ক) কোনো রাসায়নিক পদার্থের যে পরিমাণে অ্যাভোগেড্রো সংখ্যক (6.02 × 10²³) অণু, পরমাণু বা আয়ন থাকে তাকে পদার্থের মোল বলে।
খ) নাইট্রোজেন মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা 7। এর ইলেকট্রন বিন্যাস নিম্নরূপ :
N(7) = 2, 5
= 1s²2s²2p¹ₓ 2p¹y 2p¹z
মৌলটির সর্বশেষ শক্তিস্তরে অর্থাৎ ২য় শক্তিস্তরে মোট 5টি ইলেকট্রন থাকায় এর যোজ্যতা ইলেকট্রন 5। আবার, মৌলটির সর্বশেষ শক্তিস্তরে তিনটি বেজোড় ইলেকট্রন বিদ্যমান। ফলে নাইট্রোজেন মৌলটি বন্ধন তৈরির সময় অন্য কোনো মৌলের তিনটি পরমাণুর সাথে যুক্ত হওয়ার ক্ষমতা রাখে। তাই নাইট্রোজেনের যোজনী 3। অতএব, নাইট্রোজেন পরমাণুর যোজনী ও যোজ্যতা ইলেকট্রন ভিন্ন।
গ) উদ্দীপকের দ্রবণদ্বয় হলো HCl ও NaOH। HCl ও NaOH হলো এসিড ও ক্ষার। অতএব, এ দ্রবণদ্বয়কে একত্রে মিশ্রিত করলে প্রশমন বিক্রিয়ার মাধ্যমে এসিড ও ক্ষারের বিক্রিয়ায় সোডিয়াম ক্লোরাইড নামক লবণ ও পানি উৎপন্ন হয়। বিক্রিয়ার সমীকরণটি নিম্নরূপ :
HCl + NaOH = NaCl + H₂O
NaCl লবণের সংযুতি নির্ণয় : সোডিয়ামের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর = 23 এবং ক্লোরিনের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর = 35.5।
NaCl এর আপেক্ষিক আণবিক ভর = 23 + 35.5
= 58.5
সুতরাং যৌগটিতে,
সোডিয়ামের সংযুতি = (23/58.5 × 100)% = 39.32%
এবং ক্লোরিনের সংযুতি = (35.5/58.5 × 100)% = 60.68%
∴ NaCl-এর শতকরা সংযুতি হচ্ছে Na = 39.32% এবং Cl
= 60.68%।
ঘ) উদ্দীপক থেকে দেখা যায় যে, 100 mL আয়তনের দুটি পৃথক পাত্রে 4g করে HCl ও NaOH রাখা হয়েছে। HCl ও NaOH এর আণবিক ভর যথাক্রমে 36.5 গ্রাম এবং 40 গ্রাম।
অর্থাৎ পাত্রে রাখা−
HCl এর পরিমাণ = 4/36.5 মোল = 0.11 মোল
NaOH এর পরিমাণ = 4/40 মোল = 0.1 মোল
আমরা জানি, কোনো দ্রবণের ঘনমাত্রা প্রকাশের রীতিকে বলা হয় মোলারিটি। নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় প্রতি লিটার দ্রবণে দ্রবীভূত দ্রবের মোল সংখ্যাকে মোলারিটি বলে।
এখন, HCl দ্রবণের আয়তন = 100mL = 0.1L
∴HCl দ্রবণের ঘনমাত্রা = 0.11/0.1 মোল = 1.1M
আবার, NaOH দ্রবণের আয়তন = 100mL = 0.1L
∴NaOH দ্রবণের ঘনমাত্রা = 0.1/0.1 মোল = 1.0M
সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, উদ্দীপকের দ্রবণ দুটির ঘনমাত্রা সমান হবে না।