সৃজনশীল (CQ)
১. জাকির সাহেব ও আফরিন দম্পতি চাকরি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ২০ বছরের অধিক সময় ধরে বসবাস করছেন। সেখানে তাদের ছেলে স্বননের জন্ম হয়। তারা সেখানে নিজেদের আয় থেকে একটি ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ক্রয় করেন। সরকারকে নিয়মিত আয়কর দেন। দেশের আইনকানুন মেনে চলেন। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য একটি তহবিল পরিচালনা করেন। এই দম্পতি এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।
- ক) নাগরিক কিসের পরিচয়ে নাগরিকত্ব লাভ করে?১
- খ) রাষ্ট্রে বসবাসকারী সকলেই নাগরিক নয় কেন?২
- গ) জাকির সাহেবের নাগরিকত্ব লাভের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা কর।৩
- ঘ) জাকির সাহেব ও স্বননের নাগরিকতার পার্থক্য বিশ্লেষণ কর।৪
উত্তর দেখুন
ক) একজন নাগরিক রাষ্ট্রের পরিচয়েই নাগরিকত্ব লাভ করে।
খ) রাষ্ট্রে নিজ দেশের নাগরিক ছাড়াও শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি ইত্যাদি নানা কারণে ভিন্ন দেশের অনেক লোক বাস করে। এরা বিদেশি হিসেবে পরিচিত। তারা ঐ রাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করে না এবং ঐ রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য পোষণ করে না। তারা কেবল সামাজিক অধিকার ভোগ করে, কিন্তু ভোটাধিকারের মতো রাজনৈতিক অধিকার পায় না। অথচ নাগরিক হতে হলে রাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হয়, রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত থাকতে হয় এবং জন্মসূত্রে বা অনুমোদনসূত্রে নাগরিকত্ব লাভ করতে হয়। তাই রাষ্ট্রে বসবাসকারী সকলেই নাগরিক নয়।
গ) জাকির সাহেব অনুমোদনসূত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করেছেন। নাগরিকত্ব লাভের দুটি প্রধান উপায় হলো জন্মসূত্রে ও অনুমোদনসূত্রে। যারা আবেদনের মাধ্যমে কোনো দেশের নাগরিকত্ব লাভ করে তারা অনুমোদনসূত্রে নাগরিক। এজন্য রাষ্ট্রের আরোপিত কিছু শর্তের এক বা একাধিক পূরণ করতে হয়; যেমন- ঐ রাষ্ট্রের নাগরিককে বিয়ে করা, সম্পত্তি ক্রয় করা, দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করা, চাকরিরত থাকা, ঐ রাষ্ট্রের ভাষা জানা, সেনাবাহিনীতে চাকরি গ্রহণ, ভালো চরিত্রের অধিকারী হওয়া, উন্নততর দক্ষতার অধিকারী হওয়া, রাজনৈতিক আশ্রয় গ্রহণ ইত্যাদি। উদ্দীপকের জাকির সাহেব জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক নন; তিনি বাংলাদেশ থেকে চাকরি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ২০ বছরের অধিক সময় ধরে সেখানে বসবাস করছেন (দীর্ঘদিন বসবাস ও চাকরি), নিজের আয়ে একটি ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান কিনেছেন (সম্পত্তি ক্রয়), নিয়মিত আয়কর দেন, আইনকানুন মেনে চলেন এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য তহবিল পরিচালনা করেন (ভালো চরিত্র)। এসব শর্ত পূরণ করে আবেদনের মাধ্যমে তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব পেয়েছেন। সুতরাং জাকির সাহেব অনুমোদনসূত্রে নাগরিক।
ঘ) জাকির সাহেব ও তার ছেলে স্বননের নাগরিকত্বের মূল পার্থক্য হলো নাগরিকত্ব লাভের উপায়ে। জাকির সাহেব আবেদনের মাধ্যমে, রাষ্ট্রের আরোপিত শর্ত (দীর্ঘদিন বসবাস, চাকরি, সম্পত্তি ক্রয়, আইন মেনে চলা, ভালো চরিত্র ইত্যাদি) পূরণ করে মার্কিন নাগরিক হয়েছেন। তাই তিনি অনুমোদনসূত্রে নাগরিক। অন্যদিকে স্বনন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জন্মস্থান নীতি অনুসরণ করে; এ নীতি অনুযায়ী মা-বাবা যে দেশেরই হোক না কেন, সন্তান যে দেশে জন্মগ্রহণ করবে সে দেশের নাগরিক হবে। তাই স্বনন কোনো আবেদন ছাড়াই জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক। আবার স্বননের মা-বাবা মূলত বাংলাদেশি হওয়ায় বাংলাদেশের জন্মসূত্র নীতি অনুযায়ী সে বাংলাদেশেরও নাগরিক হতে পারে, অর্থাৎ সে দ্বৈত নাগরিকত্বের অধিকারী হতে পারে এবং প্রাপ্তবয়স্ক হলে ইচ্ছা করলে যেকোনো একটি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব রাখতে পারে। জাকির সাহেবের নাগরিকত্ব শর্তসাপেক্ষে অর্জিত, আর স্বননের নাগরিকত্ব জন্মের সাথেই স্বাভাবিকভাবে প্রাপ্ত। অনুমোদনসূত্রে নাগরিক হিসেবে জাকির সাহেব ঐ দেশের নাগরিকদের মতো প্রায় সমান অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা পান। সুতরাং বলা যায়, জাকির সাহেব অনুমোদনসূত্রে এবং স্বনন জন্মসূত্রে (জন্মস্থান নীতিতে) নাগরিক — এটাই তাদের নাগরিকতার পার্থক্য।
সূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, ষষ্ঠ শ্রেণি (NCTB), পৃ. ৪০