সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
১. প্রশ্নের উত্তর বলি ও লিখি:
ক. কাজলা দিদি কোথায় গেছে?
খ. কখন কাজলা দিদির কথা বেশি মনে পড়ে?
গ. কাজলা দিদির কথা উঠলে মা আঁচল দিয়ে মুখ ঢাকেন কেন?
ঘ. পুতুলের বিয়ের সময় দিদির কথা মনে পড়ে কেন?
ঙ. 'আমিও নাই-দিদিও নাই-কেমন মজা হবে!'-এ কথা দিয়ে কী বোঝানো হয়েছে?
চ. খুকি মাকে কেন ডালিম গাছের ফল ছিঁড়তে বারণ করেছে?
উত্তর দেখুন
উত্তর: ক. কবিতাটি পড়ে বোঝা যায়, কাজলা দিদি আর বেঁচে নেই, সে না-ফেরার দেশে চলে গেছে (মারা গেছে)। কিন্তু শিশুটি তা জানে না, তার কাছে দিদি কেবলই নিখোঁজ বা কোথাও লুকিয়ে আছে।
খ. যখন বাঁশ-বাগানের মাথার উপর চাঁদ ওঠে, পুকুর ধারে লেবুর তলায় জোনাকিরা জ্বলে এবং ফুলের গন্ধে রাত গভীর হয়, তখন খুকির কাজলা দিদির কথা সবথেকে বেশি মনে পড়ে।
গ. মা জানেন যে কাজলা দিদি আর কোনোদিন ফিরে আসবে না। খুকি যখন বারবার দিদির কথা জিজ্ঞেস করে, তখন মা সন্তানের শোক সামলাতে পারেন না। নিজের চোখের জল আড়াল করতে এবং বুক ফেটে আসা কান্না লুকাতে তিনি আঁচল দিয়ে মুখ ঢাকেন।
ঘ. সাধারণত ভাই-বোনেরা মিলে পুতুলের বিয়ে বা খেলাধুলা করে। দিদি আগে খুকির সাথে খেলা করত এবং বিভিন্ন কাজে তাকে সাহায্য করত। তাই কাল যখন নতুন ঘরে পুতুলের বিয়ে হবে, সেই আনন্দের মুহূর্তে দিদির অভাব খুকি তীব্রভাবে অনুভব করছে।
ঙ. এ কথাটি খুকির অভিমানী মনের বহিঃপ্রকাশ। সে ভাবছে দিদি তাকে ফাঁকি দিয়ে কোথাও লুকিয়ে আছে এবং মা সব জেনেও বলছে না। তাই সে মাকে ভয় দেখাচ্ছে যে, সেও যদি দিদির মতো লুকিয়ে পড়ে, তবে মা একলা ঘরে কষ্ট পাবে। এখানে 'মজা' শব্দটি শিশুটি দুঃখের ছলে বা অভিমান করে ব্যবহার করেছে।
চ. ডালিম গাছের ফাঁকে ফাঁকে বুলবুলি পাখি লুকিয়ে থাকে। খুকি মনে করে মা যদি ফল ছিঁড়তে গিয়ে বুলবুলি পাখিকে উড়িয়ে দেয়, তবে দিদি ফিরে এসে রাগ করবে। দিদির প্রিয় পাখি যেন চলে না যায়, সেই ভয় থেকেই সে মাকে বারণ করেছে।