ক) তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে সরকারি সেবাসমূহ প্রদান করা এবং সরকারি কাজকর্ম পরিচালনা করাকে ই-গভর্ন্যান্স বলে।
খ) কোনো কম্পিউটার সিস্টেম নেটওয়ার্ক, ডেটার উপর অননুমোদিতভাবে অধিকার লাভ করার উপায়কে হ্যাকিং বলে। হ্যাকিং-এর মূল উদ্দেশ্য হলো কোনো ব্যক্তির তথ্যের ক্ষতিসাধন করা কিংবা সিস্টেমের ক্ষতি করা আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ত্রুটি জানান দেওয়া। যে সকল ব্যক্তিবর্গ এ ধরনের কাজের সাথে জড়িত তাদের হ্যাকার বলে। হ্যাকাররা অন্যের ই-মেইল দেখতে পারে, ওয়েব সার্ভারে বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করতে পারে অথবা নেটওয়ার্কে থাকা ফাইল চুরি করতে পারে। যার সবই নৈতিকতাবিরোধী কর্মকাণ্ড।
গ) উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রথম বিষয়টি হলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটি। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বা অনুভবে বাস্তবতা বলতে এমন এক কৃত্রিম পরিবেশ বোঝায় যেখানে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে বাস্তবের অনুকরণে সৃষ্ট দৃশ্যে মগ্ন হয়ে বাস্তবের ন্যায় শ্রবণ, দর্শন, দৈহিক ও মানসিক ভাবাবেগ, উত্তেজনা ইত্যাদির অনুভূতি অর্জন করা যায়। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে এই ভার্চুয়াল রিয়েলিটির যেসব প্রভাব রয়েছে তা হলো-
i. চিকিৎসা ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রয়োগ করে চিকিৎসা সংক্রান্ত ভুল ও ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। যেমন- সিম্যুলেটেড সার্জারির মাধ্যমে নতুন ডাক্তার ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব হয়।
ii. সামরিক বাহিনীতে অনেক বছর ধরে মিলিটারি প্রশিক্ষণে ফ্লাইট সিম্যুলেটর ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এছাড়াও ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে সিম্যুলেটেড ওয়ার দ্বারা সৈন্যদের অধিক বাস্তবধর্মী ও উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়।
iii. ব্যবসা-বাণিজ্যেও ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে দুরদর্শিতা সম্পন্ন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করা সম্ভব হয়।
iv. ভার্চুয়াল রিয়েলিটির সাহায্যে বিনোদন গ্রহণ ও বিজ্ঞাননির্ভর গবেষণা পরিচালনা করা যায়।
তবে উপরোউল্লিখিত ইতিবাচক দিকসমূহের পাশাপাশি বর্তমান সমাজের মনুষ্যত্বহীনতা বা ডিহিউম্যানাইজেশন (Dehumanization) ইস্যুটি ভার্চুয়াল রিয়েলিটির একটি নেতিবাচক দিক। যদি বিজ্ঞানীদের ধারণা অনুযায়ী ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বিস্তৃতি লাভ করতে থাকে তাহলে মানুষের পারস্পরিক ক্রিয়া উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে। কারণ মানুষ তখন ভার্চুয়াল রিয়েলিটি দ্বারা বাস্তব জীবনের চেয়েও অনেক ভালো সঙ্গী ও মনের মতো পরিবেশ পাবে। আর মানুষ যদি এভাবে goggles আর gloves কে মানুষ ও সমাজের বিকল্প হিসেবে বেছে নেয় তাহলে মানব সমাজ বিলুপ্ত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাবে।
সুতরাং, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রযুক্তির অনেক সুবিধার পাশাপাশি কিছু অসুবিধাও রয়েছে। আর এই অসুবিধাজনিত প্রভাবগুলো বিশেষ বিবেচনায় রাখলে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির প্রভাব দ্বারা কল্যাণমূলক কাজ করা সম্ভব হবে।
ঘ) উদ্দীপকে উল্লেখিত দ্বিতীয় বিষয়টি হলো আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বলতে বস্তুতপক্ষে যন্ত্রের বুদ্ধিমত্তাকে বোঝায়, অর্থাৎ কোনো ঘটনা বা পরিস্থিতির সাপেক্ষে কোনো যন্ত্র যে ধরনের সিদ্ধান্ত নেবে তা প্রয়োগ করার প্রযুক্তিই হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারিক প্রয়োগ আমাদের জীবনকে আরও নির্ভর ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলেছে। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তিনির্ভর এমন কোনো ক্ষেত্র খুঁজে পাওয়া যাবে না, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারিক প্রয়োগ নেই। যেমন- চিকিৎসাবিদ্যায় রোগ নির্ণয়ে, স্টক মার্কেটের শেয়ার লেনদেনে, রোবট কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে, আইনি সমস্যার সঠিক সমাধানে, বিমান চালনা যুদ্ধক্ষেত্র পরিচালনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার হচ্ছে। এমনকি মানুষ তার প্রয়োজনে ও একাকিত্ব দূরীকরণে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির প্রয়োগে তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহকারী তৈরি করছে। ফলে মানুষের জটিল চিন্তাভাবনাগুলোকে যন্ত্রের মাধ্যমে আরও নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে। যেখানে মানুষের জ্ঞানকে আরও সুগঠিত করে ব্যবহার করা হচ্ছে। যার দরুন মানুষ তার জীবনের চারপাশেই একটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উন্নত পরিবেশ পাচ্ছে। ফলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের জীবনকে আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলছে।