ক) যেসব যন্ত্র ব্যবহার করে দূরবর্তী কারো সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা যায় তাদের যোগাযোগ যন্ত্র বলে।
খ) প্রতিটি টেলিফোন সেটেই সংকেত গ্রহণ ও প্রেরণের ব্যবস্থা থাকে। টেলিফোনের হ্যান্ডসেটের মাউথপিসটি হলো মাইক্রোফোন, যা একটি প্রেরক যন্ত্র ও ইয়ারপিস হলো স্পিকার, যা একটি গ্রাহক যন্ত্র। টেলিফোন সেটে থাকে ক্রিং ক্রিং ঘণ্টা বাজানোর একটি রিংগার ও একটি ডায়ালিং ব্যবস্থা। আমরা যখন কথা বলি মাউথপিসের মাইক্রোফোনটি কণ্ঠস্বরের শব্দতরঙ্গকে তড়িৎসংকেতে রূপান্তরিত করে। এ সংকেত টেলিফোনের তার দিয়ে অপর টেলিফোনের ইয়ারপিসে যায়। ইয়ারপিসের স্পিকার তড়িৎসংকেতকে শব্দে রূপান্তরিত করে, ফলে গ্রাহক বা শ্রোতা শব্দ শুনতে পান এবং কথার জবাব দেন।
গ) কোনো বেতার সম্প্রচার স্টেশনের স্টুডিওতে কোনো ব্যক্তি যখন মাইক্রোফোনের সামনে কথা বলেন তখন মাইক্রোফোন ঐ শব্দকে তড়িৎতরঙ্গে রূপান্তরিত করে। এ তরঙ্গের নাম অডিও সংকেত। এ সংকেতের কম্পাঙ্ক বা শক্তি খুবই কম, ২০ হার্জ থেকে ২০০০০ হার্জ। এ তরঙ্গ বেশি দূর যেতে পারে না। তথ্য বহনকারী কম কম্পাঙ্কের এ তরঙ্গকে তাই এক প্রকার উচ্চ কম্পাঙ্ক বিশিষ্ট তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের সাথে মিশ্রিত করা হয়। উচ্চ কম্পাঙ্ক বিশিষ্ট এই তরঙ্গকে বাহক তরঙ্গ বলে। মিশ্রিত তরঙ্গকে বলা হয় মড্যুলেটেড বা রূপারোপিত তরঙ্গ। এ দুই তরঙ্গের মিশ্রণের প্রক্রিয়াকে বলা হয় মডুলেশন। রূপারোপিত তরঙ্গকে বেতার তরঙ্গও বলা হয়। বেতার তরঙ্গকে অ্যামপ্লিফায়ারে বিবর্ধিত করে প্রেরক যন্ত্রের এন্টেনার সাহায্যে তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ হিসেবে শূন্যে প্রেরণ করে। এ বেতার তরঙ্গ শূন্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভূমি তরঙ্গ ও আকাশ তরঙ্গ নামে দুই ধরনের তরঙ্গে ভাগ হয়। ভূমি তরঙ্গ সরাসরি গ্রাহক যন্ত্রের এরিয়েলে পৌঁছায়। আমাদের ঘরে যে রেডিও সেটটি থাকে তাহলো গ্রাহকযন্ত্র। আকাশতরঙ্গ আয়নমণ্ডলে প্রতিফলিত হয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসে এবং গ্রাহকযন্ত্রের এরিয়েলে ধরা পড়ে।

গ্রাহকযন্ত্র বেতার তরঙ্গকে গ্রহণ করে একে তড়িৎপ্রবাহে রূপান্তরিত করে। এরপর ডিমডুলেশন বা বিরূপারোপণ প্রক্রিয়ায় বাহকতরঙ্গ হতে শব্দ আলাদা করে নেওয়া হয়। অতঃপর অ্যামপ্লিফায়ারের সাহায্যে তড়িৎপ্রবাহকে বিবর্ধিত করে এবং লাউডস্পিকারে প্রেরণ করে। লাউডস্পিকার তড়িৎপ্রবাহকে পুনরায় শব্দে রূপান্তরিত করে। এ শব্দ আমরা শুনতে পাই।
ঘ) টেলিভিশন ও রেডিও যোগাযোগের দুইটি জনপ্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। রেডিওতে আমরা খবর, গান বাজনা, নাটক, আলোচনা, বিতর্ক এবং পণ্যের বিজ্ঞাপন শুনতে পাই। সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীতে তথ্য আদান-প্রদানের জন্য রেডিও ব্যবহার করা হয়। মোবাইল বা সেলুলার টেলিফোন যোগাযোগে রেডিও ব্যবহৃত হয়।
বর্তমানে রেডিওর তুলনায় টেলিভিশন অনেক বেশি শক্তিশালী ও জনপ্রিয় একটি যোগাযোগ মাধ্যম। এর প্রধান কারণ হলো, টেলিভিশনে শব্দ শোনার পাশাপাশি ছবিও দেখা যায়। টেলিভিশনে বর্তমানে বহুসংখ্যক চ্যানেল রয়েছে, এর মধ্যে বেশ কয়েকটি শুধু সংবাদ চ্যানেল। এসব চ্যানেলে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের খবর মুহূর্তেই পাওয়া যায়। টেলিভিশনের মাধ্যমে যেকোনো বিষয়ে জনগণের মতামত প্রতিফলিত হয়। এমনকি ব্যবসার (যেমন শেয়ার ব্যবসা) বর্তমান হালচাল ও অবস্থা কিরূপ তা টেলিভিশনের মাধ্যমে জেনে বিনিয়োগকারীর সতর্কতা ও সফলতার সাথে বিনিয়োগ করতে পারেন।
রেডিও টেলিভিশনে যে বিজ্ঞাপনগুলো প্রচারিত হয় তার মাধ্যমে ভোক্তা বিভিন্ন পণ্য ও সেবা সম্পর্কে জানতে পারে এবং নিজের প্রয়োজন অনুসারে সেগুলো ব্যবহার করতে পারে। ভোক্তা সেবার মান বৃদ্ধিতে তথা অধিকতর কম মূল্যে উন্নত সেবা/পণ্য ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনকারী এবং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যে ব্যাপক প্রতিযোগিতা হয় তা রেডিও ও টেলিভিশন থাকার কারণেই বহুলাংশে সম্ভব হয়েছে। এসব যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যক্তিগত বিজ্ঞাপনও অনেক সময় দেওয়া হয়।