সৃজনশীল (CQ)
১. এলাকায় একজন ভালো মানুষ হিসেবে চেয়ারম্যান আজমল সাহেবের যথেষ্ট সুনাম রয়েছে, কিন্তু তাঁর ছেলে কারণে-অকারণে বাড়ির কাজের লোক, আশপাশের খেটে খাওয়া মানুষের সাথে খারাপ আচরণ করে, তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে। চেয়ারম্যান ছেলেকে ডেকে বুঝিয়ে বলেন, তুমি যাদের আজ তুচ্ছ জ্ঞান করছ—সত্যিকার অর্থে তারাই আধুনিক সভ্যতার নির্মাতা, তাদের কারণেই আমরা সুন্দর জীবন যাপন করছি।
- ক) 'কুলি-মজুর' কবিতায় রেলপথে কোনটি চলে?১
- খ) 'শুধিতে হইবে ঋণ'—কথাটির দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?২
- গ) চেয়ারম্যান সাহেবের ছেলের আচরণে 'কুলি-মজুর' কবিতার কোন দিকটি প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা কর।৩
- ঘ) 'চেয়ারম্যান সাহেবের মনোভাব 'কুলি-মজুর' কবিতার মূলভাবেরই প্রতিফলন'—বিশ্লেষণ কর।৪
উত্তর দেখুন
ক) 'কুলি-মজুর' কবিতায় রেলপথে বাষ্প-শকট চলে।
খ) 'শুধিতে হইবে ঋণ' কথাটির দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে, শ্রমিক-কুলি-মজুরদের প্রতি সমাজের অন্যায় ও শোষণের প্রতিকার একদিন হবেই। তারা কঠোর পরিশ্রম করে সভ্যতা গড়ে তুললেও ন্যায্য অধিকার পায় না, বরং লাঞ্ছিত ও বঞ্চিত হয়। কবি সতর্ক করেছেন যে, শোষিত মানুষের ক্ষোভ একদিন ফেটে পড়বে, তারা নিজেদের প্রাপ্য আদায় করবে, এবং শোষক শ্রেণিকে এই অন্যায়ের মূল্য দিতে হবে। অর্থাৎ, সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য পরিবর্তন আসবে, যা শোষকদের ঋণ পরিশোধের সমান।
গ) চেয়ারম্যান সাহেবের ছেলের আচরণে 'কুলি-মজুর' কবিতার শ্রমজীবী মানুষের প্রতি ধনী ও ক্ষমতাবানদের অবজ্ঞা ও শোষণের চিত্র প্রকাশ পেয়েছে।
কবিতায় দেখা যায়, কুলি-মজুরদের পরিশ্রমেই সমাজের রেলপথ, কল-কারখানা, রাজপ্রাসাদ গড়ে ওঠে, অথচ ক্ষমতাবানরা তাদের অবহেলা ও নির্যাতন করে। কবি এক দৃশ্যে দেখিয়েছেন, এক বাবু কুলিকে রেলপথে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলেও কেউ কিছু বলে না, বরং তারা শোষিত হয়েই থাকে। একইভাবে, উদ্দীপকের চেয়ারম্যানের ছেলে খেটে খাওয়া মানুষদের অবজ্ঞা করে, তাদের তুচ্ছ মনে করে, যা সমাজে প্রচলিত অন্যায়েরই প্রতিফলন।
তবে চেয়ারম্যান তার ছেলেকে বুঝিয়ে বলেন যে, যাদের সে তুচ্ছ ভাবছে, তারাই প্রকৃত নির্মাতা—যেমন কবিতায় কবি শ্রমজীবী মানুষকে 'মানুষ' ও 'দেবতা' বলে সম্মান জানিয়েছেন। অতএব, চেয়ারম্যানের ছেলের আচরণ 'কুলি-মজুর' কবিতার শোষণ, অবজ্ঞা ও অবিচারের দিকটিরই প্রকাশ।
ঘ) চেয়ারম্যান সাহেবের মনোভাব 'কুলি-মজুর' কবিতার মূলভাবেরই প্রতিফলন, কারণ তিনি শ্রমজীবী মানুষের প্রতি যথাযথ সম্মান দেখিয়েছেন এবং তাদের অবদানকে স্বীকার করেছেন।
কাজী নজরুল ইসলামের 'কুলি-মজুর' কবিতার মূল বক্তব্য হলো, সমাজে যারা পরিশ্রম করে সভ্যতা গড়ে তুলছে—যেমন কুলি, মজুর, মুটে—তারাই প্রকৃত নির্মাতা। অথচ শোষক শ্রেণি তাদের তুচ্ছ জ্ঞান করে, অবহেলা ও নির্যাতন করে। কবি শ্রমিকদের প্রতি এই অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং বলেছেন, একদিন তাদের প্রতি করা ঋণ শোধ করতেই হবে—অর্থাৎ শোষিতের মুক্তি আসবে।
উদ্দীপকের চেয়ারম্যান সাহেবও একই দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন। তিনি তার ছেলেকে বোঝান যে, যেসব শ্রমজীবী মানুষকে সে অবজ্ঞা করছে, তারাই আধুনিক সভ্যতার নির্মাতা এবং তাদের কারণেই আমরা ভালোভাবে বেঁচে থাকতে পারছি। এটি কবিতার সেই মূল ভাবনার সঙ্গে মিলে যায়, যেখানে কবি বলেছেন—'তারাই মানুষ, তারাই দেবতা, গাহি তাহাদেরি গান।'
অতএব, চেয়ারম্যানের মনোভাব শ্রমজীবী মানুষের মর্যাদা ও অবদানের স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে 'কুলি-মজুর' কবিতার মূলভাবকেই প্রতিফলিত করে।