সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
১. প্রশ্নের উত্তর বলি ও লিখি:
ক. কোন দুটো শব্দ শুনে বাঘ ভয় পেয়ে গেল?
খ. শিয়ালনী গর্তে ছানাগুলোকে রাখতে ভয় পেল কেন?
গ. বাঘকে দৌড়াতে দেখে বানর কী বলল?
ঘ. বাঘ ও বানরের মধ্যে কে বেশি ভয় পেল? কীভাবে তুমি বুঝলে?
ঙ. 'শিয়ালের বুদ্ধি বেশি'-গল্প থেকে কীভাবে তা বোঝা যায়?
উত্তর দেখুন
উত্তর: ক. শিয়ালের বানানো কাল্পনিক দুটো শব্দ 'ঝপাং' এবং 'ভতাং' শুনে বাঘ ভয় পেয়ে গেল। বাঘ ভেবেছিল এগুলো নিশ্চয়ই কোনো ভয়ঙ্কর মারণাস্ত্রের নাম যা দিয়ে তাকে মারা হবে।
খ. শিয়ালনী যখন গর্তের চারধারে অনেক বাঘের পায়ের দাগ দেখল, তখন সে বুঝতে পারল যে এটি আসলে একটি বাঘের বাসা। বাঘ ফিরে এসে তাদের খেয়ে ফেলতে পারে-এই ভয় থেকেই সে ওই গর্তে থাকতে চাচ্ছিল না।
গ. বাঘকে জানপ্রাণ দিয়ে দৌড়াতে দেখে বানর অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, 'বাঘ ভাই, বাঘ ভাই, কী হয়েছে? তুমি যে অমন করে ছুটে পালাচ্ছ?' বানর বাঘের এই আতঙ্ককে প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারছিল না।
ঘ. গল্পের শেষে বাঘই বেশি ভয় পেল বলে মনে হয়। বানর প্রথমে বাঘকে সাহস জুগিয়েছিল এবং শিয়ালের চালাকি ধরতে পেরেছিল। কিন্তু শিয়াল যখন আবার নতুন ফন্দি এঁটে বলল যে-বানর মামা তাদের জন্যই বাঘ ধরে নিয়ে এসেছে, তখন বানর প্রাণভয়ে গাছে পালিয়ে গেল। কিন্তু বাঘ এতটাই আতঙ্কিত হয়েছিল যে সে সেখান থেকে একছুটে পালাল এবং পরবর্তী দুই দিনের মধ্যে আর কোথাও থামল না। বাঘের এই সীমাহীন দৌড়ই প্রমাণ করে সে সবচেয়ে বেশি ভয় পেয়েছিল।
ঙ. পুরো গল্পটিই শিয়ালের বুদ্ধির জয়গান। এটি নিচের কয়েকটি ঘটনার মাধ্যমে বোঝা যায়: • বিপদ মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক বুদ্ধি: বাঘকে আসতে দেখে সে ঘাবড়ে না গিয়ে ছানাদের চিমটি কাটতে বলে এক অদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরি করে। • বাঘের মনে ভয় সৃষ্টি: সে বাঘকে শোনানোর জন্য এমনভাবে কথা বলে যেন তার ছানারা বাঘ খেতে পছন্দ করে, যা শুনে শক্তিশালী বাঘও দমে যায়। • বানরের চালাকি নস্যাৎ: বানর যখন বাঘকে ফিরিয়ে আনল, তখন শিয়াল বানরকেই বাঘের 'শিকারী' সাজিয়ে দিল। এতে বাঘ ভাবল বানর তাকে ঠকিয়ে শিয়ালের খাবারের জন্য নিয়ে এসেছে। • বুদ্ধির ব্যবহার: শিয়াল তার শারীরিক শক্তির চেয়ে মগজের শক্তি ব্যবহার করে নিজের পরিবারকে রক্ষা করেছে এবং বড় কোনো প্রাণীর ওপর মানসিক আধিপত্য বিস্তার করেছে।