সৃজনশীল (CQ)
১. ঘটনা ১ : জনাব সফিউল পূর্ব এশিয়ার একটি দেশে বেড়াতে গিয়েছেন। সমুদ্রবেষ্টিত দেশটির প্রাকৃতিক দৃশ্য অত্যন্ত মনোরম। দেশটি দ্বীপ প্রধান হলেও চারটি দ্বীপই অর্থনীতির ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা রাখছে।
ঘটনা-২ : জনাব কবীর দীর্ঘদিন যাবৎ পূর্ব এশিয়ার একটি দেশে কর্মরত আছেন। দেশটি পৃথিবীর মধ্যে সর্বাধিক জনবহুল দেশ হলেও অর্থনৈতিকভাবে বেশ সমৃদ্ধ।
- ক) পৃথিবীর বৃহত্তম পর্বতমালার নাম কী?১
- খ) ভারতকে পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন সভ্যতা সমৃদ্ধ দেশ বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।২
- গ) জনাব সফিউলের বেড়াতে যাওয়া দেশটির জলবায়ু কেমন? বর্ণনা কর।৩
- ঘ) ঘটনা-১ ও ঘটনা-২ এর দেশ দুইটির অর্থনীতির তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর।৪
উত্তর দেখুন
ক) পৃথিবীর বৃহত্তম পর্বতমালার নাম হিমালয় পর্বতমালা।
খ) ভারত পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন সভ্যতাসমৃদ্ধ দেশ। পাঁচ হাজার বছর আগের সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া গেছে এ দেশটিতে। পশ্চিম ভারতের (মহারাষ্ট্র) অজন্তা পর্বতগুহার চিত্রকর্ম, সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা অজস্র প্রাচীন মন্দির ও ভাস্কর্য, আগ্রার তাজমহল, দিল্লির কুতুব মিনার, লালকেল্লা প্রভৃতি ভারতের প্রাচীন সমৃদ্ধ সভ্যতার পরিচয় বহন করে।
গ) জাপানের জলবায়ু প্রধানত নাতিশীতোষ্ণ প্রকৃতির। তবে উত্তর থেকে দক্ষিণে জলবায়ুর মধ্যে বিরাট পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। জাপানের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যগুলো ছয়টি প্রধান জলবায়ু অঞ্চলের মধ্যে বিভাজিত হয়েছে। সর্ব উত্তরে অবস্থিত অঞ্চলে আর্দ্র মহাদেশীয় জলবায়ু দেখা যায়। এখানে শীতকাল দীর্ঘ ও শীতল এবং গ্রীষ্মকাল উষ্ণ থেকে শীতল। এখানে ভারী বৃষ্টিপাত দেখা যায় না। তবে শীতকালে দ্বীপগুলো গভীর তুষারের চাদরে আচ্ছাদিত হয়ে যায়। গ্রীষ্মকালের শেষ দিকে এবং শরৎকালের গোড়ার দিকে টাইফুন ঝড় ভারি বৃষ্টিপাত ঘটায়। জাপান দ্বীপপ্রধান পূর্ব এশিয়ার একটি দেশ। জলবায়ুগত বৈশিষ্ট্যের কারণে এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও অনেক মনোমুগ্ধকর। যা উদ্দীপকে জনাব সফিউল সাহেবের দৃষ্টিগোচর হয়।
ঘ) ঘটনা-১ এর দেশটি হলো জাপান আর ঘটনা-২ এ জনাব কবীর পূর্ব এশিয়ার দেশ চীনে কর্মরত যা পৃথিবীর সর্বাধিক জনবহুল দেশ। জাপান পৃথিবীর অন্যতম শিল্পোন্নত দেশ। জাপানের কৃষিপণ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ধান, গম, বার্লি, সয়াবিন, মিষ্টি আলু, আখ, বিট, আপেল ও আঙুর। জাপানের প্রধান শিল্প হচ্ছে লোহা ও ইস্পাত, ইলেকট্রনিক্স, জাহাজ ও গাড়ি নির্মাণ, কলকব্জা, ওষুধ, বিদ্যুৎ সামগ্রী ও বিভিন্ন প্রকার ভারি যন্ত্রপাতি। শিল্পে জাপান পৃথিবীর শীর্ষস্থানে রয়েছে। দেশটির অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তিই হলো শিল্প। দেশটিতে কিছু খনিজ সম্পদও রয়েছে, তবে পরিমাণে কম বলে শিল্পের কাঁচামাল ও জ্বালানি মূলত আমদানি করতে হয়। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা, লোহা, ম্যাংগানিজ, পেট্রোলিয়াম, সিসা, সোনা, রুপা প্রভৃতি। চীনও শিল্পোন্নত দেশ। তবে চীনের অর্থনীতি এখনও প্রধানত কৃষিনির্ভর।) কৃষিজাত দ্রব্যের মধ্যে ধানই প্রধান। অন্যান্য কৃষিজাত দ্রব্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে গম, আলু, বীট, তুলা, চা, তামাক পাতা, তেল বীজ, আখ, সয়াবিন, কোকো, পামতেল প্রভৃতি। চীনের প্রধান শিল্প হচ্ছে লৌহ, ইস্পাত, রেশম, সার, যন্ত্রপাতি, সিমেন্ট, কাগজ, চিনি, ওষুধ প্রভৃতি। খনিজ সম্পদের দিক থেকেও চীন অত্যন্ত সম্পদশালী। দেশটির ভূগর্ভে রয়েছে মূল্যবান খনিজ সম্পদ, যেমন পেট্রোলিয়াম, আকরিক লৌহ, তামা, অ্যালুমিনিয়াম, স্বর্ণ, কয়লা প্রভৃতি। এছাড়াও চীন বনজ সম্পদে সমৃদ্ধ। এর বনভূমিতে রয়েছে ৩২ হাজারেরও বেশি উন্নত প্রজাতির উদ্ভিদ। সুতরাং জাপানের অর্থনীতি মূলত শিল্পনির্ভর এবং খনিজে তুলনামূলক দরিদ্র, অন্যদিকে চীন কৃষি, শিল্প, খনিজ ও বনজ—সব দিকেই সম্পদশালী।