Online Model Test Online Model Test
৯০%

ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলা ১ম পত্র ২৮শ অধ্যায়: আনন্দপাঠ: বিলাতের প্রকৃতি

ষষ্ঠ শ্রেণি Bangla 1st Paper Chapter 28 · MCQ, CQ ও বোর্ড প্রশ্ন উত্তরসহ

সৃজনশীল সংক্ষিপ্ত

এই অধ্যায়ের কয়েকটি প্রশ্ন

সৃজনশীল (CQ)
১. ঢাকা শহরে যত বেশি উঁচু উঁচু দালান-কোঠা এর প্রাকৃতিক পরিবেশের ঠিক ততটাই অবনতি হয়েছে। এখানে নেই মন মাতানো সবুজ, নেই কোনো বন-বনানী। আছে কৃত্রিমতার ছোঁয়া, যানবাহন আর কল-কারখানার ধোঁয়া। এ শহরের আবহাওয়া স্বাস্থ্যকর নয়। প্রাণভরে শ্বাস নেওয়ার মতো বিশুদ্ধ বায়ু নেই এখানে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বসবাসের অযোগ্য হয়ে যাচ্ছে ইট-পাথরের এই শহর।
  1. ক) 'বিলাতের প্রকৃতি' ভ্রমণকাহিনিটি কোন গ্রন্থের অংশ বিশেষ?১
  2. খ) ইংল্যান্ডের গ্রীষ্মকালের খ্যাতি দুনিয়াজোড়া কেন? ব্যাখ্যা করো।২
  3. গ) উদ্দীপকের সাথে 'বিলাতের প্রকৃতি' ভ্রমণ-কাহিনি বৈসাদৃশ্য আলোচনা করো।৩
  4. ঘ) উদ্দীপকটিতে 'বিলাতের প্রকৃতি' ভ্রমণকাহিনির বিপরীত ভাব ফুটে উঠেছে—মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।৪
উত্তর দেখুন
ক) 'বিলাতের প্রকৃতি' ভ্রমণকাহিনিটি 'বিলাতে সাড়ে সাতশ দিন' গ্রন্থের অংশবিশেষ।
খ) প্রকৃতির রূপময়তা ও চমৎকার বিনোদনের ব্যবস্থার কারণে ইংল্যান্ডের গ্রীষ্মকালের খ্যাতি দুনিয়াজোড়া। ইংল্যান্ডে বসন্তকালে প্রকৃতি সবুজ-শ্যামলে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। বাহারি রঙের অসংখ্য ফুল, দিগন্ত বিস্তৃত শস্যের সম্ভারে চারদিক যেন সেজে ওঠে। গ্রীষ্মে প্রাকৃতিক এই প্রাচুর্যের সাথে যুক্ত হয় স্নিগ্ধ সূর্যালোক। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অবলোকন এবং সূর্যালোকে স্নান করার জন্য ইংল্যান্ডে আছে অনেক নজরকাড়া পার্ক ও বিশ্রামকুঞ্জ। এসব কারণেই এ দেশের গ্রীষ্মকালের খ্যাতি বিশ্বজোড়া।
গ) বিষয়গত দিক থেকে 'বিলাতের প্রকৃতি' ভ্রমণকাহিনির সাথে উদ্দীপকের বৈসাদৃশ্য রয়েছে। 'বিলাতের প্রকৃতি' ভ্রমণকাহিনিতে লন্ডনের মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশের পরিচয় পাওয়া যায়। সেখানকার মন মাতানো সবুজের সমারোহ, রঙিন ফুলের বৈচিত্র্য, রং জোড়ানো শস্যখেত দেখে যে কেউ মুগ্ধ হবে। এমনকি লন্ডনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিদেশিদের মনেও আনন্দ জাগায়। উদ্দীপকটিতে ঢাকা শহরের পরিবেশের সার্বিক অবনতির অবস্থা দেখানো হয়েছে। এখানে লন্ডনের মতো মন কাড়ানো সবুজ বন-বনানী নেই। যানবাহন আর কল-কারখানার কালো ধোঁয়া ও বর্জ্যে এখানকার বায়ু ও পানি দূষিত হয়ে গেছে। 'বিলাতের প্রকৃতি' ভ্রমণকাহিনিতেও লেখক লন্ডনের বাড়িগুলোর চিমনিতে ধোঁয়া দেখতে পান। তা দেখে ক্ষণিকের জন্য তার মন বিষাদে ভরে গেলেও পরক্ষণেই লন্ডনের অকৃত্রিম প্রাকৃতিক পরিবেশ তাকে মুগ্ধ করে। এখানকার সবুজ বৃক্ষ, শস্যখেত, ফুল, স্নিগ্ধ রোদ তার মনে এদেশের জন্য ভালোবাসা জাগায়। ঢাকা ও লন্ডন শহরের মধ্যে তুলনা করলে দেখা যায় যেখানে ঢাকার প্রাকৃতিক পরিবেশে বিধ্বস্ত সেখানে লন্ডনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর।
ঘ) ঢাকা ও লন্ডনের প্রাকৃতিক পরিবেশের ভিন্নতার কারণে উদ্দীপকটিতে 'বিলাতের প্রকৃতি' ভ্রমণকাহিনির বিপরীত ভাব ফুটে উঠেছে। 'বিলাতের প্রকৃতি' ভ্রমণকাহিনিতে বিলাতের প্রাকৃতিক রূপবৈচিত্র্যের কথা উঠে এসেছে। সুসজ্জিত পার্ক, ফুল বাগান, শস্যখেত ইত্যাদি লন্ডনকে অনন্যতা দান করেছে। ইংল্যান্ডের অকৃত্রিম প্রাকৃতিক পরিবেশ সৌন্দর্যপিপাসুদের মুগ্ধ করে। উদ্দীপকে ঢাকার বিরূপ প্রাকৃতিক পরিবেশের চিত্র ফুটে উঠেছে। এখানে নেই পর্যাপ্ত বন-গাছপালা। আছে কলকারখানার ধোঁয়া আর বর্জ্য। দূষিত বায়ুতে ভরপুর এ শহর আগামী প্রজন্মের জন্য বসবাসের অযোগ্য হয়ে যাচ্ছে। পক্ষান্তরে 'বিলাতের প্রকৃতি' ভ্রমণকাহিনিতে ঢাকার মতো এমন বিরূপ পরিবেশ নয় বরং লন্ডনের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে। 'বিলাতের প্রকৃতি' ভ্রমণকাহিনিতে ইংল্যান্ডের প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য সম্পর্কে বলা হয়েছে। লন্ডনের গ্রীষ্মকালে সব বয়সী মানুষ রোদের স্নিগ্ধতা উপভোগ করে। যেখানে ঢাকা শহরের রোদ-বৃষ্টি সবই অস্বাস্থ্যকর। ঢাকায় শ্বাস নেওয়ার মতো বিশুদ্ধ বায়ু নেই। এখানেই লন্ডন আর ঢাকা শহরের প্রাকৃতিক পরিবেশের ভিন্নতা লক্ষণীয়। তাই বলা যায়, "উদ্দীপকটিতে 'বিলাতের প্রকৃতি' ভ্রমণকাহিনির বিপরীত ভাব ফুটে উঠেছে"—মন্তব্যটি যথার্থ।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
২. ক. বিলাতে ঋতুর আসা-যাওয়া চোখে পড়ে না কেন? খ. 'বিলাতের প্রকৃতি' ভ্রমণকাহিনিতে লেখকের যে দেশপ্রেম ফুটে উঠেছে তা বর্ণনা কর।
উত্তর দেখুন
উত্তর: ক. ঋতুভেদে প্রকৃতির বৈচিত্র্য লক্ষ করা যায় না বলে বিলাতে ঋতুর আসা-যাওয়া চোখে পড়ে না। বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ। গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত এই ছয়টি ঋতু ভিন্ন ভিন্ন রূপে উপস্থিত হয়। ঋতুভেদে আমাদের দেশের প্রকৃতির বিচিত্র রূপ লক্ষ করা যায়। যেমন-গ্রীষ্মে প্রচণ্ড গরম, বর্ষাকালে সর্বত্র পানিতে ভরপুর থাকে, শরতে কাশফুল ফোটে, হেমন্তে নবান্নের উৎসব, শীতকালে প্রচুর শীত পড়ে এবং বসন্তকালে গাছে গাছে নতুন পাতা গজায় ইত্যাদি। লেখক বাংলাদেশের প্রকৃতির এই বিচিত্র রূপ দেখে অভ্যস্ত। যা বিলাতে দেখা যায় না। তাই সেখানে ঋতু কখন পরিবর্তন হয় তা বোঝা যায় না। খ. 'বিলাতের প্রকৃতি' ভ্রমণকাহিনিতে লেখক ইংল্যান্ডের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি মাতৃভূমি ও মাতৃভাষাকে স্মরণের মধ্য দিয়ে তার দেশপ্রেম ফুটিয়ে তুলেছেন। ভ্রমণকাহিনির লেখক সুদূর লন্ডনে বসবাস করছেন। সেখানে বাস করেও তিনি দেশের কথা মনে করেন। বিলাতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সাথে তিনি বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের তুলনা করেছেন। বাংলাদেশের ঋতুবৈচিত্র্যের তুলনা করেছেন তিনি ইংল্যান্ডের ঋতুর প্রেক্ষাপটে। বাংলাদেশের ঋতুভেদে যে প্রকৃতির বিচিত্র রূপ ফুটে ওঠে সারাবিশ্বের কোথাও এমন নেই সেকথাও লেখক তাঁর ভ্রমণকাহিনিতে উল্লেখ করেছেন। ভ্রমণকাহিনির লেখক বিলাতে এক সন্ধ্যায় জানালার ফাঁক দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেন বৃষ্টির প্রতীক্ষায়। কিন্তু তার চোখে পড়ে শুধু চিমনি থেকে বের হওয়া কালো ধোঁয়া। ধোঁয়ায় আর মেঘে যেন একাকার হয়ে গেছে ইংল্যান্ডের আকাশ। এই অবস্থা দেখে তিনি কল্পনায় ফিরে যান নিজের দেশে। তিনি ভাবছেন, হয়তো তার পরিজনেরাও আকাশের ঘন কালো মেঘ দেখছে। আষাঢ়ের বর্ষণের মধুর ঝংকার হয়তো তাদের নিদ্রাকাতর করে দিয়েছে। তখনই তার মনে হয়েছে মা, মাতৃভাষা আর মাতৃভূমির মতো প্রিয় আর কিছুই নেই। এখানে মূলত তাঁর দেশপ্রেমই ফুটে উঠেছে। সূত্র: আনন্দপাঠ, ষষ্ঠ শ্রেণি (NCTB, ২০২৫), পৃ. ৫৫
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
৩. ক. 'মাটিতে যেদিকে চাইছি দেখছি ঘাসেও ফুল' কথাটি বুঝিয়ে লেখ। খ. ইংল্যান্ডের মে-জুনের প্রকৃতির বর্ণনা দাও।
উত্তর দেখুন
উত্তর: ক. লন্ডনের পার্কে ফুলের সমারোহ দেখে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন। 'বিলাতের প্রকৃতি' নামক ভ্রমণকাহিনিতে লেখক ইংল্যান্ডের শহর লন্ডনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য চিত্রায়িত করেছেন। সেখানে লেখক রিজেন্ট পার্ক এবং কিউ গার্ডেনে গিয়েছিলেন। সবকিছু দেখে মনে হলো যেন ফুলেরই বাগান। গোলাপ, টিউলিপ, উইলো, ডেইজি প্রভৃতি ফুলের সৌন্দর্যে লেখক বিমোহিত। যেদিকে যাচ্ছে সেদিকেই ফুল চোখে পড়ে। আগে, পিছে মাঝে শুধু ফুল আর ফুল, ফুল ছাড়া কোনো জায়গা নেই। এমনকি সবার নিচে থাকা ঘাসও সেখানে ছোট হয়ে নেই—ঘাসের মধ্যেও ডেইজি আর ক্রোকাস ফুল ফুটে আছে। তাই লেখক বলেছেন, "মাটিতে যে দিকে চাইছি- দেখছি ঘাসেও ফুল।" খ. ইংল্যান্ডে মে ও জুন মাসে শস্যখেতের বিচিত্র রূপ সৌন্দর্যের প্লাবন বইয়ে দেয়। 'বিলাতের প্রকৃতি' ভ্রমণকাহিনিতে লেখক মে-জুনের বসন্তকালীন সৌন্দর্য বর্ণনা করেছেন ইংল্যান্ডের। আমাদের সবুজ শ্যামল বাংলাদেশের সবুজও এ সময় ইংল্যান্ডের সবুজের কাছে যেন ফিকে হয়ে যায়। এপ্রিলেই এর সূচনা ঘটে আর সেপ্টেম্বরে এর পরিণতি। সেদেশের মাঠের মাঝখান দিয়ে পিচঢালা পথের দুপাশের গাছপালার সবুজ ফুলের অনন্ত বৈচিত্র্য আর লতাপাতার ঘন নীলিমা চোখের ওপর মধু-মায়া অঞ্জন লাগিয়ে দিয়ে যায়। দিগন্তবিস্তৃত মাঠ। খাড়া-উঁচু; সোজা-নিচু বা একটানা সমতল নয়। তাতে কোথাও বাজরার খেত। কোথাও সরিষার ফুলের মতো সারা মাঠ ছড়ানো ফিকে আর গাঢ় হলুদের বিছানা পাতা। তার পাশে গো-চারণভূমি। তার নিচে বহু বিচিত্র শস্যখেত। অপরূপ শ্যামলে-সবুজে, বেগুনি-হলুদে, নীলে-লালে আর বিচিত্র আভায়-প্রভায় গায়ে গায়ে লেগে থেকে বইয়ে দিচ্ছে সৌন্দর্যের প্লাবন। মে-জুনের ইংল্যান্ড না দেখলে বিশ্বাস করাই কষ্টকর যে, প্রকৃতির এত রূপ, এত নিটোল স্বাস্থ্য যা বিদেশিদের মনেও সে দেশকে ভালোবাসার নেশা জাগায়।

এই অধ্যায়ের বাকি সব প্রশ্ন, পরীক্ষা আর প্রশ্নপত্র তৈরি অ্যাকাউন্ট খুললেই পাবেন।

⚑ এই প্রশ্নে কী সমস্যা?

একটা বেছে নিন, চাইলে দুই লাইন লিখুন। সাইট নিজে বইয়ের সাথে মিলিয়ে যাচাই করবে।

+ ঠিক উত্তরটা জানলে দিন (ঐচ্ছিক)

আপনার রিপোর্টে প্রশ্ন ঠিক হলে ২০ কয়েন উপহার। ফ্রি অ্যাকাউন্ট খুললে বা লগইন করলে কয়েন আপনার অ্যাকাউন্টে জমা হবে।