সৃজনশীল (CQ)
১. স্কুলে পড়ার সময় ত্রিপুরা জাতিগোষ্ঠীর মেয়ে লালমতির সাথে মারমা জাতিগোষ্ঠীর মেয়ে অদিতির বন্ধুত্ব হয়। লালমতিকে নিজস্ব পোশাকে চমৎকার দেখতে লাগে। অদিতি জানতে পেরেছে—লালমতি তাঁতও বুনতে পারে। লালমতির কাছে ওদের জাতিগোষ্ঠী সম্পর্কে শুনে একবার ছুটিতে অদিতি খাগড়াছড়ি পাহাড়ি ঝরনার ধারে লালমতিদের বাড়িতে বেড়াতে যায়। পুরুষেরা পরিধান করে নিজেদের তৈরি গামছা ও ধুতি। লালমতির বাবা কৃষি কাজ করেন। তারা সংগীত ও নৃত্যে খুবই সমৃদ্ধ।
- ক) জুম চাষকে ত্রিপুরারা কী বলে?১
- খ) সাংগ্রাই কী ধরনের উৎসব? ব্যাখ্যা কর।২
- গ) লালমতির আচার-আচরণে তার নিজস্ব যে সংস্কৃতির পরিচয় পাওয়া যায়, তা বর্ণনা কর।৩
- ঘ) ত্রিপুরা জাতিগোষ্ঠীর জীবনযাপনের সাথে মারমা জাতিগোষ্ঠীর জীবনযাপনের তুলনামূলক চিত্র অঙ্কন কর।৪
উত্তর দেখুন
ক) জুম চাষকে ত্রিপুরারা হোগ বলে।
খ) সাংগ্রাই মারমাদের নববর্ষের প্রধান সামাজিক উৎসব; নববর্ষে সাংগ্রাই দেবীর পূজা উপলক্ষে এটি আয়োজিত হয়।
মারমাদের আয়োজিত অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় উৎসব 'সাংগ্রাই'। নববর্ষে সাংগ্রাই দেবীর পূজা উপলক্ষে এর আয়োজন করা হয়। এ উৎসব তিন দিন ধরে চলে। প্রথম দিনে সাংগ্রাই দেবীর আগমন উদ্যাপন করা হয় এবং তৃতীয় দিনকে বলা হয় 'সাংগ্রাই আপ্যাইন' বা সাংগ্রাই দেবীর নির্গমন দিবস।
গ) লালমতির আচার-আচরণে তার নিজস্ব সংস্কৃতি অর্থাৎ ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের বর্ণিল সংস্কৃতির পরিচয় পাওয়া যায়।
'বাংলাদেশের ক্ষুদ্র জাতিসত্তা' প্রবন্ধটি থেকে ত্রিপুরাদের জীবনযাত্রা প্রণালি ও সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। এখানে বলা হয়েছে, ত্রিপুরা মেয়েরা কাপড় বয়নে অত্যন্ত দক্ষ, তারা নিজেদের কাপড় নিজেরাই তাঁতে তৈরি করে। পুরুষেরা পরিধান করে নিজেদের তৈরি গামছা ও ধুতি। তারা কৃষিজীবী, পাহাড়ে জুমচাষ করে। তাদের মধ্যে নানা ধরনের নৃত্য প্রচলিত আছে। তাদের প্রধান উৎসব বৈসুখ।
উদ্দীপকের লালমতির মধ্যে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের এই বৈশিষ্ট্যগুলোই পরিলক্ষিত হয়। সে কাপড় বুনতে পারে। লালমতির বাবা কৃষিকাজ করেন; তারা সংগীত ও নৃত্যে সমৃদ্ধ। সুতরাং লালমতির আচার-আচরণে ত্রিপুরা সংস্কৃতির বর্ণিল পরিচয় পাওয়া যায়।
ঘ) ভাষা, ধর্ম, পোশাক ও উৎসবের দিক দিয়ে ত্রিপুরা ও মারমা জাতিগোষ্ঠীর জীবনযাপনে যেমন মিল আছে, তেমনি পার্থক্যও আছে।
মিলের দিক থেকে দেখা যায়, ত্রিপুরা ও মারমা উভয়েই পার্বত্য চট্টগ্রামের বাসিন্দা, উভয়ের সমাজ পিতৃতান্ত্রিক এবং উভয়েই প্রধানত কৃষিজীবী—পাহাড়ে জুমচাষ করে। উভয় সমাজেই নিজস্ব পোশাক, নাচ-গান ও উৎসবের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য রয়েছে।
পার্থক্যের দিক থেকে দেখা যায়, ত্রিপুরারা হিন্দু ধর্মাবলম্বী হলেও নিজস্ব লোকধর্মের নানা দেব-দেবীর পূজা করে, আর মারমারা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। ত্রিপুরাদের প্রধান উৎসব বৈসুখ, মারমাদের প্রধান উৎসব সাংগ্রাই। ত্রিপুরা মেয়েরা নিজেদের কাপড় নিজেরাই তাঁতে বোনে এবং পুরুষেরা নিজেদের তৈরি গামছা ও ধুতি পরে—উদ্দীপকের লালমতির তাঁত বোনা ও পোশাকে যার পরিচয় মেলে; মারমাদের পোশাক ও সাজসজ্জা আলাদা ধরনের। তাদের ভাষাও ভিন্ন।
সুতরাং ত্রিপুরা ও মারমা জাতিগোষ্ঠীর জীবনযাপনের তুলনা করলে দেখা যায়, এতে মিল ও অমিল উভয়ই রয়েছে, আর তাদের ভিন্ন ধারার সংস্কৃতিই বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে বৈচিত্র্যময় করেছে।