ক) কোনো বস্তুর সঙ্গে পানির অণুর লেগে থাকার বৈশিষ্ট্যই সংলগ্নতা।
খ) কলয়েডধর্মী বিভিন্ন পদার্থ যে প্রক্রিয়ায় নানা ধরনের তরল পদার্থ (উদ্ভিদের ক্ষেত্রে পানি) শোষণ করে তাকে ইমবাইবিশন বলে।
শুষ্ক বা আংশিক শুষ্ক কতকগুলো পদার্থ নানা ধরনের তরল পদার্থ শোষণ করতে সক্ষম। এদের কলয়েডধর্মী পদার্থ বলে। কলয়েডধর্মী পদার্থ হাইড্রোফিলিক বা পানিগ্রাহী। কোষপ্রাচীর ও প্রোটোপ্লাজম কলয়েডধর্মী হওয়ায় ইমবাইবিশন প্রক্রিয়ায় পানি শোষণ করে স্ফীত হয়। এটি পানি শোষণের একটি অন্যতম প্রক্রিয়া।
গ) উদ্দীপকের চিত্রটির দ্বারা উদ্ভিদের পানি শোষণ ও পরিবহনকে বুঝানো হয়েছে। S উপাদানটি হলো সূর্যের আলো যার অনুপস্থিতিতে প্রক্রিয়াটি মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হবে।
সবুজ উদ্ভিদের ক্লোরোফিল সূর্যের আলোর উপস্থিতিতে পানি ও CO₂ এর সাথে বিক্রিয়া ঘটিয়ে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় পাতায় গ্লুকোজ সংশ্লেষ করে, পাতার কোষে গ্লুকোজ উৎপন্নের কারণে পাতার কোষগুলোর কোষরসে অভিস্রবণ চাপ সৃষ্টি হয়, ফলে কোষগুলো অভিস্রবণ ও ব্যাপন প্রক্রিয়ায় পানি শোষণ করে। এই পানি পুনরায় আলো ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের উপস্থিতিতে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় গ্লুকোজ উৎপন্ন করে।
সুতরাং বলা যায় যে, সূর্যের আলোর অনুপস্থিতিতে পাতায় সালোকসংশ্লেষণ ঘটবে না। ফলে অভিস্রবণ চাপ সৃষ্টি হবে না। এতে পানি শোষণ ও উৎপাদিত খাদ্যের পরিবহন ব্যাহত হবে।
ঘ) উদ্দীপকের চিত্রে উদ্ভিদে পানি পরিবহন এবং সালোকসংশ্লেষণকে বুঝানো হয়েছে। কারণ পানির ঊধ্বর্গতি এবং পাতা থেকে O₂ নির্গমন দেখানো হয়েছে। আমরা জানি সালোকসংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণগুলোর মধ্যে পানি (X) একটি উপকরণ। সালোকসংশ্লেষণের আলোক নির্ভর পর্যায়ে সূর্যালোক ও ক্লোরোফিলের সহায়তায় পানি বিয়োজিত হয়ে অক্সিজেন হাইড্রোজেন ও ইলেকট্রন উৎপন্ন করে। এ থেকে ATP এবং NADPH + H⁺ উৎপন্ন করে। এই ATP ও NADPH + H⁺ অন্ধকার পর্যায়ে CO₂ কে বিজারিত করে গ্লুকোজ উৎপন্ন করে।
উদ্ভিদ দেহের বিভিন্ন বিপাকীয় ও শারীরবৃত্তীয় কাজগুলোর অধিকাংশই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পানির ওপর নির্ভরশীল।
সুতরাং পানি (X) যদি পাতা (Y) তে না পৌঁছায় তাহলে উদ্ভিদটির সালোকসংশ্লেষণ ব্যাহত হবে এবং শর্করা উৎপাদন হবে না। ফলে শ্বসন ব্যাহত হবে। এছাড়া পানি পাতায় পরিবাহিত না হলে প্রস্বেদন ঘটতে থাকবে এবং এক সময় প্রস্বেদনের ফলে স্থায়ীভাবে পাতা নুইয়ে পড়ার ফলে উদ্ভিদটির মৃত্যুও ঘটতে পারে।