ক) জীববিজ্ঞানের যে শাখায় জীবের বংশগতি সম্বন্ধে বিশদ আলোচনা ও গবেষণা করা হয়, তাকে বলা হয় বংশগতিবিদ্যা।
খ) অনুলিপন বলতে একটি DNA অণু থেকে আর একটি DNA অণু তৈরি বা সংশ্লেষণের প্রক্রিয়াকে বোঝায়।
এই পদ্ধতিতে DNA সূত্র দুটির হাইড্রোজেন বন্ধন ভেঙে গিয়ে আলাদা হয় এবং প্রতিটি সূত্র তার পরিপূরক নতুন সূত্র সৃষ্টি করে।
গ) সিফাতের সন্তানদের ক্ষেত্রে এরূপ শারীরিক গঠনগত ভিন্নতার কারণ প্রকট ও প্রচ্ছন্ন জিনের সক্রিয়তা।
সন্তানের বৈশিষ্ট্য আসে পিতামাতা উভয়ের থেকে। জীবের যাবতীয় বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী এককের নাম জিন। পিতামাতা থেকে প্রথম বংশধরে জীবের যে বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায় তাকে প্রকট বৈশিষ্ট্য বলে। এই বৈশিষ্ট্য প্রকাশের জন্য যে জিন দায়ী তাকে প্রকট জিন বলে। যে বৈশিষ্ট্য দ্বিতীয় বংশধরে এক−চতুর্থাংশ প্রকাশ পায় তাকে প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য বলে। এই বৈশিষ্ট্য প্রকাশের জন্য যে জিন দায়ী তাকে প্রচ্ছন্ন জিন বলে। যে জিন অধিক সক্রিয় সেই জিনের বৈশিষ্ট্য প্রকাশিত হয়।
উদ্দীপকে সিফাতের বড় মেয়েটি দেখতে হুবহু সিফাতের মতো হয়েছে। এক্ষেত্রে সিফাতের অধিকাংশ বৈশিষ্ট্য প্রকট আকারে বড় মেয়ের দেহে প্রকাশ পেয়েছে। এখানে মায়ের বৈশিষ্ট্য প্রচ্ছন্ন আকারে আছে। ছোট মেয়ের চুল ও গায়ের রং বাবার মতো হয়েছে কিন্তু দেখতে মায়ের মতো হয়েছে। এক্ষেত্রে কিছু বৈশিষ্ট্য সিফাতের এবং কিছু বৈশিষ্ট্য তার স্ত্রীর থেকে এসেছে।
সুতরাং প্রকট ও প্রচ্ছন্ন জিনের বৈশিষ্ট্য প্রকাশের ভিন্নতার কারণে সিফাতের মেয়েদের বৈশিষ্ট্য ভিন্নতর হয়েছে।
ঘ) সিফাতের ক্ষুব্ধ হওয়াটা অযৌক্তিক। মেয়ে সন্তান জন্ম হওয়ার ব্যাপারে মায়ের কোনো ভূমিকা নেই। পিতাই সম্পূর্ণরূপে দায়ী।
কারণ সবসময় মাতা কেবলমাত্র X বহনকারী ডিম্বাণু তৈরি করে। অপরদিকে পিতা X ও Y উভয় ধরনের শুক্রাণু উৎপাদন করে। গর্ভধারণকালে মাতার X বহনকারী ডিম্বাণুর সাথে পিতার X বহনকারী শুক্রাণু মিলিত হলে জাইগোট হবে XX অর্থাৎ সন্তান হবে মেয়ে। আর যদি Y বহনকারী শুক্রাণু নিষেকে অংশগ্রহণ করে সেক্ষেত্রে জাইগোট হবে XY অর্থাৎ সন্তান হবে ছেলে। সুতরাং সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রে সন্তানটি ছেলে না মেয়ে হবে এ ব্যাপারে মাতা কোনোক্রমেই দায়ী নয়।
তাই বলা যায়, মেয়ে সন্তান জন্মের জন্য সিফাতের এই ক্ষুব্ধ হওয়াটা একেবারেই অযৌক্তিক।