ক) অন্যের লেখা তথা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সাহিত্যকর্ম, গবেষণা প্রতিবেদন, সম্পাদনা কর্ম ইত্যাদি হুবহু নকল বা আংশিক পরিবর্তন করে নিজের নামে প্রকাশ করাকে প্লেজারিজম বলে।
খ) নিম্ন তাপমাত্রায় চিকিৎসা পদ্ধতি হলো ক্রায়োসার্জারি। ক্রায়োসার্জারি এমন একটি চিকিৎসা পদ্ধতি যার মাধ্যমে অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রায় শরীরের অস্বাভাবিক বা রোগাক্রান্ত কোষগুলোকে ধ্বংস করা হয়। এক্ষেত্রে যে তাপমাত্রায় বরফ জমাট বাঁধে দেহকোষে তার চাইতেও নিম্ন তাপমাত্রার ধ্বংসাত্মক শক্তির সুবিধা গ্রহণ করা হয়। এতে দেহকোষের অভ্যন্তরস্থ বরফ ক্রিস্টালগুলোর বিশেষ আকার বা বিন্যাসকে ছিন্ন করে দূরে সরিয়ে দেওয়া যায়। ক্রায়োসার্জারির ক্ষেত্রে সাধারণত পৃথকভাবে তরল নাইট্রোজেন, আর্গন এবং সমন্বিতভাবে ডাইমিথাইল ইথার ও প্রোপেনের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়।
গ) উদ্দীপকে বর্ণিত নির্বাচন কমিশনের এর প্রযুক্তিটি হলো বায়োমেট্রিক্স প্রযুক্তি। এ প্রযুক্তিতে দৈহিক গঠন ও আচরণগত বৈশিষ্ট্য পরিমাপের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তিকে অদ্বিতীয়ভাবে শনাক্ত করা যায়। কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বায়োমেট্রিক্স প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়। এক্ষেত্রে মানুষের বায়োলজিক্যাল ডেটা কম্পিউটারের ডেটাবেজে সংরক্ষিত করে রাখা হয় এবং পরবর্তীতে এসব ডেটা নিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিলিয়ে দেখা হয়। ডেটা মিল পেলে ব্যক্তির বৈধতা নিশ্চিত হয়। কম্পিউটার বিজ্ঞানে বায়োমেট্রিক্সকে ব্যক্তি শনাক্তকরণ এবং কোনো সিস্টেমে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এই পদ্ধতির মাধ্যমে বায়োমেট্রিক্স ডিভাইসগুলো ব্যবহারকারীদের কোন প্রোগ্রাম, সিস্টেম বা কক্ষ ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে থাকে। এতে করে ঐ ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা বজায় থাকে। আবার বায়োমেট্রিক্স প্রযুক্তির সাহায্যে অনুমোদিত ব্যক্তির সঠিক প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করা যায়। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের একটি দল হতে কাউকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করার কাজেও বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। সুতরাং, নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক্স প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ঘ) উদ্দীপক অনুসারে বাড়িতে ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি অর্থাৎ ভার্চুয়াল রিয়েলিটির প্রভাব ও নেতিবাচক দিক বিশ্লেষণ করা হলো−
ভার্চুয়াল রিয়েলিটির যেমন ভালো দিক রয়েছে তেমনি এর নেতিবাচক প্রভাবও রয়েছে। প্রাত্যহিক জীবনে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির প্রভাব আলোচনা করা হলো :
i. চিকিৎসাক্ষেত্রে সিম্যুলেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার করে ডাক্তার ও নার্সদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
ii. মিলিটারি প্রশিক্ষণে ফ্লাইট সিম্যুলেটর ব্যবহার করে বিমান চালানো প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
iii. সৈন্যদের অস্ত্রচালনার জন্য ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করা হয়। ফলে সৈন্যদের উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যায়।
iv. কোনো অবকাঠামো যেমন : ব্রিজ, ফ্লাইওভার, বিল্ডিং, শপিং কমপ্লেক্স তৈরির পূর্বে আমরা তার সিম্যুলেটেড সফটওয়্যার তৈরি করে বাস্তবের অবস্থা দেখতে পারি।
v. ব্যবসা-বাণিজ্যে তথ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সহজ করার জন্য ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করা হয়।
vi. ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহারকারী কম্পিউটারে সহজ ও সুন্দরভাবে ফাইল সংরক্ষণ করতে পারবে এবং সহজে তা খুঁজে বের করতে পারবে এবং তাকে বাস্তবের ফাইল ড্রয়ার খোলার অনুভূতি প্রদান করবে।
vii. ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে ভিডিও গেমস খেলা যায়, যা বাস্তবের অনুভূতি প্রদান করে।
viii. ঝুঁকিপূর্ণ কাজের জন্য সিম্যুলেশন সফটওয়্যার ব্যবহার করে মানুষের জীবনকে অনেক বেশি বৈজ্ঞানিক ও ঝুঁকিপূর্ণ করবে।
ix. ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহারের ফলে মানুষের চিন্তা-চেতনায় ব্যাপক পরিবর্তন আসছে। ফলে সামাজিক জীবনে এর প্রভাব ফেলবে। যেমন : উন্নত দেশে বড়দিনের উৎসবে উদাহরণস্বরূপ ভার্চুয়াল রিয়েলিটি সম্পর্কিত যন্ত্রপাতি, সফটওয়্যার ও ছায়াছবি প্রদান করা হয়।
x. ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করে অবাস্তব সব দৃশ্যকে বাস্তব দৃশ্যে পরিণত করা হচ্ছে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করে টাইটানিক, সিন্দাবাদ, স্পাইডারম্যান ইত্যাদি বিভিন্ন ছবিতে আশ্চর্যজনক দৃশ্য তৈরি করা হয়। ফলে বিনোদনে এসেছে নতুন মাত্রা।
xi. ড্রাইভারদের প্রশিক্ষণে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করা হয়।
xii. ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ইতিবাচক প্রভাবের পাশাপাশি নেতিবাচক প্রভাবও রয়েছে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে ব্যবহৃত যন্ত্রসমূহ উচ্চমূল্য এবং সফটওয়্যারসমূহ তৈরি করাও জটিল ও ব্যয়বহুল।