ক) শ্রেণিবিন্যাস হলো জীবজগৎকে ধাপে ধাপে বিন্যস্ত করার পদ্ধতি।
খ) উদ্ভিদ বা প্রাণীর জেনাস বা গণ নামের পরে একটি প্রজাতিক পদ যুক্ত করে সর্বমোট দুটি পদ সহযোগে যে নামকরণ করা হয় তাকে বৈজ্ঞানিক নামকরণ বা দ্বিপদ নামকরণ বলা হয়।
মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম Homo sapiens। এখানে Homo হলো গণ নাম আর sapiens হলো প্রজাতিক পদ।
গ) P প্রাণীটি অ্যানিম্যালিয়া (Animalia) জগতের আথ্রোের্পাডা (Arthropoda) পর্বের প্রাণী।
এই পর্বটি প্রাণিজগতের বৃহত্তম পর্ব। এরা পৃথিবীর প্রায় সবর্ত্র সকল পরিবেশে বাস করতে সক্ষম। এ পর্বের অনেক প্রজাতির প্রাণী ডানার সাহায্যে উড়তে পারে। এরা অমেরুদণ্ডী।
P প্রাণীটি ঘাসফড়িং। এর সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো :
১. দেহ খণ্ডায়িত ও সন্ধিযুক্ত উপাঙ্গ বিদ্যমান।
২. মাথায় একজোড়া পুঞ্জাক্ষি ও অ্যান্টেনা থাকে।
৩. নরম দেহ শক্ত কাইটিন সমৃদ্ধ আবরণী দ্বারা আবৃত।
৪. এর দেহের রক্তপূর্ণ গহ্বর হিমোসিল নামে পরিচিত।
ঘ) P প্রাণীটি অমেরুদণ্ডী শ্রেণির আর Q প্রাণীটি মেরুদণ্ডী শ্রেণির অন্তর্গত। প্রাণী দুইটি ভিন্ন শ্রেণিতে থাকার কারণ হলো এদের মেরুদণ্ডের ভিন্নতা।
আমরা জানি, মেরুদণ্ডের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে প্রাণিজগৎকে দুটি ভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। যথা :- অমেরুদণ্ডী ও মেরুদণ্ডী প্রাণী।
P প্রাণীটির বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ :
১. এর মেরুদণ্ড নেই।
২. কঙ্কালতন্ত্র সুগঠিত নয়।
৩. চোখ পুঞ্জাক্ষি।
৪. হৃৎপিণ্ড উন্নত ধরনের নয়।
৫. সাধারণত লেজ থাকে না।
Q প্রাণীটির বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ :
১. এর মেরুদণ্ড আছে।
২. কঙ্কালতন্ত্র সুগঠিত।
৩. চোখ সরল প্রকৃতির।
৪. হৃৎপিণ্ড উন্নত ধরনের।
৫. ফুসফুসের সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়।
অতএব, উপরিউক্ত আলোচনা বিশ্লেষণ করে বলা যায় যে, উদ্দীপকের প্রাণী দুইটি ভিন্ন শ্রেণিতে থাকার কারণ তাদের গঠন বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতা।