Online Model Test Online Model Test
৯০%

সপ্তম শ্রেণির বাংলা ১ম পত্র ৮ম অধ্যায়: সেই ছেলেটি

সপ্তম শ্রেণি Bangla 1st Paper Chapter 8 · MCQ, CQ ও বোর্ড প্রশ্ন উত্তরসহ

সৃজনশীল সংক্ষিপ্ত

এই অধ্যায়ের কয়েকটি প্রশ্ন

সৃজনশীল (CQ)
১. আবিদ স্যার ৭ম শ্রেণির ছাত্র রওশনের কাছে তার স্কুলে অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে সে কিছু না বলে চুপ থাকে। শ্রেণির অন্য শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞেস করলে তারা প্রায় একযোগে বলে স্যার, রওশন প্রায়ই স্কুল কামাই করে। শিক্ষক রওশনকে বলেন—আর কামাই করবে? কোনো উত্তর দেয় না রওশন। পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে মেঝে খুঁড়তে থাকে। উত্তর না পেয়ে শিক্ষক রওশনকে অনেক বকা দেন। কয়েকদিন পর রওশনের বাবা আবিদ স্যারকে বলেন—স্যার, রওশনের স্নায়ু রোগ আছে। নিয়মিত স্কুল করলে ওর অসুখটা বেড়ে যায়। বকাঝকা করলে ওর স্কুলে আসা বন্ধ হয়ে যাবে।
  1. ক) মিঠু আরজুকে কোথায় বসে থাকতে দেখেছে?১
  2. খ) আইসক্রিমওয়ালা আরজুকে স্কুল ফাঁকি দিতে নিষেধ করল কেন? বুঝিয়ে লেখ।২
  3. গ) রওশন ও আরজুর মধ্যকার সাদৃশ্য ব্যাখ্যা কর।৩
  4. ঘ) আবিদ স্যারের বিচার কাজটি লতিফ স্যারের তুলনায় কতটুকু যৌক্তিক হয়েছে? তা মূল্যায়ন কর।৪
উত্তর দেখুন
ক) মিঠু আরজুকে আমবাগানে বসে থাকতে দেখেছে।
খ) আইসক্রিমওয়ালা নিজে স্কুল ফাঁকি দেওয়ার কুফল ভোগ করেছে, তাই সে চায় না যে আরজুও একই ভুল করুক। সে বুঝিয়েছে, যদি সে ঠিকমতো লেখাপড়া করত, তাহলে তাকে এখন আইসক্রিম ফেরি করতে হতো না। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সে আরজুকে সতর্ক করে দেয় যে স্কুল ফাঁকি দেওয়া খারাপ অভ্যাস, যা ভবিষ্যতে দুঃখের কারণ হতে পারে। তাই, সে আরজুকে পড়াশোনায় মনোযোগী হতে উৎসাহিত করে, যাতে সে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারে।
গ) রওশন ও আরজুর মধ্যে বেশ কিছু মিল রয়েছে, যা তাদের জীবনসংগ্রাম ও শিক্ষাজীবনের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়। প্রথমত, তারা দুজনেই শারীরিক সমস্যায় ভুগছে, যা তাদের স্কুলে নিয়মিত উপস্থিত হতে বাধা সৃষ্টি করে। রওশন স্নায়ু রোগে আক্রান্ত, যা অতিরিক্ত চাপ বা নিয়মিত স্কুলে যাওয়া-বসার কারণে বেড়ে যায়। অন্যদিকে, আরজুর পায়ের সমস্যা রয়েছে, যার ফলে বেশি দূর হাঁটতে গেলে তার পা অবশ হয়ে আসে। এই শারীরিক অসুবিধার কারণে দুজনেই মাঝে মাঝে স্কুল কামাই করতে বাধ্য হয়। দ্বিতীয়ত, তাদের সমস্যাগুলো প্রথমে শিক্ষক ও সহপাঠীরা ঠিকমতো বোঝেনি। রওশন যখন স্কুল কামাই করত, শিক্ষক তাকে কোনো উত্তর না পেয়ে বকা দিতেন, আর সহপাঠীরাও বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নেয়নি। একইভাবে, আরজু যখন হাঁটতে কষ্ট পেত, তখন বন্ধুরা তাকে ফেলে রেখে যেত এবং শিক্ষকেরাও বিষয়টি বুঝতে পারতেন না। তবে উভয়ের ক্ষেত্রেই শিক্ষকেরা পরে তাদের সমস্যার গভীরতা বুঝতে পারেন। রওশনের বাবা যখন শিক্ষককে জানান যে তার ছেলে স্নায়ু রোগে ভুগছে, তখন তিনি বিষয়টি বুঝতে পারেন এবং ভবিষ্যতে আরও যত্নশীল হওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। অন্যদিকে, আরজুর সমস্যাটি যখন লতিফ স্যার বুঝতে পারেন, তখন তিনি তার প্রতি সহানুভূতিশীল হন এবং সহপাঠীদেরও সচেতন করেন, যাতে তারা বন্ধুর প্রতি আরও সহানুভূতি দেখায় ও সহযোগিতা করে। সুতরাং, রওশন ও আরজু উভয়েই এমন শিক্ষার্থী, যারা শারীরিক সমস্যার কারণে শিক্ষাজীবনে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়। প্রথমদিকে শিক্ষক ও সহপাঠীরা তাদের ভুল বুঝলেও পরে সহানুভূতির জায়গা তৈরি হয় এবং তাদের সমস্যা সমাধানের পথ খোঁজা হয়।
ঘ) আবিদ স্যার ও লতিফ স্যারের বিচার কাজ তুলনা করলে দেখা যায় যে, লতিফ স্যারের বিচার বেশি যৌক্তিক, মানবিক ও সহানুভূতিশীল ছিল, যেখানে আবিদ স্যারের বিচার কিছুটা একপাক্ষিক ও হঠকারী ছিল। আবিদ স্যার রওশনের স্কুল কামাইয়ের কারণ খুঁজতে চাইলেও তিনি বিষয়টিকে গভীরভাবে বোঝার চেষ্টা করেননি। রওশন যখন চুপ ছিল, তখন তিনি ধৈর্য না রেখে তাকে বকা দেন, যা শিক্ষকের পক্ষ থেকে যথাযথ আচরণ ছিল না। তিনি যদি আগে রওশনকে আলাদাভাবে ডেকে কথা বলতেন বা তার অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন, তাহলে হয়তো তার আসল সমস্যাটি দ্রুতই বের হয়ে আসত। পরবর্তীতে যখন রওশনের বাবা তার স্নায়ু রোগের ব্যাপারে জানান, তখন বোঝা যায় যে, আবিদ স্যার তার সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করেছিলেন। অন্যদিকে, লতিফ স্যার শুরু থেকেই সমস্যাটি বোঝার চেষ্টা করেন। তিনি আরজুর অনুপস্থিতির কারণ জানতে সহপাঠীদের প্রশ্ন করেন এবং তার আচরণের পেছনের কারণ অনুসন্ধান করেন। তিনি যখন জানতে পারেন যে, আরজুর হাঁটার সমস্যা আছে, তখন তাকে সহানুভূতির সঙ্গে বোঝানোর পাশাপাশি সহপাঠীদেরও এ বিষয়ে সচেতন করেন। তিনি শুধুমাত্র শাস্তি দেওয়ার পরিবর্তে সমাধানের পথ খোঁজেন এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করতেও আগ্রহ দেখান। সুতরাং, বিচার বিশ্লেষণ করলে বলা যায়, লতিফ স্যারের বিচার শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক, মানবিক ও সহানুভূতিশীল ছিল, যা একজন প্রকৃত শিক্ষকের আদর্শ দৃষ্টান্ত। অন্যদিকে, আবিদ স্যারের বিচার কিছুটা তাড়াহুড়া ও একপাক্ষিক ছিল, যা শিক্ষার্থীর মানসিক ও শারীরিক অবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
২. আইসক্রিমওয়ালা আরজুকে স্কুল ফাঁকি দিতে নিষেধ করল কেন? বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর দেখুন
উত্তর: আইসক্রিমওয়ালা নিজে স্কুল ফাঁকি দেওয়ার কুফল ভোগ করেছে, তাই সে চায় না যে আরজুও একই ভুল করুক। সে বুঝিয়েছে, যদি সে ঠিকমতো লেখাপড়া করত, তাহলে তাকে এখন আইসক্রিম ফেরি করতে হতো না। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সে আরজুকে সতর্ক করে দেয় যে স্কুল ফাঁকি দেওয়া খারাপ অভ্যাস, যা ভবিষ্যতে দুঃখের কারণ হতে পারে। তাই, সে আরজুকে পড়াশোনায় মনোযোগী হতে উৎসাহিত করে, যাতে সে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারে।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
৩. আপন মনে পাখিদের সঙ্গে আরজু কথা বলে কেন?
উত্তর দেখুন
উত্তর: স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য আরজু পাখিদের সঙ্গে কথা বলছিল। আরজু স্কুলে যাওয়ার পথে পায়ের ব্যথায় বসে পড়ে। বন্ধুরা তাকে ফেলে স্কুলে চলে যায়। তাই সে পাখিকে বলে তাকে যেন স্কুলে নিয়ে যায়। ডানায় ভর করে পাখির সঙ্গে সে স্কুলে যেতে চায়।

এই অধ্যায়ের বাকি সব প্রশ্ন, পরীক্ষা আর প্রশ্নপত্র তৈরি অ্যাকাউন্ট খুললেই পাবেন।

⚑ এই প্রশ্নে কী সমস্যা?

একটা বেছে নিন, চাইলে দুই লাইন লিখুন। সাইট নিজে বইয়ের সাথে মিলিয়ে যাচাই করবে।

+ ঠিক উত্তরটা জানলে দিন (ঐচ্ছিক)

আপনার রিপোর্টে প্রশ্ন ঠিক হলে ২০ কয়েন উপহার। ফ্রি অ্যাকাউন্ট খুললে বা লগইন করলে কয়েন আপনার অ্যাকাউন্টে জমা হবে।