Online Model Test Online Model Test
৯০%

ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলা ১ম পত্র ২৬শ অধ্যায়: আনন্দপাঠ: অতিথি

ষষ্ঠ শ্রেণি Bangla 1st Paper Chapter 26 · MCQ, CQ ও বোর্ড প্রশ্ন উত্তরসহ

সৃজনশীল সংক্ষিপ্ত

এই অধ্যায়ের কয়েকটি প্রশ্ন

সৃজনশীল (CQ)
১. এই বাংলার আকাশ-বাতাস/এই বাংলার ভাষা। এই বাংলার নদী, গিরি-বনে/বাঁচিয়া মরিতে আশা। [জন্মেছি এই দেশে: সুফিয়া কামাল]
  1. ক) হোমার রচিত বিখ্যাত দুটি মহাকাব্য কী?১
  2. খ) অডিসিয়ুস রাতে নিশ্চিন্তে, আরামে ঘুমালেন কেন?২
  3. গ) উদ্দীপকের কবির যে আশা, তার সঙ্গে 'অতিথি' গল্পের অডিসিয়ুসের চেতনার মিল দেখাও।৩
  4. ঘ) উদ্দীপকটি 'অতিথি' গল্পের বিশেষ চেতনাটিকে ধারণ করেছে মাত্র। সামগ্রিক দিক নয়—যৌক্তিক মূল্যায়ন কর।৪
উত্তর দেখুন
ক) হোমার রচিত বিখ্যাত দুটি মহাকাব্য হলো 'ইলিয়াড' ও 'অডিসি'।
খ) দেশে ফেরার কথা শুনে এবং আতিথেয়তার দৃশ্য দেখে অডিসিয়ুস রাতে নিশ্চিন্তে আরামে ঘুমালেন। ইথাকা রাজ্যের রাজা অডিসিয়ুস আলসিনৌসের রাজ্যে এক রাতে প্রবেশ করেন। তিনি এ রাজ্যে প্রবেশ করে রাজা আলসিনৌসের কাছে নিজের দেশে ফিরে যাওয়ার ব্যাকুলতা প্রকাশ করেন। রাজা-রানি তার সব কথা শুনে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দেন। আর এই প্রতিশ্রুতি শুনে রাজা অডিসিয়ুস রাতে নিশ্চিন্তে, আরামে ঘুমালেন।
গ) স্বদেশপ্রেমের বিষয়ে উদ্দীপকের কবির আশার সঙ্গে 'অতিথি' গল্পের অডিসিয়ুসের চেতনার মিল রয়েছে। স্বদেশপ্রেম, স্বদেশভাবনা প্রতিটি মানুষের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। প্রত্যেকে তার দেশকে গভীরভাবে ভালোবাসে। দেশের প্রকৃতি, মানুষ সবকিছু সে অন্তর দিয়ে ভালোবাসে। উদ্দীপকের কবি সুফিয়া কামাল তার দেশকে খুবই ভালোবাসেন। এ দেশের আকাশ, বাতাস, ভাষা, নদী সবকিছুর মধ্যে কবি বাঁচা মরার স্বপ্ন দেখেন। 'অতিথি' গল্পের অডিসিয়ুস তার দেশকে প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসেন। দেবী কেলিপসো তাকে বন্দি করে অমরতার প্রস্তাব দিলেও তিনি নিজের দেশে ফেরার চেষ্টা করেছেন। আবার রাজা আলসিনৌসের রাজ্যে এসেও তিনি নিজের রাজ্যে ফিরে যাওয়ার আবদার করেন। রাজা যখন অডিসিয়ুসের দেশে ফেরার ব্যবস্থা ও প্রতিশ্রুতি দেন, তখন তিনি প্রশান্তি নিয়ে ঘুমাতে যান। তাই প্রসঙ্গত বলা যায়, স্বদেশভাবনার বিষয়ে উদ্দীপকের কবির আশার সঙ্গে পঠিত গল্পের অডিসিয়ুসের চেতনার মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
ঘ) উদ্দীপকটি 'অতিথি' গল্পের সামগ্রিক নয়, বিশেষ চেতনাটি ধারণ করেছে মাত্র। জননী, জন্মভূমি এবং দেশপ্রেম মানুষের অমূল্য সম্পদ। মানুষ সবকিছু ভুলতে পারলেও জন্মভূমির টান বা ভালোবাসা ভুলতে পারে না। যেখানেই থাক, সর্বদা দেশের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা অনুভব করেন। আর অতিথির প্রতি সৌজন্যবোধ বাঙালি জাতির অনন্য সম্পদ। উদ্দীপকের কবিতাংশের কবি সুফিয়া কামালের জন্মভূমির প্রতি গভীর ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে। কবি বাংলার ভাষা, আকাশ, বাতাস, নদীগিরি বন-বনানিতে বাঁচা-মরার প্রত্যাশা করেন। অপরদিকে 'অতিথি' গল্পের ইথাকা রাজ্যের রাজা অডিসিয়ুস তার দেশপ্রেমের জন্য দেবী কেলিপসোর সকল প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর রাজকুমারীর সহযোগিতায় রাজা আলসিনৌসের রাজ্যে প্রবেশ করেন। এখানকার রাজদরবারে অডিসিয়ুসকে আন্তরিকতার সাথে সম্মান ও সৌজন্যবোধ দেখানো হয়। রাজা অডিসিয়ুসকে তার রাজ্যে পাঠানোর জন্য সকল ব্যবস্থাও নেওয়া হয়। উপরের মূল্যায়ণ থেকে বলা যায়, উদ্দীপকে পঠিত গল্পের একটি ভাবের চিত্র লক্ষণীয়; আর তা হলো দেশপ্রেম। এ ছাড়া গল্পে রাজকুমারীর সহযোগিতা ও আতিথেয়তা উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি 'অতিথি' গল্পের একটি বিশেষ চেতনাকে ধারণ করে মাত্র।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
২. ক. অডিসিয়ুস কীভাবে রাজা আলসিনৌসের রাজ্যের নগরে প্রবেশ করেন? খ. রাজা আলসিনৌসের রাজপ্রাসাদের বর্ণনা দাও।
উত্তর দেখুন
উত্তর: ক. অডিসিয়ুস রাজকুমারীর সহযোগিতায় রাজা আলসিনৌসের রাজ্যের নগরে প্রবেশ করেন। অডিসিয়ুস ছিলেন গ্রিক রাজাদের একজন। ইথাকা রাজ্যের রাজা। ট্রয়যুদ্ধের পর ফেরার পথে জাহাজডুবিতে দেবী কেলিপসোর দ্বীপে সাত বছর বন্দি থাকার পর অষ্টম বছরে দেবী তাকে মুক্তি দেন। দেশে ফেরার পথে ঝড়ে নৌকা ভেঙে যাওয়ায় রাজা আলসিনৌসের রাজ্যে এসে পৌঁছান। তীরে উঠে ঘুম ভাঙার পর তিনি সঙ্গিনীদের সঙ্গে বল খেলতে থাকা রাজকন্যার কাছে সাহায্য চান; রাজকন্যা তাঁকে খাবার ও জামাকাপড় দেন। পরে রাতে নগরে ঢুকে পথে দেখা এক মেয়ের পিছু পিছু চুপচাপ গিয়ে তিনি রাজবাড়িতে পৌঁছান। খ. অপূর্ব সুন্দর আর প্রাকৃতিক দৃশ্যে সমৃদ্ধ রাজা আলসিনৌসের রাজপ্রাসাদ। রাজবাড়ির দৃশ্য অত্যন্ত মনোরম এবং বর্ণনাতীত। দূর থেকেই চোখে পড়ে রাজবাড়ির সামনের সারি সারি ফলের গাছ। ডালিম, আপেল, নাশপাতি, ডুমুর ও জলপাইয়ের গাছে সমৃদ্ধ রাজবাড়ির সম্মুখস্থ বাগান। এখানে ফল সারাবছর পাওয়া যায়। একদল ফল দেয় গ্রীষ্মকালে, আরেক দল শীতে। সারাবছর ধরেই ফুল ফুটছে, ফল পাকছে। লতিয়ে উঠেছে আঙুরলতা। থোকা থোকা ঝুলছে আঙুর। একদিক দিয়ে ফল পাকে আরেক দিক দিয়ে ফলে। বাগানে তরকারিও চাষ আছে। দেখে মনে হয় সবুজেরা যেন আপন মনে খেলছে। মাঠের দুপাশে দুটো ঝরনা। একটি এঁকেবেঁকে চলে গেছে মাঠের মধ্য দিয়ে। অন্যটি সারা শহরের লোকদের পানির জোগান দেওয়া শেষ করে এখন এসে যেন বিশ্রাম নিচ্ছে রাজবাড়ির কাছে। রাজপ্রাসাদের দরজাগুলো সোনা দিয়ে তৈরি। দরজার কাঠামো কাঠের নয় রূপার। হাতলগুলো সোনার। এগিয়ে গেলে ভেতরে অনেকগুলো কুকুর। কোনোটি সোনার, কোনোটি রূপার। যেন পাহারা দিচ্ছে সবাই মিলে। ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়ে দেওয়ালের পাশে উঁচু উঁচু সব আসন বসানো। প্রতিটি আসন ঢাকা অতি সুন্দর কাপড়ে। সোনার তৈরি যুবকেরা সব মশাল ধরে দাঁড়িয়ে আছে। অত্যন্ত সাজানো গোছানো, এবং অপূর্ব সুন্দর রাজা আলসিনৌসের রাজপ্রাসাদ।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
৩. ক. অডিসিয়ুস হাঁটু গেড়ে বসে রানির হাত ধরেছিলেন কেন? খ. দেবী কেলিপসোর দ্বীপে অডিসিয়ুসের দিন কেমন কেটেছিল বর্ণনা কর।
উত্তর দেখুন
উত্তর: ক. অডিসিয়ুস সাহায্যপ্রার্থী হয়ে নিজের দেশে ফেরার ব্যবস্থা করে দেওয়ার আবেদন জানাতে রানির সামনে হাঁটু গেড়ে বসে তাঁর হাত ধরেছিলেন। অডিসিয়ুস গ্রিকের অন্তর্গত ইথাকা রাজ্যের রাজা ছিলেন। সে কারণে রাজপ্রথা বা রীতিনীতি সম্পর্কে তিনি অবহিত ছিলেন। অডিসিয়ুস একবার বিপদে পড়ে রাজা আলসিনৌসের রাজ্যে গমন করেছিলেন। রাতে তিনি রাজবাড়িতে পৌঁছে সিংহাসন দেখে রাজাকে আর চেহারা দেখে রানিকে চিনে নেন। সেখানে গিয়ে তিনি রানির সামনে হাঁটু গেড়ে বসে তাকে নিজ রাজ্যে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে অনুরোধ করেন। খ. দেবী কেলিপসোর দ্বীপে অডিসিয়ুসের মনে দেশের জন্য কোনো শান্তি ছিল না। সমুদ্রের এক অজানা কোণে একটি দ্বীপ আছে, যেখানে কোনো জনপ্রাণী নেই, আছেন কেবল কেলিপসো। দেবী তিনি, সৌন্দর্যে তুলনাহীন। কিন্তু অন্যদিকে আবার ভীষণ ভয়ংকর। তাঁর ভয়ে সে দ্বীপে মানুষ তো ঘেঁষেই না, দেবতারাও পা দেন না। সে দ্বীপেই ট্রয় যুদ্ধ শেষে ফেরার পথে ঝড়ের কবলে পড়ে আছড়ে পড়েছিলেন অডিসিয়ুস। কোনো সঙ্গী ছিল না তাঁর। সঙ্গী যাঁরা ছিলেন জাহাজে তাঁরা বজ্রের আঘাতে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিলেন। তক্তা ধরে ভাসতে ভাসতে নয় দিন পর দশ দিনের দিন রাতের বেলা অন্ধকারে আছড়ে গিয়ে পড়েছিলেন অডিসিয়ুস ওই দ্বীপে। অনিন্দ্যসুন্দর দেবী কেলিপসো তাঁকে তুলে নিলেন। যত্ন করে সুস্থ করে তুললেন। দেবী এ-ও বললেন অডিসিয়ুসকে তিনি অমরত্ব দেবেন। তার বয়স বাড়বে না কোনোদিন। কিন্তু এক মুহূর্তের জন্যও অডিসিয়ুসের মনে কোনো শান্তি ছিল না। নিজের দেশকে মুহূর্তের জন্যও ভুলতে পারেননি অডিসিয়ুস। সাত বছর অডিসিয়ুস কাটান ওই দ্বীপে। আকাশ, বাতাস ছিল তার চোখের পানির সাক্ষী।

এই অধ্যায়ের বাকি সব প্রশ্ন, পরীক্ষা আর প্রশ্নপত্র তৈরি অ্যাকাউন্ট খুললেই পাবেন।

⚑ এই প্রশ্নে কী সমস্যা?

একটা বেছে নিন, চাইলে দুই লাইন লিখুন। সাইট নিজে বইয়ের সাথে মিলিয়ে যাচাই করবে।

+ ঠিক উত্তরটা জানলে দিন (ঐচ্ছিক)

আপনার রিপোর্টে প্রশ্ন ঠিক হলে ২০ কয়েন উপহার। ফ্রি অ্যাকাউন্ট খুললে বা লগইন করলে কয়েন আপনার অ্যাকাউন্টে জমা হবে।