সৃজনশীল (CQ)
১. ধনধান্য পুষ্পভরা আমাদের এই বসুন্ধরা; তাহার মাঝে আছে দেশ এক—সকল দেশের সেরা; ও সে স্বপ্ন দিয়ে তৈরি সে দেশ স্মৃতি দিয়ে ঘেরা; এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি, সকল দেশের রানি সে যে—আমার জন্মভূমি।
- ক) কবির অঙ্গ জুড়ায় কীসে?১
- খ) কবির শেষ ইচ্ছা ব্যাখ্যা কর।২
- গ) উদ্দীপকে 'জন্মভূমি' কবিতার কোন দিকটির মিল লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা কর।৩
- ঘ) উদ্দীপক ও কবিতায় জন্মভূমিকে 'রানি' সম্বোধন করার যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা কর।৪
উত্তর দেখুন
ক) জন্মভূমির ছায়ায় এসে কবির অঙ্গ জুড়ায়।
খ) জন্মভূমির মাটিতে চিরনিদ্রায় যাওয়ার সুযোগ পাওয়াটাই কবির শেষ ইচ্ছা। 'জন্মভূমি' কবিতার কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই দেশে জন্মগ্রহণ করেন, জন্মভূমিকে ভালোবাসতে পেরেই নিজের জীবনের সার্থকতা অনুভব করেন। জন্মভূমির অপরূপ সৌন্দর্যের ঐশ্বর্যে কবি মুগ্ধ। এর সূর্যালোক কবির চোখ পরিপূর্ণভাবে জুড়িয়েছে। তাই কবির একান্ত ইচ্ছা এই সূর্যালোক দেখতে দেখতেই তিনি জন্মভূমির মাটিতে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন।
গ) উদ্দীপক ও 'জন্মভূমি' কবিতার জন্মভূমির প্রতি কবির গভীর মমত্ববোধ ও দেশপ্রেমের দিকটির মিল লক্ষ করা যায়। উদ্দীপকে বলা হয়েছে ধন-ধান্য, ফুলে-ফসলে সমৃদ্ধ পৃথিবীতে যত দেশ আছে, তার মধ্যে আমাদের জন্মভূমি সকল দেশের রানি, কারণ তা আমাদের স্বপ্ন দিয়ে তৈরি আর স্মৃতি দিয়ে ঘেরা। 'জন্মভূমি' কবিতায়ও একই কথা বলা হয়েছে। এই দেশে জন্মগ্রহণ করে জন্মভূমিকে ভালোবাসতে পেরেই কবি তাঁর জীবনের সার্থকতা অনুভব করেন। কবির জন্মভূমি অজস্র ধন-রত্নের আকর কি না, তাতে তাঁর কিছু আসে-যায় না। কারণ, তিনি এই মাতৃভূমির স্নেহছায়ায় যে সুখ ও শান্তি লাভ করেছেন, তা অতুলনীয়। জন্মভূমির বিচিত্র সৌন্দর্যের অফুরন্ত উৎস হচ্ছে বাগানের ফুল, চাঁদের জ্যোৎস্না, সূর্যের আলো। এসব কবি-মনকে আকুল করে। উদ্দীপকে যেমন স্বদেশের সৌন্দর্য স্মৃতি আর স্বপ্নের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে, তেমনি 'জন্মভূমি' কবিতায়ও স্বদেশের ছায়ায় শান্তি অনুভবের কথা বলা হয়েছে, ধন-রত্নকে বড় করে দেখা হয়নি। উভয় কবিতায় মূলত শান্তির এই আত্মিক মিলটির কথা বলা হয়েছে।
ঘ) উদ্দীপক ও 'জন্মভূমি' কবিতায় জন্মভূমিকে 'রানি' সম্বোধন করার কারণ হলো দেশপ্রেম। উদ্দীপকে বলা হয়েছে ধন-ধান্য, ফুল-ফসলের ঐশ্বর্যে সমৃদ্ধ এই বসুন্ধরায় সকল দেশের রানি আমাদের জন্মভূমি বাংলাদেশ। কারণ বাংলাদেশিরা তাদের স্মৃতি, কল্পনা ও স্বপ্ন দিয়ে এই দেশকে রূপের রানি করেছে। 'জন্মভূমি' কবিতায় কবি তাঁর দেশকে 'রানি' বলেছেন, রানির মতো রূপ ঐশ্বর্য থাকার কারণে নয়—এই দেশের মাটির সংস্পর্শে এলে কবির হৃদয়-মন জুড়িয়ে যায় বলে। কবি এই দেশে জন্মগ্রহণ করে, দেশকে ভালোবাসতে পেরেই তাঁর জন্মকে ধন্য বলে মনে করেন। তাঁর জন্মভূমি অজস্র ধন-রত্নের আকর কি না, অর্থাৎ রানির ধন-রত্নের সম্ভারে মানুষের চোখ যেমন ঝলসে যায়, কবির স্বদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ঐশ্বর্য রানির মতো অতটা আছে কি না, তা নিয়ে তাঁর কোনো মাথাব্যথা নেই। জন্মভূমির বাগানের ফুল, চাঁদের জ্যোৎস্না, সূর্যের আলো ইত্যাদি যা কিছু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আছে, তা-ই কবিকে রানির ঐশ্বর্য ও রূপের চেয়েও বেশি মুগ্ধ করেছে। উপর্যুক্ত বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকের জন্মভূমি কবির কল্পনায় সকল দেশের রূপের রানি হয়েছে আর 'জন্মভূমি' কবিতার জন্মভূমিকে কবি ভালোবাসতে পেরেই ধন্য হয়েছেন, রানির মতো রূপ দেখে নয়।