সৃজনশীল (CQ)
১. হাজেরা বাবার সাথে গ্রামে বেড়াতে যায়। তার ফুফাতো বোন জুলেখার পছন্দ সকালে পান্তাভাত ও মাছ দিয়ে নাস্তা করা ও ভাটিয়ালি গান শোনা। নাস্তায় মাছ-ভাত খেতে দিলে হাজেরার মন খারাপ হয়। কারণ তার পছন্দ বার্গার, পরোটা মাংস। পড়াশোনা শেষে তার সময় কাটে ইন্টারনেট ব্যবহার করে।
- ক) সংস্কৃতি কী?১
- খ) সংস্কৃতি উপাদানকে কী কী ভাগে ভাগ করা যায়?২
- গ) জুলেখার মাধ্যমে বাংলাদেশের কোন সংস্কৃতি ফুটে উঠেছে ব্যাখ্যা কর।৩
- ঘ) হাজেরার সংস্কৃতিতে বিশ্বায়নের প্রভাব লক্ষ করা যায় মতামত দাও।৪
উত্তর দেখুন
ক) সংস্কৃতি হলো মানুষের জীবনযাপনের এমন একটি সমষ্টি, যা তার আচরণ, বিশ্বাস, আচার-অনুষ্ঠান, জ্ঞান, শিল্পকলা, নৈতিকতা, আইন এবং রীতিনীতির মাধ্যমে প্রকাশ পায়।
খ) সংস্কৃতির উপাদানগুলোকে সাধারণত দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো— ১. বস্তুগত উপাদান: এগুলো হলো দৃশ্যমান এবং স্পর্শযোগ্য জিনিসপত্র যা মানুষ তৈরি করে এবং ব্যবহার করে। যেমন— পোশাক, ঘরবাড়ি, যানবাহন, আসবাবপত্র এবং প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি ইত্যাদি। ২. অবস্তুগত উপাদান: এগুলো হলো চিন্তাভাবনা, বিশ্বাস, আচরণ, রীতিনীতি এবং মূল্যবোধের মতো বিমূর্ত বিষয়, যা একটি সমাজের মানসিক ও নৈতিক দিককে প্রকাশ করে। যেমন—ভাষা, ধর্ম, মূল্যবোধ, আচার-অনুষ্ঠান এবং নীতিমালা ইত্যাদি। এই দুই উপাদান একসঙ্গে একটি সমাজের সামগ্রিক সংস্কৃতি গঠন করে।
গ) উদ্দীপকে জুলেখার মাধ্যমে বাংলাদেশের গ্রামীণ এবং ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে। তার পছন্দ পান্তাভাত ও মাছ দিয়ে নাস্তা করা, যা বাংলাদেশের প্রাচীন গ্রামীণ খাদ্যসংস্কৃতির অন্যতম নিদর্শন। এই ধরনের খাবার গ্রামাঞ্চলের মানুষের সাধারণ পছন্দ এবং জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাছাড়া, জুলেখার ভাটিয়ালি গান শোনার অভ্যাসও বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতিকে প্রকাশ করে। ভাটিয়ালি গান মূলত নদীমাতৃক বাংলার মানুষের আবেগ, জীবনযাত্রা ও প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত। এটি দেশের ঐতিহ্যবাহী সঙ্গীত ধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই উপাদানগুলো বাংলাদেশের গ্রামীণ সংস্কৃতির স্বকীয়তা, সরলতা এবং ঐতিহ্যকে তুলে ধরে, যা আধুনিক শহুরে সংস্কৃতির থেকে আলাদা।
ঘ) হ্যাঁ, উদ্দীপকে হাজেরার সংস্কৃতিতে বিশ্বায়নের প্রভাব খুব স্পষ্ট। তার খাবারের পছন্দ, যেমন বার্গারের মতো বিদেশি ফাস্ট ফুড, বিদেশি খাবার সংস্কৃতির প্রতি তার আকর্ষণকে প্রকাশ করে। এটি বিশ্বায়নের কারণে স্থানীয় খাবার সংস্কৃতি থেকে ধীরে ধীরে দূরে সরে যাওয়ার একটি উদাহরণ। অন্যদিকে, হাজেরার সময় কাটানোর প্রধান মাধ্যম ইন্টারনেট, যা তাকে প্রযুক্তি এবং বৈশ্বিক যোগাযোগের সঙ্গে যুক্ত রেখেছে। বিশ্বায়নের কারণে মানুষ এখন সহজেই বৈশ্বিক সংস্কৃতি, জীবনধারা এবং প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হতে পারছে। হাজেরার ক্ষেত্রে এটি স্পষ্ট যে তার পছন্দ এবং অভ্যাস আধুনিক বিশ্বায়নের প্রভাব দ্বারা গঠিত। এর ফলে তার নিজস্ব স্থানীয় সংস্কৃতির প্রতি মনোযোগ কিছুটা কমে এসেছে। উদাহরণস্বরূপ, যেখানে তার ফুফাতো বোন জুলেখা পান্তাভাত, মাছ এবং ভাটিয়ালি গানকে উপভোগ করে, হাজেরা সেই সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহী নয় এবং তার পরিবর্তে আধুনিক খাবার ও প্রযুক্তিতে মগ্ন থাকে। এটি প্রমাণ করে যে বিশ্বায়ন শুধু অর্থনীতি এবং প্রযুক্তির ক্ষেত্রেই নয়, বরং মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা এবং সংস্কৃতিতেও গভীর প্রভাব ফেলেছে। এটি কখনো ইতিবাচক হতে পারে, আবার কখনো স্থানীয় সংস্কৃতিকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।