সৃজনশীল (CQ)
১. উদ্দীপক (১): আজিকার রোদ ঘুমায়ে পড়িছে—ঘোলাটে মেঘের আড়ে, কেয়া বন পথে স্বপন বুনিছে—ছল ছল জলধারে।
কাহার ঝিয়ারী কদম্ব শাখে—নিঝুম নিরালায়, ছোট ছোট রেণু খুলিয়া দিয়াছে—অস্ফুট কলিকায়।
উদ্দীপক (২): কেউবা রঙিন কাঁথায় মেলিয়া বুকের স্বপনখানি, তারে ভাষা দেয় দীঘল সুতার মায়াবী আখর টানি।
- ক) প্রাণখোলা বর্ষায় কে স্নান করে?১
- খ) 'উন্মাদ শ্রাবণ' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?২
- গ) ১ম উদ্দীপকে 'শ্রাবণে' কবিতায় বর্ণিত বর্ষার কোন দিকটি চিত্রিত হয়েছে? বর্ণনা কর।৩
- ঘ) ২য় উদ্দীপকটি 'শ্রাবণে' কবিতার শেষ চরণে প্রতিফলিত হয়েছে কি? যুক্তিসহ বিচার কর।৪
উত্তর দেখুন
ক) প্রাণখোলা বর্ষায় স্নান করে গাছপালা।
খ) 'উন্মাদ শ্রাবণ' বলতে অবিরাম, প্রবল বর্ষণে মত্ত শ্রাবণ মাসকে বোঝানো হয়েছে।
'উন্মাদ' শব্দের অর্থ উন্মত্ত বা ক্ষিপ্ত। শ্রাবণ মাসে দিনরাত একটানা বৃষ্টি ঝরে; আকাশ মেঘে ঢাকা থাকে, নদীনালা ঘোলা জলে ভরে ওঠে, চারদিক জলে টলমল করে। বর্ষণের এই বিরামহীন, ঘনঘোর রূপ দেখে মনে হয় শ্রাবণ যেন উন্মত্ত হয়ে উৎসবে মেতেছে। তাই কবি শ্রাবণকে 'উন্মাদ শ্রাবণ' বলেছেন।
গ) ১ম উদ্দীপকে 'শ্রাবণে' কবিতায় বর্ণিত বর্ষার মেঘে ঢাকা রোদহীন আকাশ এবং বৃষ্টিস্নাত প্রকৃতির সজীব হয়ে ওঠার দিকটি চিত্রিত হয়েছে।
'শ্রাবণে' কবিতায় কবি বলেছেন, শ্রাবণে আকাশের মুখ ঢাকা, চারিধার ধোঁয়ামাখা; সারাদিন সারারাত জল ঝরে। এই বর্ষণে গাছপালা প্রাণখোলা বরষায় স্নান করে, আর গ্রীষ্মের তাপ ও রৌদ্রের স্মৃতি ধুয়ে যায়। দাবদাহে জর্জরিত প্রকৃতি বর্ষার জলে সজীব ও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
১ম উদ্দীপকেও দেখা যায়, আজকের রোদ ঘোলাটে মেঘের আড়ালে ঘুমিয়ে পড়েছে, অর্থাৎ আকাশ মেঘে ঢাকা, রোদের দেখা নেই। ছলছল জলধারায় কেয়াবন যেন স্বপ্ন বুনছে, আর নিঝুম নিরালায় কদম শাখায় অস্ফুট কলিগুলো ছোট ছোট রেণু মেলে দিয়েছে। অর্থাৎ বৃষ্টির ছোঁয়ায় কেয়া ও কদম ফুটে উঠে প্রকৃতি নতুন প্রাণ পেয়েছে। এভাবে কবিতার 'আকাশের মুখ ঢাকা, ধোঁয়ামাখা চারিধার' এবং 'স্নান করে গাছপালা প্রাণখোলা বরষায়' চরণের মেঘলা আকাশ ও বৃষ্টিস্নাত সজীব প্রকৃতির দিকটিই ১ম উদ্দীপকে চিত্রিত হয়েছে।
ঘ) দ্বিতীয় উদ্দীপকে 'শ্রাবণে' কবিতার শেষ চরণের ভাবধারা প্রতিফলিত হয়েছে। সুকুমার রায় 'শ্রাবণে' কবিতায় অত্যন্ত দক্ষতার সাথে বর্ণনা করেছেন কীভাবে বর্ষা প্রকৃতিকে বদলে দেয়, এবং সেই সাথে কীভাবে এই পরিবর্তন মানব মনের পরিবর্তনকে প্রভাবিত করে। কবি প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের মনের সম্পর্ক তুলে ধরেছেন, যেখানে প্রকৃতির পরিবর্তনের সাথে মানুষের মনও নতুন রূপ ধারণ করে। এই কবিতায় দেখা যায়, যেমন প্রকৃতির অবস্থান পরিবর্তিত হয়, তেমনি মানুষের আশা, আকাঙ্ক্ষা, সুখ ও দুঃখও পরিবর্তিত হয়।
উদ্দীপকে মানব মনের চিরন্তন স্বপ্নময়তার প্রতিফলন ঘটে। মানুষ জীবনে স্বপ্ন দেখেই এগিয়ে চলে। রঙিন কাঁথার মতো, সে তার স্বপ্নের জাল ছড়িয়ে দেয়। ঠিক যেমন রঙিন কাঁথার মধ্যে ফুল ফুটানো হয়, তেমনি মানুষ তার মনের স্বপ্নকে বুনে যায়। রঙিন কাঁথার মতোই, সে তার অন্তহীন ভাবনা ও কল্পনাকে মেলে ধরতে চায়। দীঘল সুতার মায়াবী অক্ষরে সে তার মনের কথাগুলো লিখে যায়।
'শ্রাবণে' কবিতায় বলা হয়েছে যে, ঋতুর পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে মানব মনের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং সুখ-দুঃখেরও পালাবদল ঘটে। বর্ষার প্রবল বর্ষণ মানব মনে গভীর প্রভাব ফেলে, যা মনের শূন্যতা থেকে নতুন কল্পনা ও ভাবনা সৃষ্টি করে। উদ্দীপক (২)-এ এই চিন্তা এবং অনুভূতিরই প্রতিধ্বনি পাওয়া যায়, যেখানে কল্পনার রঙিন কাঁথা সেলাইয়ের মাধ্যমে সেই ভাবনা ও কল্পনা জীবন লাভ করেছে।