সৃজনশীল (CQ)
১. কিশোর অন্তু খুবই দুরন্ত। তার পড়ালেখায় একটুও মন নেই। কিন্তু পরিবারের কড়া শাসনে প্রতিদিনই তাকে বইয়ের বোঝা কাঁধে করে স্কুলের পথে রওনা হতে হয়। পথে যেতে যেতে তার সঙ্গে বাদামওয়ালা, হাওয়াই মিঠাইওয়ালা, আইসক্রিমওয়ালার দেখা হতো। টিফিনের সময় এদের আনাগোনা থাকত বিদ্যালয়ের মাঠের পাশেই। তাই সবাই যখন টিফিন পিরিয়ডে খেলায় মেতে উঠতো, সে তখন এসব ফেরিওয়ালাদের সঙ্গে ভাব জমিয়ে নানা গল্প করত। সে এদের মতো মুক্তজীবন চায়। কল্পনায় সে দূর গ্রামের নির্জন পরিবেশ, অতুলনীয় সৌন্দর্য, উন্মুক্ত মাঠ, প্রান্তর দূরন্ত ছেলেদের খেলায় মেতে ওঠা প্রভৃতি দেখতে পেতো। বীরের বেশে পঙ্খীরাজ ঘোড়ায় চড়ে সে কল্পিত রাজ্যের রাজা হতো। বস্তুত, শিশুমনের কল্পনা অসীম ও অনন্ত।
- ক) দইওয়ালার গ্রাম কোন নদীর ধারে?১
- খ) দই বেচতে যে কতো সুখ সে তোমার কাছে শিখে নিলুম। দইওয়ালার এরূপ ভাবনার কারণ কী? ব্যাখ্যা কর।২
- গ) উদ্দীপকে 'অমল ও দইওয়ালা' নাটিকার কোন দিকটি প্রতিভাত হয়? উপস্থাপন কর।৩
- ঘ) ''শিশুমনের কল্পনা অসীম ও অনন্ত''—উদ্দীপক ও নাটিকার আলোকে বিশ্লেষণ কর।৪
উত্তর দেখুন
ক) দইওয়ালার গ্রাম শামলী নদীর ধারে।
খ) অমলের দইওয়ালা হওয়ার কথা শুনে দইওয়ালার এরূপ ভাবনা হয়েছে। দইওয়ালা সেই পাঁচমুড়া পাহাড়ের তলায় শামলী নদীর ধারে বাস করে। তার সাথে পরিচয় হয় ঘরে বন্দি কিশোর অমলের সাথে। দইওয়ালার দই বেচার সুর; দূর-দূরান্তে ঘুরে বেড়ানো এবং মুক্ত জীবন অমলের ভালো লাগে। তাই সে বড় হয়ে দইওয়ালা হতে চায়। আর অমলের এ মূল্যবান কথা শুনে দইওয়ালা ভাবে, দই বেচাতে যে কত সুখ সে তোমার কাছে শিখে নিলুম।
গ) উদ্দীপকে 'অমল ও দইওয়ালা' নাটিকায় শিশুদের মুক্তজীবনের প্রত্যাশার দিকটি প্রতিভাত হয়। শিশুরা স্বভাবতই দুষ্ট ও চঞ্চল প্রকৃতির। তারা স্বাধীন ও মুক্ত জীবন পছন্দ করে। বদ্ধ ঘরে থাকতে তারা পছন্দ করে না। বাইরের প্রকৃতি, জনজীবন তাদেরকে আকৃষ্ট করে। উদ্দীপকের অন্তু স্বাধীন ও মুক্তজীবন পছন্দ করে। স্কুলের ধরাবাধা নিয়ম আর ব্যাগভর্তি বই তার কাছে অস্বস্তিকর মনে হয়। তাই সে স্কুলের মাঠের ফেরিওয়ালাদের সাথে ভাব জমায় এবং আনন্দ পাওয়ার চেষ্টা করে। 'অমল ও দইওয়ালা' নাটিকার অমলও দইওয়ালার মতো মুক্তজীবন ভালোবাসে। সে দইওয়ালার মতো দূর-দূরান্তে গিয়ে মধুর সুরে দই বিক্রি করতে চায়। তার কাছে বই পড়ে পণ্ডিত হওয়ার চেয়ে দইওয়ালার জীবনই ভালো। অমলের মতো উদ্দীপকের অন্তুও বন্ধ খাঁচায় না থেকে মুক্তজীবন প্রত্যাশা করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে পঠিত নাটিকার শিশুদের মুক্তজীবনের দিকটি প্রতিভাত হয়েছে।
ঘ) উদ্দীপক ও পঠিত নাটিকার আলোকে বলা যায়, শিশুমনের আবেগ এবং কল্পনা অসীম ও অনন্ত। সাধারণত শিশুরা বেশি কল্পনা প্রবণ হয়। মনের কল্পনায় তারা বিশ্বজগৎ ঘুরে বেড়ায়। আকাশের তারা, সমুদ্রের তলদেশ কিংবা পাহাড়ের চূড়া এ সম্পর্কে জানতে চায়। তাদের কল্পনা এবং কৌতূহলের যেন শেষ নেই। উদ্দীপকের কিশোর অন্তু খুবই কল্পনাপ্রবণ এবং কৌতূহলী। স্কুলের ধরাবাঁধা জীবন, নিয়মমতো লেখা তার ভালো লাগে না। সে ফেরিওয়ালাদের মতো মুক্তজীবন পছন্দ করে এবং কল্পনা করতে ভালোবাসে। সে কল্পনায় পঙ্খীরাজ ঘোড়ায় চড়ে কল্পিত রাজ্যের রাজা হওয়ার আনন্দ অনুভব করে। উদ্দীপকের অন্তুর মতো পঠিত নাটিকার অমলও খুবই কল্পনাপ্রবণ এবং মুক্তজীবনের প্রত্যাশী, সে কল্পনার জগতে দইওয়ালার, পাহাড়তলা গ্রাম, শামলী নদী, লাল রাস্তা মেয়েদের পানি আনা সবকিছু দেখতে পায়। সে কল্পনা করে দইওয়ালার প্রাচীন গ্রামের খবরও বলে দেয়। উপযুক্ত বিশ্লেষণের আলোকে বলা যায়, শিশুমনের কল্পনা অসীম ও অনন্ত। বড়রা যা চিন্তা করতে পারে না; সেই কল্পনা ছোটরা ঠিকই করে। তাই আমরা নাটিকার অমল ও উদ্দীপকের অন্তুকে কল্পনার জগতে হারিয়ে যেতে দেখি।