ক) ক্রোমোজোম হলো নিউক্লিয়াসে অবস্থিত নির্দিষ্ট সংখ্যক সুতার মতো অংশ যেগুলো জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্য বহন করে।
খ) ইন্টারফেজ বলতে কোষ বিভাজনের আগে নিউক্লিয়াসের প্রস্তুতিমূলক অবস্থাকে বোঝায়।
মাইটোসিস বিভাজনে প্রথমে নিউক্লিয়াসের বিভাজন ও পরে সাইটোপ্লাজমের বিভাজন সম্পন্ন হয়। নিউক্লিয়াসের বিভাজনকে ক্যারিওকাইনেসিস ও সাইটোপ্লাজমের বিভাজনকে সাইটোকাইনেসিস বলে। বিভাজন শুরু হওয়ার আগে কোষের নিউক্লিয়াসকে কিছু প্রস্তুতিমূলক কাজ করতে হয়। এ অবস্থাকে ইন্টারফেজ বলে।
গ) উদ্দীপকে দ্বিতীয় প্রকৃতির কোষ বিভাজনটি হলো মিয়োসিস, যার মাধ্যমে জননকোষ উৎপন্ন হয়। এটি যেভাবে ঘটে :
মানুষের মতো উন্নত প্রাণীতে পরিপক্বতা অর্জনের পর শুক্রাশয় ও ডিম্বাশয়ের জননমাতৃকোষে মিয়োসিস ঘটে।
এ বিভাজনে মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস পরপর দুবার বিভাজিত হয়, কিন্তু ক্রোমোজোম বিভাজিত হয় মাত্র একবার। প্রথম বিভাজনকে মিয়োসিস-১ এবং দ্বিতীয় বিভাজনকে মিয়োসিস-২ বলে।
মিয়োসিস-১ এ অপত্য কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের অর্ধেক হয়ে যায়। মিয়োসিস-২ মাইটোসিসের মতো ঘটে।
ফলে একটি জননমাতৃকোষ থেকে চারটি অপত্য কোষ তৈরি হয় এবং প্রতিটিতে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের অর্ধেক থাকে। মানুষের ক্ষেত্রে ৪৬টি ক্রোমোজোমের মাতৃকোষ থেকে ২৩টি ক্রোমোজোমবিশিষ্ট শুক্রাণু বা ডিম্বাণু তৈরি হয়।
ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম কোষ বিভাজনটি হলো মাইটোসিস কোষ বিভাজন। এর মাধ্যমে মানবদেহ বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়। দ্বিতীয় কোষ বিভাজনটি হলো মিয়োসিস কোষ বিভাজন। এর মাধ্যমে জননকোষ সৃষ্টি হয়।
এই দুটিই কোষ বিভাজন প্রক্রিয়া হলেও এদের মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান। প্রক্রিয়া দুটির তুলনামূলক আলোচনা নিচে উপস্থাপন করা হলো :
মাইটোসিস :
১. এ প্রক্রিয়া জীবের দেহকোষে সংঘটিত হয়।
২. এ প্রক্রিয়ায় মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস মাত্র একবার বিভাজিত হয়।
৩. এ বিভাজনের ফলে দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি হয়।
৪. এ প্রক্রিয়ায় মাতৃকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা এবং অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা সমান থাকে। অর্থাৎ ক্রোমোজোম সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকে।
মিয়োসিস :
১. এ প্রক্রিয়া ডিপ্লয়েড জীবের জনন মাতৃকোষে ও হ্যাপ্লয়েড জীবের জাইগোটে সংঘটিত হয়।
২. এ প্রক্রিয়ায় নিউক্লিয়াস পরপর দুবার বিভাজিত হয়।
৩. এ বিভাজনের ফলে চারটি অপত্য কোষ সৃষ্টি হয়।
৪. এ প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট চারটি কোষের নিউক্লিয়াসে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃ নিউক্লিয়াসের ক্রোমোজোম সংখ্যার অর্ধেক হয়।
উপরের আলোচনা থেকে দেখা যাচ্ছে যে, মাইটোসিস ও মিয়োসিস কোষ বিভাজনের মধ্যে বৈশিষ্ট্যগত ভিন্নতা রয়েছে।
অতএব, আমার মতামত হলো, উপরে উল্লিখিত কোষ বিভাজন প্রক্রিয়া দুটি একই নয় বরং সম্পূর্ণ ভিন্ন।