেলা ও অনুভূতিপূর্ণ।
কিছু শব্দ শুনলেই মনে রঙিন চিত্র ভেসে ওঠে, যেমন—পাখি, ফুল, নদী ইত্যাদি। কিছু শব্দের মধ্যে সুর লুকিয়ে থাকে, যেমন— ঝরনা, নূপুর, আবার কিছু শব্দ থেকে সুগন্ধের অনুভূতি পাওয়া যায়, যেমন—গোলাপ, কাঁঠালচাঁপা। কবিকে শব্দের এই রং, সুর ও গন্ধ অনুভব করতে জানতে হয়, কারণ শব্দ শুধু অর্থ বহন করে না, বরং অনুভূতি, ছবি ও স্বপ্নও সৃষ্টি করে। তাই কবিতা রচনার জন্য শব্দের গভীর সৌন্দর্য অনুধাবন করা প্রয়োজন।
গ) উদ্দীপকে নির্ঝরের প্রশ্নের উত্তরে মাহফুজা যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তা হুমায়ুন আজাদের 'শব্দ থেকে কবিতা' প্রবন্ধের মূল ভাবনার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।
নির্ঝর জানতে চেয়েছে, কীভাবে মাহফুজা এত সুন্দর কবিতা লিখতে পারেন। এর উত্তরে মাহফুজা তাকে পরামর্শ দেন যে, চারপাশের সুন্দর ও স্বপ্নময় শব্দগুলোকে বুঝে ও ধারণ করে রাখতে হবে, কারণ এগুলোই একদিন কবিতার রূপ নেবে।
প্রবন্ধে হুমায়ুন আজাদ ব্যাখ্যা করেছেন যে, কবিতা লেখার জন্য শব্দকে ভালোবাসতে হয়, অনুভব করতে হয়, এবং শব্দের রং, সুর ও সুগন্ধ বুঝতে জানতে হয়। কিছু শব্দ আছে, যেগুলো শুনলে মনের মধ্যে রঙিন চিত্র ফুটে ওঠে, কিছু শব্দ আবার সুরের মতো মনে হয়, আর কিছু শব্দের মধ্যে সুগন্ধ অনুভূত হয়। কবি হতে চাইলে এসব শব্দকে অনুভব করতে জানতে হবে এবং চারপাশের দৃশ্য, অনুভূতি ও স্বপ্নকে মনের মধ্যে জমিয়ে রাখতে হবে। তিনি আরও বলেন, ছোটবেলায় বেশি বেশি শব্দ ও ছন্দকে হৃদয়ে ধারণ করলে, একসময় সেগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে কবিতার রূপ নেয়।
মাহফুজার কথার মধ্যেও একই ভাবনা প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি নির্ঝরকে বুঝিয়েছেন যে, কবিতা লেখার জন্য শব্দের সৌন্দর্য অনুভব করা এবং তা সংরক্ষণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। চারপাশের শব্দ ও অভিজ্ঞতাকে যত বেশি অনুভব করা যাবে, তত সহজে কবিতার জন্ম হবে।
তাই বলা যায়, মাহফুজার উত্তর 'শব্দ থেকে কবিতা' প্রবন্ধের মূল বার্তাকে প্রকাশ করেছে।
ঘ) হ্যাঁ, মাহফুজার উত্তর হুমায়ুন আজাদের 'শব্দ থেকে কবিতা' প্রবন্ধের মূলভাবকে পুরোপুরি ধারণ করে। কারণ প্রবন্ধের মূল বার্তা হলো—শব্দের সৌন্দর্য অনুধাবন, সংরক্ষণ ও সৃজনশীল উপায়ে ব্যবহার করাই কবিতা লেখার প্রধান শর্ত।
'শব্দ থেকে কবিতা' প্রবন্ধে হুমায়ুন আজাদ বলেন, কবি হতে হলে শব্দকে ভালোবাসতে হবে, শব্দের রং, সুর ও সুগন্ধ অনুভব করতে হবে। চারপাশের দৃশ্য, অনুভূতি ও স্বপ্নকে মনে ধরে রাখতে হবে, যাতে তা একসময় কবিতার রূপ নেয়। তিনি বলেন, ছোটবেলায় শব্দ ও ছন্দের সঙ্গে বেশি মিশলে, পরে তা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কবিতায় প্রকাশ পায়। একই কথা মাহফুজাও বলেন নির্ঝরকে—যদি সে চারপাশের সুন্দর ও স্বপ্নময় শব্দগুলোকে বোঝে ও মনে ধারণ করে, তবে একদিন সেও চমৎকার কবিতা লিখতে পারবে।
এই উত্তরে কবিতা রচনার জন্য শব্দের প্রতি ভালোবাসা, শব্দকে উপলব্ধি করা ও সৃজনশীলতার প্রয়োজনীয়তা ফুটে উঠেছে, যা প্রবন্ধের মূলভাবের সঙ্গে মিলে যায়। ফলে বলা যায়, মাহফুজার উত্তর 'শব্দ থেকে কবিতা' প্রবন্ধের ভাবধারার সঙ্গে সুস্পষ্টভাবে যুক্ত।