সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
১. প্রশ্নের উত্তর বলি ও লিখি।
ক. বিহার কী?
খ. শালবন বিহারের বিবরণ দাও।
গ. ময়নামতি জাদুঘরে প্রাচীনকালের কী কী নিদর্শন রাখা আছে?
ঘ. আনন্দ রাজার বাড়ির পরিচয় দাও।
ঙ. টেরাকোটা কাকে বলে?
চ. 'এসব নমুনা সমৃদ্ধ অতীতের পরিচয় বহন করে।' কথাটি বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর দেখুন
উত্তর: ক. বিহার হলো বৌদ্ধদের ধর্মচর্চা ও জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র। প্রাচীনকালে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা এসব বিহারে বসবাস করতেন এবং শিক্ষা গ্রহণ করতেন।
খ. শালবন বিহার ময়নামতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিহার। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো: ▪ এটি প্রায় দেড় হাজার বছরের পুরোনো। ▪ বিহারটির আকার বর্গাকার এবং এর প্রতিটি প্রান্ত ৫৫০ ফুট লম্বা। ▪ এর মধ্যে ১১৫টি ঘর আছে যেখানে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা থাকতেন।
গ. ময়নামতি জাদুঘরে ওই এলাকায় প্রাপ্ত বিভিন্ন প্রাচীন নিদর্শন রাখা আছে। তার মধ্যে রয়েছে: ▪ গৌতম বুদ্ধের মূর্তি ও মুদ্রা। ▪ অলংকার, সিলমোহর ও তামা পাত। ▪ প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগের হাতিয়ার। ▪ এছাড়া প্রাচীনকালে মানুষের প্রতিদিনের ব্যবহারের অনেক গৃহস্থালি জিনিসপত্র এখানে সংরক্ষিত আছে।
ঘ. ময়নামতির আনন্দ বিহার এলাকাটি মানুষের কাছে আনন্দ রাজার বাড়ি নামে পরিচিত। এটি আয়তনে ময়নামতির বিহারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়। শালবন বিহারের মতো এটিও বর্গাকার এবং এর প্রতিটি প্রান্ত ৬৫০ ফুট লম্বা। এর বাইরের দেওয়ালে পোড়ামাটির নকশা বা টেরাকোটা দেখা যায়।
ঙ. মাটির তৈরি জিনিস পুড়িয়ে যে নকশা তৈরি করা হয়, তাকে টেরাকোটা বলে। ময়নামতির বিহারের বাইরের দেওয়ালে পোড়ামাটির নকশার এমন অনেক কাজ দেখা যায়।
চ. ময়নামতিতে প্রাপ্ত মূর্তি, মুদ্রা, অলংকার, সিলমোহর এবং প্রাচীন হাতিয়ারগুলো কয়েক হাজার বছর আগের উন্নত সভ্যতার সাক্ষ্য দেয়। মাটি খুঁড়ে পাওয়া এসব জিনিস থেকে বোঝা যায় যে, সেই সময়ে মানুষের জীবনযাত্রা, শিল্পকলা এবং সংস্কৃতি কতটা উন্নত ছিল। তাই বলা হয় যে, এসব নিদর্শন আমাদের প্রাচীন ও গৌরবময় ইতিহাসের পরিচয় তুলে ধরে।