সৃজনশীল (CQ)
১. রূপগঞ্জ গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব আবুল কাসেম তার বিদ্যালয়ের প্রতিটি দেওয়ালে বিখ্যাত মনীষীদের ছবি ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার চিত্র এঁকে রেখেছেন। এমনকি বাংলাদেশের জাতীয় ফুল ফল, মাছ, পশুপাখি ইত্যাদির ছবিও নানা রকম রং ব্যবহার করে এঁকেছেন, যা দেখে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা সহজেই ঐসব ব্যাপারে জানতে পারে এবং নিজেরাও ছবি আঁকতে চেষ্টা করে।
- ক) রংধনুর কয়টি রং?১
- খ) দ্বিতীয় পর্যায়ের রং কীভাবে পাওয়া যায়?২
- গ) উদ্দীপকের সাথে 'ছবির রং' প্রবন্ধটির সাদৃশ্য নির্ণয় কর।৩
- ঘ) "উদ্দীপকের জনাব কাসেম যেন 'ছবির রং' প্রবন্ধের লেখকের প্রতিনিধি।"—উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ কর।৪
উত্তর দেখুন
ক) রংধনুর রং সাতটি।
খ) প্রাথমিক রংগুলো মিশিয়ে যেসব রং পাওয়া যায় তাকে দ্বিতীয় পর্যায়ের রং বলে।
হলুদ, নীল এবং লাল এই তিনটি হলো প্রথম পর্যায়ের রং বা মৌলিক রং। এই তিনটি রং মিশিয়ে অনেক রং পাওয়া যায়। তন্মধ্যে সবুজ, বেগুনি ও কমলা হলো দ্বিতীয় পর্যায়ের রং। হলুদ ও নীল মিশিয়ে সবুজ, নীল ও লাল মিশিয়ে বেগুনি এবং লাল ও হলুদ মিশিয়ে কমলা রং পাওয়া যায়। আর এভাবে দ্বিতীয় পর্যায়ের রং পাওয়া যায়।
গ) উদ্দীপকের সাথে 'ছবির রং' প্রবন্ধটির সাদৃশ্য হলো চিত্রগুলোতে নানা রঙের ব্যবহারের দিকটি ফুটিয়ে তোলা।
ছবিতে ব্যবহৃত নানা রং ও রঙের বৈচিত্র্যের কথা যেমন 'ছবির রং' প্রবন্ধে আলোচিত হয়েছে, তেমনি উদ্দীপকেও এ অভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
'ছবির রং' প্রবন্ধে আমাদের চারপাশের পরিবেশের নানা রং ও রূপের সৌন্দর্য অত্যন্ত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আর প্রকৃতির এরূপ রং মনের মাঝে ধারণ করে আমাদের শিল্পীরা ছবিতে রঙে রঙিন করে ফুটিয়ে তোলেন। উদ্দীপকেও শিক্ষক কাসেম সাহেবের কর্মকাণ্ডে শৈল্পিকতার সে প্রেক্ষাপটই উপস্থাপিত হয়েছে। স্কুলের দেয়ালে বাংলার প্রকৃতি, সংস্কৃতি, বিভিন্ন মনীষীদের ছবি, ফুলফল, মাছ-পশুপাখি ইত্যাদির ছবি এঁকে রেখেছেন এবং এসব ছবিতে বাংলার প্রকৃতির নানা রঙের মিশেল ঘটিয়েছেন। যেন শিক্ষার্থীরা সহজেই ঐসব বিষয়ে জানতে পারে। এখানেই উদ্দীপকের সাথে 'ছবির রং' প্রবন্ধের সাদৃশ্য বিদ্যমান।
ঘ) উদ্দীপকের জনাব আবুল কাসেম তার চিত্রকর্মের মাধ্যমে 'ছবির রং' প্রবন্ধের লেখকের প্রতিনিধি হিসেবেই নিজেকে উপস্থাপন করেছেন।
জনাব কাসেম এবং 'ছবির রং' প্রবন্ধের লেখক উভয়েই বাংলার রং রূপ এবং ছবিতে এসব চিত্র ফুটিয়ে তোলায় রঙের ব্যবহার এসব বিষয়ে আলোকপাত করেছেন।
'ছবির রং' প্রবন্ধে লেখক বাংলার চিত্রশিল্পীর মনের আবেগ এবং রঙের ব্যবহার সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। আবার উদ্দীপকের প্রধান শিক্ষক আবুল কাসেম সাহেবও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা, বাংলাদেশের নানা উপাদান ইত্যাদির ছবি অঙ্কন করে নানা রঙের প্রয়োগ ঘটিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করার মাধ্যমে লেখকের পথকেই অনুসরণ করেছেন। উদ্দীপকের ছবিতে নানা রকম রং ব্যবহার করা হয়েছে, যা দেখে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা সহজেই ঐসব ব্যাপারে জানতে পারে এবং নিজেরাও ছবি আঁকতে চেষ্টা করে।
উল্লিখিত আলোচনার মাধ্যমে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে, উদ্দীপকের জনাব আবুল কাসেম 'ছবির রং' প্রবন্ধের লেখকের প্রতিনিধিত্ব করছেন।