সৃজনশীল (CQ)
১. উদ্দীপক-১: নতুন দারোয়ান সামাদ মিয়ার সাথে ছেলের বেশি ভাব-বন্ধুত্ব কিছুতেই মেনে নিতে পারেন না আবীরের মা। তিনি স্বামীকে বোঝান- বিভিন্ন ফন্দি করে মানুষ এখন অন্যের বাচ্চা চুরি করে। সামাদ মিয়াও তো একদিন তেমন কিছু করে বসতে পারে।
উদ্দীপক-২: বারো বছর আগের ছোট্ট আবীর আজ কলেজ থেকে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় হাসপাতালে। রক্তের জন্য বাবা-মা বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করছেন। খবর পেয়ে সামাদ মিয়া ছুটে এসে হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে বলে- 'সাহেব, আবীর বাবার জন্য আমার সব রক্ত নেন, আমার নিজের ছেলেরে হারাইছি, ওরে হারাইলে আমি বাঁচুম না।'
- ক) কাবুলিওয়ালার মলিন কাগজটিতে কী ছিল?১
- খ) রহমতকে কারাবরণ করতে হয়েছিল কেন?২
- গ) উদ্দীপক-১ অংশে 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের কোন দিকটি প্রকাশ পেয়েছে—ব্যাখ্যা কর।৩
- ঘ) 'উদ্দীপকের সামাদ মিয়া যেন কাবুলিওয়ালা গল্পের মূল ভাবকেই ধারণ করে আছে'—বিশ্লেষণ কর।৪
উত্তর দেখুন
ক) কাবুলিওয়ালার মলিন কাগজটিতে ছিল একটি ছোট হাতের ছাপ।
খ) ধারের টাকা নিয়ে বচসা হওয়াকালীন সময়ে জেদের বশে কাবুলিওয়ালা লেখকের প্রতিবেশী রামপুরিকে ছুরি বসিয়ে দেয়। আর এ কারণেই তার কারাদণ্ড হয়েছিল।
কাবুলিওয়ালা কলিকাতার রাস্তায় বিভিন্ন জিনিসের সওদা করত। লেখকের এক প্রতিবেশী রামপুরী চাদরের জন্য কাবুলিওয়ালার কাছ থেকে কিছু টাকা ধার নিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময় সে মিথ্যা কথা বলে ধারের কথা অস্বীকার করে। এ বিষয়ে প্রতিবেশীর সাথে ঝগড়ারত অবস্থায় কাবুলিওয়ালা তাকে ক্রোধের বশবর্তী হয়ে ছুরি বসিয়ে দেয়। এ কারণে হাকিমের আদালতে কাবুলিওয়ালার কারাদণ্ড হয়েছিল।
গ) সন্তানের যেকোনো প্রকারের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা উদ্দীপক-১ ও 'কাবুলিওয়ালা' গল্পে সমানভাবে প্রকাশিত হয়েছে।
'কাবুলিওয়ালা' গল্পে কাবুলিওয়ালার ভেতরে পিতৃস্নেহ জেগে ওঠায় শিশু মিনির প্রতি এক ধরনের সখ্যতা গড়ে ওঠে। মিনি ও কাবুলিওয়ালার প্রতি কৌতূহলী হয়ে ওঠে। তাদের কথাবার্তা যোগাযোগ ও বন্ধুত্বকে লেখক প্রশ্রয় দিলেও মিনির মা বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে দেখেননি। তিনি ছিলেন অত্যন্ত শঙ্কিত স্বভাবের লোক। কাবুলিওয়ালা সম্পর্কে তিনি নিঃসংশয় ছিলেন না। তার প্রতি দৃষ্টি রাখতে লেখককে বার বার অনুরোধ করেছেন।
উদ্দীপক-১ এ দারোয়ান সামাদ মিয়ার সাথে ছেলের বেশি ভাব-বন্ধুত্ব মেনে নিতে পারেন না আবীরের মা। তিনি মনে করেন এভাবেই বিভিন্ন ফন্দি করে মানুষ অপরের বাচ্চা চুরি করে। সামাদ মিয়াও এমন কিছু করে বসতে পারে। সন্তান চিন্তায় ব্যাকুল নারী স্বামীকে একথা বোঝানোর চেষ্টা করেন। উদ্দীপকের সন্তানের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কার দিকটি 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের মিনির মায়ের মধ্যে সমানভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। মিনিকে নিয়ে মিনির মায়ের মনে একই দুর্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছিল। উদ্দীপক ও 'কাবুলিওয়ালা' গল্প উভয় স্থানে সন্তান চিন্তায় উদ্বিগ্ন মা শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
ঘ) উদ্দীপকের সামাদ মিয়ার কাছে সন্তানবাৎসল্য মুখ্য হয়ে ওঠায় তা 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের মূল ভাবকেই ধারণ করে আছে।
'কাবুলিওয়ালা' গল্পে কাবুলিওয়ালা ও মিনির সম্পর্ককে কেন্দ্র করেই গল্পের কাহিনি আবর্তিত হয়েছে। কাবুলিওয়ালার মিনির বয়সি এক মেয়ে আছে। জীবন জীবিকার সন্ধানে কাবুলিওয়ালাকে তার নিজ দেশ থেকে বিদেশ বিভূঁইয়ে ঘুরে বেড়াতে হচ্ছে। কিন্তু মেয়ের স্মৃতি সে ভুলতে পারে না। চঞ্চল মিনিকে দেখে তার মধ্যে পিতৃত্ব আরো বেশি জেগে ওঠে। নিজের সন্তান ভেবে মিনির সাথে দেখা করে। গল্প করে, বাদাম, কিসমিস মেওয়া ইত্যাদি তাকে দেয়। তাদের এই সম্পর্ক অকৃত্রিম। তাই মিনির বিয়ের দিন মিনির সাথে দেখা হবে না জেনে কাবুলিওয়ালা খুব ব্যথিত হয়।
অন্যদিকে উদ্দীপকে আমরা লক্ষ করি সামাদ মিয়ার ছিল আবীরের বয়সি ছেলে। সন্তান হারানোর দুঃখ ভুলতে সে আবীরের প্রতি আগ্রহ দেখায়। সড়ক দুর্ঘটনায় আবীর আহত হলে হাসপাতালে রক্তের প্রয়োজন হয়। আবীরের এই দুর্ঘটনার খবর শুনে সামাদ মিয়া হাউমাউ করে কাঁদতে থাকে। আর বলে সাহেব, আবীর বাবার জন্য আমার সব রক্ত নেন। আমার ছেলেরে হারাইছি, ওরে হারাইলে আমি বাঁচুম না।
'কাবুলিওয়ালা' গল্পে মিনির প্রতি কাবুলিওয়ালার ছিল অপরিসীম স্নেহ ও ভালোবাসা। মিনিকে দেখে সে নিজের মেয়েকে না দেখার কষ্ট ভুলে থাকত। মিনির বিয়ের দিন সে প্রথম বারের মতো অনুভব করেছে মিনির মতো তার মেয়েটিও বিবাহযোগ্য হয়ে উঠেছে। তাছাড়া নিজের মেয়ের হাতের ছাপ সে একটি কাগজে তুলে নিয়ে তা বুকে আগলে রেখেছে। সন্তানের প্রতি এই ভালোবাসার কোনো তুলনা হয় না। উদ্দীপকেও সামাদ মিয়া আবীরের জন্য রক্ত দিতে এগিয়ে এসেছে। মৃত সন্তানের স্মৃতি ভুলে থাকার জন্য সে আবীরের মাঝেই সন্তানকে খুঁজেছে। আবীরের যত্ন নিয়েই সে নিজের পিতৃত্বকে শান্ত করতে পেরেছে। তাই বলা যায় উদ্দীপকের সামাদ মিয়া যেন 'কাবুলিওয়ালা' গল্পের মূল ভাবকেই ধারণ করে আছে।