ক) এই যন্ত্রে A চিহ্নিত বস্তুটির নাম আয়তাকার মজ্জা বা কোর।
খ) যন্ত্রটির নাম ট্রান্সফর্মার। এই যন্ত্রটি তাড়িতচৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে তৈরি। পরিবর্তনশীল চৌম্বকক্ষেত্রের দ্বারা কোনো বর্তনীতে তড়িচ্চালক শক্তি বা তড়িৎ প্রবাহ সৃষ্টির এই ঘটনাকে তাড়িতচৌম্বক আবেশ বলে। চৌম্বকক্ষেত্র স্থির থাকলে বর্তনীতে কোনো তড়িচ্চালক শক্তি বা তড়িৎপ্রবাহ সৃষ্টি হয় না।
গ) দেওয়া আছে,
মুখ্য কুণ্ডলীর ভোল্টেজ, Ep = 240 V
গৌণ কুণ্ডলীর ভোল্টেজ, Es = 8 V
গৌণ কুণ্ডলীর তড়িৎপ্রবাহ, Is = 0.9 A
মুখ্য কুণ্ডলীর তড়িৎপ্রবাহ, Ip = ?
আমরা জানি,
Ep/Es = Is/Ip
বা, Ip = Es/Ep × Is
= (8 V)/(240 V) × 0.9 A
= 0.03 A
অতএব, মুখ্য কুণ্ডলীতে প্রবাহমাত্রা 0.03 A।
ঘ) উদ্দীপকের চিত্রের যন্ত্রটি একটি ট্রান্সফর্মারের।
মনে করি, ট্রান্সফর্মারের xp পাকসংখ্যাবিশিষ্ট মুখ্য কুণ্ডলীতে Epপরবর্তী বিভব প্রয়োগ করার ফলে কুণ্ডলীর তড়িৎ প্রবাহ Ip হলে, ns পাকসংখ্যাবিশিষ্ট গৌণ কুণ্ডলীতে তড়িচ্চালক শক্তি Es এবং তড়িৎ প্রবাহ Is পাওয়া যায়।
আমরা জানি,
Ep/Es = np/ns = Is/Ip
এখন, Ep/Es = np/ns
বা, ns = Es/Ep × np
= 8V/240V × 50
∴ ns = 1·67
এখানে,
Ep = 240 V
Es = 8V
np = 50
ns = ?
ট্রান্সফর্মারটির গৌণ কুণ্ডলীর পাকসংখ্যা মুখ্য কুণ্ডলীর চেয়ে কম।
আমরা জানি, np> ns হলে ট্রান্সফর্মারটি অবরোহী হয় এবং np < ns হলে ট্রান্সফর্মারটি আরোহী হয়।
এখানে, np > ns এবং মুখ্য কুণ্ডলীতে 240V বিভব প্রয়োগ করলে গৌণ কুণ্ডলীতে 8V বিভব পার্থক্য পাওয়া যায়। তাই ট্রান্সফর্মারটি অবরোহী। আবার মুখ্য কুণ্ডলীতে 240 V বিভব পার্থক্য প্রয়োগ করার ফলে কুণ্ডলীতে 0.3 A তড়িৎ প্রবাহিত হয়। এই তড়িৎ প্রবাহ মজ্জাটিকে চুম্বকিত করে চৌম্বক বলরেখা উৎপন্ন করে। চৌম্বক বলরেখার ক্ষরণ শূন্য ধরা হলে গৌণ কুণ্ডলীর প্রতিটি পাকে ও একই সংখ্যক বলরেখা সংযুক্ত হয় এবং গৌণ কুণ্ডলীতে 8V তড়িচ্চালক শক্তি আবিষ্ট হয়। এই আবিষ্ট ভোল্টেজ গৌণ কুণ্ডলীতে 0·9A তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে।
আমরা জানি,
মুখ্য কুণ্ডলীতে ক্ষমতা = Ep Ip
= 240V × 0·03A
= 7·2W
এবং গৌণ কুণ্ডলীতে ক্ষমতা = EsIs
= 8V × 0·9A
= 7·2W
অর্থাৎ কোনো ট্রান্সফর্মার যে অনুপাতে ভোল্টেজ কমায় ঠিক সে অনুপাতে তড়িৎ প্রবাহ বৃদ্ধি করে যাতে ক্ষমতার পরিমাণ সমান বা ধ্রুব থাকে। এভাবে ট্রান্সফর্মার ভোল্টেজ ও তড়িৎপ্রবাহ উভয়কেই রূপান্তর করে। কিন্তু তড়িৎ ক্ষমতা বৃদ্ধি বা হ্রাস করতে পারে না।