ক) অধ্যাপক ফ্রেড কোহেন ভাইরাসের নামকরণ করেছেন।
খ) ডিলিট অর্থ মুছে ফেলা। মূলত সফটওয়্যার আনইনস্টল করার মাধ্যমে আমরা আমাদের আইসিটি যন্ত্র থেকে যেকোনো ইনস্টল করা সফটওয়্যার মুছে ফেলতে পারি। কিন্তু সেক্ষেত্রে আনইনস্টল করা সফটওয়্যারটির কিছু অংশ অপারেটিং সিস্টেমের রেজিস্ট্রি ফাইলে থেকে যায়। তাই আইসিটি যন্ত্র থেকে কোনো সফটওয়্যার আনইনস্টল করার পর তাকে নিয়ম অনুযায়ী ডিলিট করতে হয়। এতে আনইনস্টল করা সফটওয়ারটি আইসিটি যন্ত্র থেকে সম্পূর্ণভাবে মুছে যায়।
গ) জাফরের বিরক্তির কারণ তার ল্যাপটপের গতি হ্রাস। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে প্রসেসর ও সফটওয়্যারনির্ভর যন্ত্রই হলো মূল যন্ত্র। এই যন্ত্রটি ল্যাপটপ, ডেস্কটপ বা ট্যাবলেট যা-ই হোক না কেন নতুন অবস্থায় খুব ভালো বা দ্রুত গতিতে কাজ করে। কিন্তু কিছু দিন ব্যবহার করার পর এটি ক্রমশ ধীর হয়ে আসে। অর্থাৎ পুরনো হলে আইসিটি যন্ত্রের গতি কমে যায়। তখন কোনো একটা কমান্ড দিয়ে ব্যবহারকারীকে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। এ অবস্থা ব্যবহারকারীর মনে বিরক্তি সৃষ্টি করে। উদ্দীপকে জাফর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার পর তার বাবা একটি কোরআই ফাইভ ল্যাপটপ কিনে দেয়। নতুন অবস্থায় ল্যাপটপটির গতি এত বেশি ছিল যে জাফর তাতে মুগ্ধ ছিল। কিন্তু মাস তিনেক পরে তার সে মুগ্ধতা কেটে যায়। সেখানে বিরক্তি ভিড় করে। যেহেতু তার মুগ্ধতার মূল কারণ ছিল ল্যাপটপটির দ্রুতগতি সেহেতু তার বিরক্তির কারণ হলো ল্যাপটপটির গতি হ্রাস। অর্থাৎ পুরনো হওয়ার সাথে সাথে ল্যাপটপটির গতি হ্রাস পেয়েছে। তাই বলা যায়, ল্যাপটপের গতি হ্রাসই জাফরের বিরক্তির কারণ।
ঘ) জাফরের সমস্যা সমাধানে সফটওয়্যারের গুরুত্ব অপরিসীম। কেননা জাফরের মূল সমস্যা হলো তার ল্যাপটপে গতি হ্রাস। ল্যাপটপ একটি আইসিটি যন্ত্র। এ ধরনের যন্ত্র নতুন অবস্থায় খুব ভালো বা দ্রুত গতিতে কাজ করলেও যত দিন যায় ততই এর গতি ধীর হয়ে আসে। তাই আইসিটি যন্ত্রের গতি বজায় রাখার জন্য এর সফটওয়্যারভিত্তিক রক্ষণাবেক্ষণ একান্ত আবশ্যক। নিচে ল্যাপটপের গতি বজায় রাখার ক্ষেত্রে সফটওয়্যারের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো :
জাফর যদি তার ল্যাপটপে মাইক্রোসফট কোম্পানির উইনডোজ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে থাকে তাহলে তাকে তার অপারেটিং সিস্টেমটি সবসময় আপডেট রাখতে হবে। ইন্টারনেট সংযুক্ত থাকলে এই আপডেটগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে হয়ে থাকে।
ল্যাপটপটিকে সচল ও গতিশীল রাখার জন্য তাকে মাঝে মাঝে রেজিস্ট্রি ক্লিনআপ ব্যবহার করতে হবে। যদি সে তা না করে তাহলে তার আইসিটি যন্ত্রটি ঠিকভাবে কাজ করবে না এবং তার জন্য তা বিরক্তির কারণ হবে।
প্রত্যেকবার ল্যাপটপ ব্যবহার করার সময় কিছু টেম্পোরারি ফাইল তৈরি হয়। এই ফাইলগুলো হার্ডডিস্কের অনেকটা জায়গা দখল করে এবং ল্যাপটপের গতি ধীর করে দেয়। সেজন্য জাফরকে সফটওয়্যারের সাহায্য নিয়ে টেম্পোরারি ফাইলগুলো মুছে দিতে হবে। এতে হার্ডডিস্কের বেশ খানিকটা জায়গা খালি হবে এবং ল্যাপটপের কাজ করার গতিও অনেকটা বেড়ে যাবে।
ইন্টারনেট ব্যবহার করলে ইন্টারনেট ব্রাউজারের ক্যাশ মেমোরিতে অনেক কুকিজ ও টেম্পোরারি ফাইল জমা হয়। এতে আইসিটি যন্ত্রটি ধীর হয়ে যায়। এজন্য প্রতিদিন সম্ভব না হলেও জাফরকে কিছুদিন পরপর সফটওয়্যারের সাহায্য নিয়ে ক্যাশ মেমোরি পরিষ্কার করতে হয়।
ল্যাপটপ ভাইরাস আক্রান্ত হলেও এর কাজের গতি কমে যায়। তাই জাফরকে সবসময় তার ল্যাপটপে আপডেট এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করতে হবে।
ল্যাপটপে কাজের গতি বজায় রাখার জন্য তাকে ডিস্ক ক্লিনআপ ও ডিস্ক ডির্ফ্যাগমেন্টার ব্যবহার করতে হবে। এই সফটওয়্যার দুটো হার্ডডিস্কের জায়গা খালি করে এমন ফাইলগুলো এমনভাবে সাজায় যাতে ল্যাপটপটি তার গতি বজায় রেখে কাজ করতে পারে।
উপরে উল্লিখিত সফটওয়্যার ভিত্তিতে রক্ষণাবেক্ষণের প্রতি গুরুত্ব দিলে জাফর খুব সহজেই তার সমস্যা সমাধান করতে পারবে।