সৃজনশীল (CQ)
১. ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী রনি। তার মামা নয় বছর পরে বিদেশ থেকে তাদের বাড়িতে বেড়াতে এসেছেন। তিনি বিমানবন্দর থেকে আসার পথে রাস্তার পাশের বিভিন্ন দেয়ালে নানা ধরনের ছবি, কার্টুন, পোস্টারসহ অনেকরকম লেখা দেখেছেন। এগুলো দেখে তিনি ভাবলেন, দেশে না এলে ২০২৪-এর আন্দোলন সম্পর্কে কখনোই এতটা স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেত না। রনি তার মামাকে জানায়, এগুলো যারা সৃষ্টি করেছেন তাদের অনেকেই স্বৈরাচারের নির্যাতনের শিকার হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, কেউ কেউ শহিদও হয়েছেন।
- ক) ১৯৭১ সালে নিতুন কুণ্ডুর আঁকা পোস্টারের বিষয় কী ছিল?১
- খ) একটি বাক্য কীভাবে হাজার মানুষের মুক্তির প্রেরণা হয়ে ওঠে?২
- গ) উদ্দীপকের দেয়ালের চিত্রকর্মের সঙ্গে 'কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টারের ভাষা' রচনায় বর্ণিত শিল্পকর্মগুলোর তুলনা করো।৩
- ঘ) "উদ্দীপকটি 'কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টারের ভাষা' রচনার আংশিক ভাব ধারণ করে।"—বিশ্লেষণ করো।৪
উত্তর দেখুন
ক) ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় নিতুন কুণ্ডুর আঁকা পোস্টারের বিষয় ছিল 'সদা জাগ্রত বাংলার মুক্তিবাহিনী'।
খ) একটি শক্তিশালী বাক্য যখন মানুষের আবেগ, অনুভূতি ও সংগ্রামের চেতনার সঙ্গে গভীরভাবে মিশে যায়, তখন তা হাজার মানুষের মুক্তির প্রেরণা হয়ে উঠতে পারে। উদাহরণ হিসেবে, স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় (১৯৮৮ সালে) পটুয়া কামরুল হাসানের আঁকা ব্যঙ্গচিত্র 'দেশ আজ বিশ্ব বেহায়ার খপ্পরে' শিরোনামের মাধ্যমে স্বৈরশাসকের অন্যায় শাসনকে প্রকাশ করা হয়েছিল। এই একটি বাক্য ও চিত্র পুরো দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের অনুপ্রাণিত করেছিল।
একটি শক্তিশালী বাক্য সমাজের বাস্তবতাকে সরাসরি তুলে ধরে, মানুষের মনে প্রতিবাদের স্পৃহা সৃষ্টি করে এবং ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানায়। তাই অনেক সময় হাজার কথার চেয়ে একটি বাক্যই আন্দোলন-সংগ্রামে বড় ভূমিকা রাখে।
গ) উদ্দীপকের দেয়ালের চিত্রকর্ম এবং 'কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টারের ভাষা' প্রবন্ধে বর্ণিত শিল্পকর্মগুলোর মধ্যে গভীর মিল রয়েছে।
উভয় ক্ষেত্রেই চিত্রকর্ম, কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টার গণআন্দোলনের প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
প্রবন্ধে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের আন্দোলনে সারাদেশের দেয়ালে অসংখ্য গ্রাফিতি আঁকা হয়েছিল, যা স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এবং আন্দোলনে শক্তি যুগিয়েছে। উদ্দীপকেও দেখা যায়, রনির মামা দেয়ালের এসব চিত্র দেখে আন্দোলনের প্রকৃত চিত্র অনুধাবন করতে পেরেছেন এবং উপলব্ধি করেছেন যে, দেশে না এলে এত স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব হতো না।
এছাড়া, উভয়ক্ষেত্রে চিত্রশিল্পীদের আত্মত্যাগের বিষয়টি ফুটে উঠেছে। প্রবন্ধে উল্লেখ রয়েছে, অনেক শিল্পী নির্যাতিত হয়েছেন, কারাবন্দি হয়েছেন, এমনকি নিহতও হয়েছেন, যেমন মুশতাক আহমেদ। একইভাবে, উদ্দীপকে রনি তার মামাকে জানায় যে এসব চিত্রকর্মের অনেক স্রষ্টা স্বৈরাচারের নির্যাতনের শিকার হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন বা শহিদ হয়েছেন।
সবশেষে বলা যায় যে, দেয়ালের চিত্রকর্ম ও প্রবন্ধে উল্লিখিত কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টার গণআন্দোলনের শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে। এগুলো শুধু প্রতিবাদের ভাষা নয়, বরং ইতিহাস সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে থাকবে।
ঘ) উদ্দীপকটি 'কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টারের ভাষা' রচনার আংশিক ভাব ধারণ করে—সম্পূর্ণ নয়, কারণ এতে মূলত দেয়ালে আঁকা চিত্রকর্মের মাধ্যমে গণআন্দোলনের চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যা প্রবন্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
প্রবন্ধে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় নাম-না-জানা শিল্পীরা সারাদেশের দেয়ালে বিপুল পরিমাণ গ্রাফিতি এঁকেছেন, যা আন্দোলনের প্রতীক হয়ে উঠেছিল। একইভাবে, উদ্দীপকে রনির মামা দেয়ালের এসব চিত্র দেখে আন্দোলনের প্রকৃত চিত্র বুঝতে পারেন এবং উপলব্ধি করেন যে, দেশে না এলে এতটা স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব হতো না।
তবে, প্রবন্ধে শুধু দেয়ালে আঁকা চিত্র নয়, কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র, পোস্টার ও মিমের গুরুত্বও উল্লেখ করা হয়েছে, যা উদ্দীপকে সরাসরি উল্লেখিত হয়নি। এছাড়া, প্রবন্ধে বিভিন্ন সময়ে কার্টুন ও পোস্টারের ভূমিকা এবং শিল্পীদের আত্মত্যাগের বিষয়টিও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে, যেখানে উদ্দীপকে শুধুমাত্র ২০২৪ সালের আন্দোলনের প্রসঙ্গ এসেছে।
সুতরাং, বলা যায় যে উদ্দীপকটি মূল রচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক—দেয়ালের চিত্রকর্ম ও গণআন্দোলনের সম্পর্ক—প্রকাশ করলেও, পুরো রচনার ভাবকে সম্পূর্ণরূপে ধারণ করেনি।