ক) কোনো মৌলের সর্বশেষ প্রধান শক্তিস্তরের মোট ইলেকট্রন সংখ্যাকে সেই মৌলের যোজ্যতা ইলেকট্রন বলে।
খ) CaCl₂ আয়নিক যৌগ। বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য আয়নসমূহের চলাচল দরকার হয় যা CaCl₂ এর কঠিন অবস্থায় সম্ভব হয় না। CaCl₂ গলিত অবস্থায় Ca²⁺ এবং 2Cl− পরিণত হয়।
CaCl₂ → Ca²⁺(l) + 2Cl−(l) [গলিত অবস্থায়]
CaCl₂(s) + H₂O(l) → Ca²⁺(aq) + 2Cl− (aq) [জলীয় দ্রবণে]
এই আয়নগুলো দ্রবীভূত অবস্থায় চলাচল করতে পারে। এই চলাচলের ফলে CaCl₂ বিদ্যুৎ পরিবহন করে থাকে।
গ) 'A' পর্যায় সারণির দ্বিতীয় পর্যায়ের 15 শ্রেণির মৌল। উক্ত মৌলটি হলো নাইট্রোজেন (N)। এর ক্লোরাইড যৌগটি হলো নাইট্রোজেন ট্রাইক্লোরাইড NCl₃।
NCl₃ যৌগে উপাদান মৌল N ও Cl এর ইলেকট্রন বিন্যাস নিম্নরূপ :
N(7) : 1s²2s² 2p¹ₓ 2p¹y 2p¹z
এবং Cl(17) : 1s²2s²2p⁶3s² 3p²ₓ 3p²y 3p¹z
অর্থাৎ, N পরমাণুর সর্বশেষ শক্তিস্তরে তিনটি এবং Cl পরমাণুর সর্ববহিস্থ স্তরে একটি অযুগ্ম ইলেকট্রন বিদ্যমান।
N পরমাণুর উক্ত বিজোড় ইলেকট্রন Cl পরমাণুর তিনটি অযুগ্ম ইলেকট্রনের সাথে বন্ধন জোড় গঠন করে NCl₃ গঠন করে।
এক্ষেত্রে N পরমাণু ইলেকট্রন শেয়ারের মাধ্যমে নিকটস্থ নিষ্ক্রিয় গ্যাস নিয়নের ইলেকট্রন বিন্যাস অর্জন করে এবং ক্লোরিন পরমাণু তার নিকটস্থ নিষ্ক্রিয় গ্যাস আর্গন এর ইলেকট্রন বিন্যাস অর্জন করে স্থিতিশীল অবস্থা লাভ করে। নিচে চিত্রের সাহায্যে এ বন্ধনটি দেখানো হলো :

NCl₃(A এর ক্লোরাইড)-এ তিনটি বন্ধন জোড় ইলেকট্রন বিদ্যমান।
ঘ) BCl₅ যৌগের B পরমাণুটি তৃতীয় পর্যায়ের এবং 15 শ্রেণির বিধায় এটি ফসফরাস এবং যৌগটি PCl₅। PCl₅ যৌগের উপাদান মৌল P এবং Cl এর ইলেকট্রন বিন্যাস-
P(15) : 1s²2s²2p⁶ 3s² 3p¹ₓ 3p¹y 3p¹z
Cl (17) : 1s²2s²2p⁶3s²3p²ₓ 3p²y 3p¹z
উত্তেজিত অবস্থায়-
P*(15) : 1s²2s²2p⁶ 3s¹ 3p¹ₓ 3p¹y 3p¹z
এবং Cl* (17) : 1s²2s²2p⁶ 3s²3p²ₓ 3p²y 3p¹z
দেখা যাচ্ছে যে, P পরমাণুর স্থিতিশীল ইলেকট্রন বিন্যাস বা অষ্টক পূর্ণতা লাভের জন্য 3টি ইলেকট্রন গ্রহণ প্রয়োজন। অন্যদিকে একই কারণে Cl পরমাণুর 1টি ইলেকট্রন গ্রহণ করা প্রয়োজন। এ কারণে 1টি P পরমাণু 3টি ক্লোরিন পরমাণুর সাথে ইলেকট্রন শেয়ার করে PCl₃ যৌগ গঠন করতে পারে। যা উভয় পরমাণুর জন্য অষ্টক নিয়মকে সমর্থন করে। কিন্তু PCl₅ যৌগে প্রতিটি ক্লোরিন পরমাণুর সর্ববহিস্থ স্তরে 8টি ইলেকট্রন বিদ্যমান হলেও, ফসফরাস পরমাণুর সর্ববহিস্থ স্তরে 10টি ইলেকট্রন পরিলক্ষিত হয় যা অষ্টক নিয়মকে সমর্থন করে না। বরং দুই-এর নিয়মকে সমর্থন করে। প্রকৃতপক্ষে, PCl₅ যৌগের P পরমাণু উত্তেজিত অবস্থায় উপরোক্ত ইলেকট্রন বিন্যাস অনুসারে 5টি অযুগ্ম ইলেকট্রন গঠন করে যার প্রতিটিই ক্লোরিন পরমাণুর অযুগ্ম ইলেকট্রনের সাথে দুই এর নিয়ম অনুসারে যুগ্ম বা জোড়াবদ্ধ হয়ে সমযোজী বন্ধন গঠন করে স্থিতিশীলতা অর্জন করে।
অর্থাৎ PCl₅ যৌগের স্থিতিশীলতা ব্যাখ্যায় অষ্টক নিয়ম অপেক্ষা দুই এর নিয়ম অধিক কার্যকরী।
সুতরাং, BCl₅ যৌগের স্থিতিশীলতা ব্যাখ্যায় অষ্টক নিয়ম প্রযোজ্য নয়।