সৃজনশীল (CQ)
১. আর তাই তো কখনো আমি পড়তে দিই নি ধুলো, এই কালো এ-কারে আ-কারে তারা যেন ক্ষেতের সোনালি পাকা ধান থোকা থোকা পড়ে থাকা জুঁই।
তোমার জন্য জয় করেছি একটি যুদ্ধ একটি দেশের স্বাধীনতা।
- ক) কঠিন পাথরে কী লেখা হয়?১
- খ) 'এই অক্ষরে মাকে মনে পড়ে' বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন? ব্যাখ্যা কর।২
- গ) উদ্দীপকের 'তারা' 'এই অক্ষরে' কবিতার কিসের সাথে তুলনীয়? ব্যাখ্যা কর।৩
- ঘ) 'উদ্দীপকের শেষ দুটি চরণে 'এই অক্ষরে' কবিতার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ভাবার্থ ফুটে উঠেছে।' উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ কর।৪
উত্তর দেখুন
ক) কঠিন পাথরে শিলালিপি লেখা হয়।
খ) কবি 'এই অক্ষরে মাকে মনে পড়ে' বলার মাধ্যমে বাংলা অক্ষরের প্রতি বাঙালির গভীর সম্পর্ক এবং ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে বাংলা অক্ষর বাঙালির পরিচয়ের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত এবং মায়ের মতোই তা আমাদের চেতনা ও অস্তিত্বের অংশ। বাংলা ভাষা আমাদের আত্মবিশ্বাস ও ঐক্যকে শক্তিশালী করে এবং মনের অঙ্গনে সুর ও আনন্দ সৃষ্টি করে, যা মায়ের আশীর্বাদ ও স্নেহের মতোই আমাদের জীবনে প্রভাব ফেলে।
গ) উদ্দীপকের 'তারা' 'এই অক্ষরে' কবিতার বাংলা অক্ষর বা বর্ণমালার সাথে তুলনীয়।
উদ্দীপকে 'তারা' বলতে বাংলা লেখার এ-কার, আ-কার অর্থাৎ বাংলা অক্ষরকে বোঝানো হয়েছে। বক্তা কখনো এই অক্ষরে ধুলো পড়তে দেননি। তাঁর চোখে এই অক্ষরগুলো যেন ক্ষেতের সোনালি পাকা ধান আর থোকা থোকা পড়ে থাকা জুঁই ফুল—অর্থাৎ সমৃদ্ধি ও সৌন্দর্যের প্রতীক, পরম যত্নে আগলে রাখার সম্পদ।
'এই অক্ষরে' কবিতায়ও কবি মহাদেব সাহা বাংলা অক্ষরকে গভীর ভালোবাসার চোখে দেখেছেন। এই অক্ষরে তাঁর মাকে মনে পড়ে; বাংলা অক্ষর বাঙালির ভাষা, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের প্রতীক, যা বাঙালির মনে আনন্দ, আশা ও ঐক্য সৃষ্টি করে। উদ্দীপকের বক্তার মতো কবিও বাংলা অক্ষরকে প্রাণের সম্পদ মনে করেন।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের 'তারা' অর্থাৎ এ-কার, আ-কারে গড়া বাংলা অক্ষর 'এই অক্ষরে' কবিতার বাংলা অক্ষরের সাথে তুলনীয়।
ঘ) 'উদ্দীপকের শেষ দুটি চরণে 'এই অক্ষরে' কবিতার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ভাবার্থ ফুটে উঠেছে'—এই উক্তিটি যথার্থ।
প্রখ্যাত কবি মহাদেব সাহা তার 'এই অক্ষরে' কবিতায় বাংলা বর্ণমালা এবং ভাষার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন। বাংলা ভাষা বাঙালির প্রাণের ভাষা, এটি মায়ের ভাষা, এবং বাঙালির প্রথম শেখা বুলি। এই ভাষাকে বাঙালিরা মায়ের মতোই বুক দিয়ে আগলে রাখে, কারণ এটি তাদের শেকড়, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের প্রতীক। মাতৃভাষার মাধ্যমেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে, এবং এই ভাষার মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের উৎসাহিত করা হয়েছে। উদ্দীপকেও বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলা ভাষার অবদানের কথা তুলে ধরা হয়েছে। ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের প্রথম ধাপ, যা বাঙালির মধ্যে অধিকার সচেতনতা এবং সংগ্রামের প্রেরণা জুগিয়েছে। এই আন্দোলনই ছিল বাঙালির জাতীয় সংগ্রামের সূচনা, যা তাদেরকে মুক্তিযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করে এবং তারা তাদের স্বাধীনতা অর্জন করে।
সুতরাং, বলা যায় যে, 'এই অক্ষরে' কবিতায় কবি বাংলা ভাষার অবদানের কথা তুলে ধরেছেন, যা উদ্দীপকের শেষ দুটি চরণের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে।