সৃজনশীল (CQ)
১. আমরা কয়েকজন বন্ধু গ্রীষ্মের ছুটিতে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। উদ্দেশ্য, দুচোখ ভরে প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করা। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম আবার সেখান থেকে কক্সবাজার গেলাম, সেখান থেকে সেন্ট মার্টিন, কী অপূর্ব দৃশ্য আর সৌন্দর্যের মাখামাখি। কোরাল পাথরের ছড়াছড়ি সেন্ট মার্টিন-এর এক বিশাল অহঙ্কার। এছাড়াও আছে নীল পানির এক রাজপুরী। সেখানে কচ্ছপেরা অবাধে ঘুরে বেড়ায়, ডিম পাড়ে; কাঁকড়ারা দল বেঁধে আলপনা আঁকে। সেন্ট মার্টিনে না গেলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এই লীলাভূমি অদেখাই থেকে যেত।
- ক) 'নীলনদ আর পিরামিডের দেশ'—কার লেখা?১
- খ) উটের চোখগুলো রাতের বেলা সবুজ দেখাচ্ছিল কেন?২
- গ) ভ্রমণকারীদের যাত্রাপথের সাথে লেখকের মিশর ভ্রমণের কী মিল খুঁজে পাওয়া যায়? বর্ণনা কর।৩
- ঘ) 'সেন্ট মার্টিন না গেলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এই লীলাভূমি অদেখাই থেকে যেত'—এই বক্তব্য অনুসরণে নীলনদের সৌন্দর্যের সাদৃশ্য দেখাও।৪
উত্তর দেখুন
ক) 'নীলনদ আর পিরামিডের দেশ'—সৈয়দ মুজতবা আলীর লেখা।
খ) রাতের বেলা উটের চোখের উপর মোটরের হেডলাইট পড়াতে চোখগুলো সবুজ দেখাচ্ছিল।
লেখক যখন মোটর নিয়ে রাতে মরুভূমির উপর দিয়ে চলছিলেন তখন মোটরের হেডলাইটের আলো উটের চোখগুলোর উপর পড়ে। এতে সেগুলো জ্বলজ্বল করে ওঠে। তখন সবুজ দেখায়।
গ) অপূর্ব সৌন্দর্যের লীলাভূমি দেখার ক্ষেত্রে উদ্দীপকের ভ্রমণকারীদের যাত্রাপথের সাথে লেখকের মিশর ভ্রমণের ব্যাপক মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
মিশরের নানারূপ সৌন্দর্যে মুগ্ধ লেখক 'নীলনদ আর পিরামিডের দেশ' নামক ভ্রমণ কাহিনিতে তার পরিচয় তুলে ধরেছেন। নীলনদের রমণীয় সৌন্দর্যে লেখকের চোখ আটকে গেল। চাঁদের আলোয় দেখতে পেলেন মহাজনি নৌকা যেন পেট ফুলিয়ে চলছে। নীলের জল থেকে হঠাৎ চোখ পড়ল পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো কীর্তিস্তম্ভ পিরামিডের দিকে। এছাড়া মসজিদের মিনার কিংবা মসজিদের ভেতরের কারুকাজ দেখে লেখক যে অভিভূত হয়েছেন তা তাঁর বর্ণনাতে স্পষ্ট।
উদ্দীপকে উল্লিখিত হয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি কক্সবাজার ও সেন্ট মার্টিনের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য। সেন্ট মার্টিনে কোরাল পাথরের সমাহার আর এর চারপাশ ঘিরে থাকা নীল পানি একে পরিণত করেছে এক রাজপুরীতে। কচ্ছপের অবাধ বিচরণ আর কাঁকড়াদের দল বেঁধে চলা কার না মন কাড়ে। কক্সবাজার ও সেন্ট মার্টিনে কয়েকজন বন্ধুর ভ্রমণের সময় তারা তাদের যাত্রাপথে একের পর এক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছে। ঠিক একইভাবে 'নীলনদ আর পিরামিডের দেশ'-এর ভ্রমণ কাহিনিতেও তেমনি লেখক মিশরের নানা সৌন্দর্যে মুগ্ধ ও অভিভূত হয়েছেন। নীলনদের নীল পানি আর সেন্ট মার্টিনের নীল পানি অনুরূপ হয়ে ধরা দিয়েছে।
ঘ) 'সেন্ট মার্টিন না গেলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এই লীলাভূমি অদেখাই থেকে যেত', উক্তিটি 'নীলনদ আর পিরামিডের দেশ'—এর লেখকের অভিব্যক্তির অনুরূপ।
'নীলনদ আর পিরামিডের দেশ'-ভ্রমণ কাহিনিতে লেখক সৈয়দ মুজতবা আলী নীলনদের এক অপরূপ বর্ণনা দিয়েছেন। চাঁদের আলোতে লেখক দেখতে পেয়েছেন নীলনদের রমণীয় দৃশ্য। নীলের উপর দিয়ে ছুটে চলা মহাজনি নৌকা, যার তেকোণা পাল যেন পেটুক ছেলের মতো পেট ফুলিয়ে আছে। একটুখানি জোরে হাওয়া বইলেই যেন তা ডিগবাজি খেয়ে নীলের অতল জলে হারিয়ে যাবে। নীলের জল দিয়েই হয় চাষাবাদ আবার এই জলপথেই মিশরে সর্বত্র ফসলাদি পৌঁছে দেওয়া হয়।
উদ্দীপকের সেন্ট মার্টিন যেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার। অপূর্ব দৃশ্য আর সৌন্দর্যে চারপাশ মাখামাখি। সেন্ট মার্টিনের সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে কোরাল পাথর। নীল পানি বেষ্টিত দ্বীপটি এক রাজপুরি। সেন্ট মার্টিনে অবাধে ঘুরে বেড়ায় কচ্ছপেরা। কাঁকড়ারা দলবেঁধে বিচরণ করে মাটিতে আলপনা আঁকে। সমুদ্রের বিশালতার মাঝে এমন হৃদয়কাড়া স্নিগ্ধ অপরূপ সৌন্দর্যে দেহ-মন-প্রাণ প্রশান্ত হয়ে যায়।
নীলনদ আর সেন্ট মার্টিনের প্রাকৃতিক রূপ, সৌন্দর্যপিপাসু মানুষের মনে বিস্ময় সৃষ্টি না করে পারে না। নীলনদ আর সেন্ট মার্টিনের সৌন্দর্য প্রকৃতি প্রদত্ত। এর নান্দনিকতার কোনো সীমা পরিসীমা নেই। নীলনদের রূপ-সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছেন লেখক। আর সেন্ট মার্টিন ভ্রমণকারীরা তো বলেই দিয়েছে সেন্ট মার্টিন না গেলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এই লীলাভূমি অদেখাই থেকে যেত। উভয়ের সৌন্দর্য অবলোকন করার বিষয়টি তাই সাদৃশ্যপূর্ণ।