ক) একই দ্রাবক (পানি) বিশিষ্ট দুটি ভিন্ন ঘনত্বের দ্রবণ একটি অর্ধভেদ্য পর্দা দ্বারা পৃথক থাকলে যে ভৌত প্রক্রিয়ায় দ্রাবক (পানি) কম ঘনত্বের দ্রবণ থেকে অধিক ঘনত্বের দ্রবণের দিকে ব্যাপিত হয় তাই অভিস্রবণ।
খ) স্টার্চ পানিতে দ্রবীভূত হয় না কিন্তু নির্দিষ্ট মাত্রায় পানি শোষণ করে স্ফিত হতে পারে। কলয়েডধর্মী এ গুণের জন্যই স্টার্চকে কলয়েডধর্মী পদার্থ বলে।
গ) স্যারের বর্ণিত প্রক্রিয়াটি হলো অভিস্রবণ।
মাটি থেকে পানি ও পানিতে দ্রবীভূত খনিজ লবণ উদ্ভিদের সজীব কোষ অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় টেনে নেয়। স্থলে বসবাসকারী উদ্ভিদগুলো মূলরোমের সাহায্যে মাটি থেকে পানি শোষণ করে। মূলরোমের কোষীয় দ্রবণের ঘনত্বের তুলনায় তার পরিবেশের দ্রবণের ঘনত্ব কম থাকায় পানি (দ্রাবক) কোষের মধ্যে অন্তঃঅভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করে। এক্ষেত্রে জীব কোষের কোষাবরণ বা প্লাজমা পর্দা অর্ধভেদ্য পর্দা হিসেবে কাজ করে।
ঘ) স্যারের উক্তিটি হলো প্রস্বেদন উদ্ভিদ জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
স্যার ক্লাসে পড়ানোর সময় বলেন যে, প্রস্বেদন প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ পানি বের করে দেয়। তিনি আরও উক্তি করেন যে, এটি উদ্ভিদ জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
স্যারের এ উক্তিটি করার কারণ হলো উদ্ভিদ জীবনে প্রস্বেদন একটি অনিবার্য প্রক্রিয়া।
প্রস্বেদনের ফলে উদ্ভিদ তার দেহ থেকে পানিকে বের করে অতিরিক্ত পানির চাপ থেকে মুক্ত করে। প্রস্বেদনের ফলে কোষ রসের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়। কোষ রসের ঘনত্ব বৃদ্ধি অন্তঃ অভিস্রবণের সহায়ক হয়ে উদ্ভিদকে পানি ও খনিজ লবণ শোষণে সাহায্য করে। উদ্ভিদ দেহকে ঠাণ্ডা রাখে এবং পাতার আর্দ্রতা বজায় রাখে। প্রস্বেদনের ফলে খাদ্য তৈরির জন্য পাতায় অবিরাম পানি সরবরাহ সম্ভব হয়। পাতায় প্রস্বেদনের ফলে জাইলেম বাহিকায় পানির যে টান সৃষ্টি হয়, তা মূলরোম কর্তৃক পানি শোষণে উদ্ভিদের শীর্ষে পরিবহনে সাহায্য করে।
উপরিউক্ত আলোচনা বিশ্লেষণ করে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, প্রস্বেদন উদ্ভিদ জীবনে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়া। অতএব, স্যারের উক্তিটি যথার্থ যুক্তিসঙ্গত।