সৃজনশীল (CQ)
১. 

- ক) আলো ও তাপের প্রধান উৎস কোনটি?১
- খ) মানুষ কীভাবে প্রকৃতির উপর আধিপত্য বাড়িয়েছে? ব্যাখ্যা কর।২
- গ) উপরের চিত্রে কোন সমস্যাটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর।৩
- ঘ) উক্ত সমস্যা সমাধানে তোমাদের মতো শিশুদের করণীয় সম্পর্কে আলোচনা কর।৪
উত্তর দেখুন
ক) আলো ও তাপের প্রধান উৎস সূর্য।
খ) মানুষ অত্যন্ত বুদ্ধিমান প্রাণী। বুদ্ধি খাটিয়ে সে নদীতে বাঁধ দিয়ে জমিতে সেচের ব্যবস্থা করেছে, পানির শক্তি কাজে লাগিয়ে কল চালিয়েছে। বনবাদাড় সাফ করে বড়ো এলাকা জুড়ে ফসলের খেত করেছে, পশুকে পোষ মানিয়ে কাজে লাগিয়েছে। পরে বড়ো বড়ো কলকারখানা বানিয়েছে, শহর গড়েছে, গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহন চালাচ্ছে এবং শীতাতপ যন্ত্র বানিয়ে নিজের আরাম বাড়িয়েছে। এভাবে ক্রমেই নিজের প্রয়োজন মতো মানুষ প্রকৃতির উপর আধিপত্য বাড়িয়েছে।
গ) উদ্দীপকের চিত্রে দেখা যাচ্ছে, একটি কারখানা থেকে কালো ধোঁয়া বাতাসে মিশে যাচ্ছে। অপরদিকে উক্ত কারখানার তরল বর্জ্য নদীর পানিতে ফেলা হচ্ছে। যা মূলত বায়ু দূষণ এবং পানি দূষণকে তুলে ধরছে।
কলকারখানার কালো ধোঁয়া বাতাসে মিশে গিয়ে বায়ু দূষণের সৃষ্টি করছে, যা মানুষের শ্বাসযন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক। এই দূষিত বাতাসে থাকা ক্ষতিকর গ্যাসগুলো যেমন কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাই অক্সাইড এবং নাইট্রোজেন অক্সাইড মানুষের স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, পাশাপাশি এটি জলবায়ু পরিবর্তনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। একইভাবে, কলকারখানার বর্জ্য পাইপ দিয়ে নদীতে ফেলা হচ্ছে, যা নদীর পানি দূষিত করছে। এই দূষিত পানি জীববৈচিত্র্যকে হুমকির মুখে ফেলে, কারণ মাছ এবং অন্যান্য জলজ প্রাণী এতে আক্রান্ত হতে পারে। সেই সঙ্গে, এই দূষিত পানি ব্যবহার করলে মানুষের নানা রোগের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
এ ধরনের পরিবেশ দূষণ সামগ্রিকভাবে মানুষের স্বাস্থ্য, প্রাকৃতিক ভারসাম্য এবং পরিবেশের উপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
ঘ) উদ্দীপকে দৃশ্যমান সমস্যা সমাধানে শিশুদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রথমত, শিশুদের পরিবেশ সচেতন করতে হবে যাতে তারা বুঝতে পারে বায়ু ও পানি দূষণ মানবস্বাস্থ্য এবং প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্যের জন্য কতটা ক্ষতিকর। কিছু করণীয় কাজ হতে পারে:
১. পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি: স্কুলে এবং সমাজে পরিবেশ সচেতনতার জন্য ক্যাম্পেইন চালানো। শিশুদের পরিবেশের সমস্যা সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া, যেমন বায়ু দূষণ, পানি দূষণ, এবং তাদের ক্ষতিকর প্রভাব কী হতে পারে।
২. বর্জ্য অপসারণ: শিশুদের বর্জ্য অপসারণের গুরুত্ব শেখানো, যেমন কাগজ, প্লাস্টিক, কাঁচ, এবং অন্যান্য বর্জ্য সঠিকভাবে ফেলতে উৎসাহিত করা।
৩. গাছ লাগানো: পরিবেশ দূষণ কমানোর জন্য গাছ লাগানোর প্রচারে অংশগ্রহণ করা। গাছগুলো বায়ুতে থাকা ক্ষতিকর গ্যাস শুষে নিয়ে পরিবেশকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
৪. নদী ও পরিবেশ রক্ষা: নদী ও পরিবেশকে পরিষ্কার রাখার জন্য সচেতনতা তৈরি করা এবং যে কোনো ধরনের দূষণ প্রতিরোধে অংশ নেওয়া। নদী, খাল বা সাগরকে পরিষ্কার রাখার জন্য স্থানীয় প্রচারণায় অংশ নেওয়া।
৫. প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ: শিশুদের শেখানো যে কিভাবে প্রাকৃতিক সম্পদের সংরক্ষণ করা যায়। যেমন, কম পানি ব্যবহার করা, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী পদ্ধতি অবলম্বন করা, এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য পণ্য ব্যবহার করা।
৬. দূষণ বিরোধী আইন মেনে চলা: শিশুদের পরিবেশ আইন সম্পর্কে জানানো এবং তারা যেন বড় হয়ে পরিবেশবান্ধব আচরণ করতে পারে, সেজন্য তাদের উদ্বুদ্ধ করা।
এভাবে শিশুদের এই সমস্যাগুলোর সমাধানে সজাগ ও সচেতন করা গেলে, ভবিষ্যতে তারা আরও পরিবেশবান্ধব এবং সচেতন নাগরিক হয়ে উঠবে, যারা পৃথিবীকে নিরাপদ ও সুন্দর রাখার জন্য কাজ করবে।