সৃজনশীল (CQ)
১. তথ্য-১ : প্রধান ফসল ধান। প্রচুর ধান উৎপাদন। রপ্তানিকৃত দ্রব্য চিংড়ি ও ব্যাঙ।
তথ্য-২ : আকাশপথে আমেরিকায় তৈরি পোশাক রপ্তানি। পাটজাত দ্রব্য বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত।
- ক) কোন সম্রাট ৫০টি বৌদ্ধবিহার নির্মাণ করেন?১
- খ) 'টোল' বলতে কী বোঝায়?২
- গ) তথ্য-১ এর মতো প্রাচীন বাংলাদেশের গৌরবময় ক্ষেত্রটি ব্যাখ্যা কর।৩
- ঘ) তথ্য-২ এ উল্লেখিত বিষয়গুলো প্রাচীন বাংলাদেশের গৌরবের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ-মতামত দাও।৪
উত্তর দেখুন
ক) সম্রাট ধর্মপাল ৫০টি বৌদ্ধবিহার নির্মাণ করেন।
খ) প্রাচীন বাংলাদেশে হিন্দুদের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বলা হতো টোল। হিন্দু ধর্মগ্রন্থ টোলের প্রধান পাঠ্য বিষয় ছিল। প্রাচীন বাংলাদেশে হিন্দুদের প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিল তিন ধরনের। যেমন : গুরুগৃহ, চতুষ্পাঠী এবং পাঠশালা। চতুষ্পাঠীতে পড়তে পারত কেবল ব্রাহ্মণ ঘরের ছেলেমেয়েরা। এখানে সংস্কৃত ভাষা শেখানো হতো, যাতে টোলে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে সুবিধা হয়।
গ) তথ্য-১ প্রাচীন বাংলাদেশের গৌরবময় ক্ষেত্রটি হলো অর্থনীতি যা কৃষি, কুটিরশিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যকে বোঝায়। প্রাচীনযুগে বাংলাদেশের অর্থনীতি ছিল কৃষি নির্ভর। এ সময় কৃষিতে উদ্বৃত্ত ছিল। ধান ছিল প্রধান ফসল। প্রচুর আখও উৎপাদন হতো। আখ থেকে উৎপাদিত গুড় ও চিনির খ্যাতি ছিল। এই গুড় ও চিনি বিদেশে রপ্তানি হতো। তুলা, সরিষা ও পান চাষের জন্যও বাংলাদেশের খ্যাতি ছিল। প্রাচীনযুগ থেকেই বাংলাদেশের তাঁতিরা মিহি সুতি ও রেশমি কাপড় বুনতে পারদর্শী ছিল। আমরা জানি বাংলাদেশের মসলিন কাপড় পৃথিবী বিখ্যাত ছিল। এই মসলিন তখনও রপ্তানি হতো। কৃষি ও শিল্পক্ষেত্রে উৎপাদন বাড়ায় ব্যবসা-বাণিজ্য বিকাশ লাভ করে। প্রাচীন বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য নদীপথেই বেশি হতো। এভাবে প্রাচীন আমলে বাংলাদেশের অর্থনীতির গৌরবময় দিকটি সুস্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
ঘ) আমি মনে করি তথ্য-২ এ উল্লেখিত বিষয়গুলো প্রাচীন বাংলাদেশের গৌরবের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। প্রাচীনকাল থেকেই বাংলার কারিগররা বেশ ভালো কাপড় বুনত। তাই এদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত মসলিন কাপড়। সে সময় তাঁতিরা মিহি সুতি ও রেশমি কাপড় বুনতে পারত। দেশের চাহিদা মিটিয়েও কাপড় বিদেশে রপ্তানি করা হতো। বাংলার মসলিন কাপড়ের সুনাম সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছিল। অনুরূপভাবে, বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় তৈরি পোশাক ও পাটজাত দ্রব্য রপ্তানি করে বিশ্বব্যাপী সুনাম অর্জন করছে। বর্তমানে বাংলাদেশ পোশাক রপ্তানি করে সিংহভাগ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। এমন কি সারা বিশ্বে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের কদর রয়েছে। বর্তমান তৈরি পোশাক ও পাটজাত দ্রব্য যেমন বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত তেমনি প্রাচীন বাংলার মসলিন ও জামদানি কাপড়ও বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত ছিল। সুতরাং, তথ্য ২-এ উল্লেখিত বিষয়গুলো প্রাচীন বাংলাদেশের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।