ক) যেকোনো একটি পরিবেশের অজীব এবং জীব উপাদানসমূহের মধ্যে পারস্পরিক ক্রিয়া, আদান-প্রদান ইত্যাদির মাধ্যমে পরিবেশের যে তন্ত্র গড়ে ওঠে, সেটিই বাস্তুতন্ত্র।
খ) বিয়োজক বলতে বাস্তুতন্ত্রের অন্তর্গত আণুবীক্ষণিক মৃতজীবী জীব যেমন : ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ইত্যাদিকে বোঝায়।
বিয়োজক মৃত উৎপাদক ও খাদকের জটিল দেহকে বিয়োজিত সরল করে। এই সরল জৈব যৌগের কিছু অংশ তারা খাদ্য হিসেবে নিজেরা গ্রহণ করে এবং বাকি অংশ অজৈব লবণ বা মৌলরূপে প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দেয়। বিয়োজকদের দ্বারাই প্রকৃতিতে অজীব ও জীব উপাদানের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষিত হয়।
গ) ফাহিমের দেখা জীবগুলো নিয়ে ঐ বনে অনেকগুলো খাদ্যশৃঙ্খল গড়ে উঠেছে। এগুলোর মধ্যে একটি খাদ্যশৃঙ্খল নিম্নরূপ:
ঘাস ও লতাগুল্ম → হরিণ → বাঘ
সূর্যের আলো ও ক্লোরোফিলের সহায়তায় ঘাস ও লতাগুল্ম নিজেদের খাদ্য নিজেরা উৎপাদন করে। এগুলো উৎপাদক। এসব উৎপাদকদের খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। প্রথম স্তরের খাদক হরিণেরা বাঘ হরিণ শিকার করে তাদের খায়। এ খাদ্যশৃঙ্খলে বাঘ হলো সর্বোচ্চ স্তরের খাদক।
এসব উৎপাদক ও খাদকের মৃত্যুর পর বিয়োজকরা এদের দেহকে অজৈব যৌগে পরিণত করে। এভাবে ফাহিমের দেখা জীবগুলো দিয়ে ঐ বনে তৈরি খাদ্য শৃঙ্খলে জৈব ও অজৈব যৌগের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষিত হয়।
ঘ) বড় বড় গাছপালা কেটে ফেলা অংশে প্রাণীর সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণ গাছপালার ওপর প্রাণীদের নির্ভরশীলতা।
একটি অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্র কার্যকরী রাখার জন্য উৎপাদক, খাদক এবং বিয়োজক প্রত্যেকে একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। একটিতে ঘাটতি হলে অন্যটিতে এর প্রভাব পড়ে।
ফাহিম বনে বেড়াতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের গাছপালার মাঝে বিচিত্র ধরনের প্রাণীর উপস্থিতি লক্ষ করেছে। বনের গাছপালা হলো উৎপাদক। কিন্তু সে দেখেছে যে, বনের একটি অংশের বড় বড় গাছপালা কেটে ফেলায় তার প্রভাব পড়েছে সরাসরি প্রথম স্তরের খাদক খরগোশ, হরিণ ও বানরের ওপর। খাদ্য ও আবাসস্থলের অভাবে। এসব জীব বনের অন্যত্র যেখানে তাদের খাবারের ভালো ব্যবস্থা আছে সেখানে সরে গেছে। প্রথম স্তরের খাদকের অভাবে সেখানে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও সর্বোচ্চ স্তরের খাদকদের বিচরণও অনেকাংশে কমে গেছে।
অতএব, উপরিউক্ত কারণেই বড় বড় গাছপালা কেটে ফেলা অংশে প্রাণীর সংখ্যা কমে গেছে।