সৃজনশীল (CQ)
১. মা দিবসে রত্নগর্ভা স্বীকৃত মায়েদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সাহেদা বেগমের বড় ছেলে সাজিদ অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন আমাদের মা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মা। আমরা পিঠাপিঠি পাঁচ ভাই-বোন যখন খুব ছোটো, তখনই বাবাকে হারালাম। মাকে কখনো ভেঙে পড়তে দেখিনি। দুঃখ-দারিদ্র্য-অভাব আমাদের নিত্য সঙ্গী ছিল। মা সব সময় আমাদেরকে খুশি রেখে, পড়াশুনা শিখিয়ে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছেন। তোমাকে শত সালাম মা। তোমার মুখের হাসির জন্য আমরা যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত।
- ক) সন্ধ্যা দুপুর মার পায়ে কী বাজে?১
- খ) 'রক্তে ধোওয়া সরোজিনী'—বলতে কী বোঝানো হয়েছে?২
- গ) সাজিদের মাধ্যমে 'গরবিনী মা-জননী' কবিতার কোন বিশেষ দিকটি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।৩
- ঘ) 'প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপক ও 'গরবিনী মা-জননী' কবিতার বক্তব্য একই ধারায় প্রবাহিত।' বিশ্লেষণ কর।৪
উত্তর দেখুন
ক) সন্ধ্যা দুপুর মার পায়ে ধুলোর নূপুর বাজে।
খ) 'রক্তে ধোওয়া সরোজিনী'—বলতে কবি বাংলার মা-জননী তথা জন্মভূমি বাংলাদেশকে বোঝাতে চেয়েছেন।
এখানে 'সরোজিনী' অর্থ পদ্মিনী, অর্থাৎ পদ্মফুলের মতো সুন্দরী; আর 'রক্তে ধোওয়া' বলতে বীর সন্তানের রক্তে ধুয়ে পবিত্র হওয়া বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ পদ্মফুলের মতো সুন্দর এই দেশ সন্তানদের রক্তে ধুয়ে আরও গৌরবময় হয়েছে। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধসহ নানা সংগ্রামে দেশের অকুতোভয় সন্তানরা রক্ত ঝরিয়ে মাতৃভূমিকে গৌরবান্বিত করেছে। তাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ নতুন চেতনা, স্বাধীনতা ও মর্যাদা অর্জন করেছে, যা এই পংক্তির মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।
গ) সাজিদের বক্তব্যের মাধ্যমে 'গরবিনী মা-জননী' কবিতার মাতৃত্যাগ, সংগ্রাম ও গৌরবের দিকটি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
কবিতায় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে এমন এক জননীর রূপে চিত্রিত করা হয়েছে, যার সন্তানেরা চরম ত্যাগ স্বীকার করে তাঁকে গৌরবান্বিত করেছে। যেমন কবিতায় বলা হয়েছে, 'কার ছেলে মা উপড়ে ফ্যালে / বুলেট ফাঁসির শাসন-কারা,'—অর্থাৎ, মায়ের সন্তানেরা তাঁর মর্যাদা রক্ষায় জীবন পর্যন্ত উৎসর্গ করেছে। একইভাবে, সাজিদের মা বাস্তব জীবনে সংগ্রামের প্রতীক। স্বামী হারানোর পরও তিনি সন্তানদের জন্য আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের সুশিক্ষিত ও মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছেন।
সাজিদের কথায় ফুটে ওঠে এক মায়ের অসীম ধৈর্য, ত্যাগ ও সংগ্রামের চিত্র, যা 'গরবিনী মা-জননী' কবিতার ভাবনার সঙ্গে মিলে যায়। কবিতায় যেমন দেশমাতার জন্য সন্তানরা আত্মত্যাগ করেছে, সাজিদের মা-ও তেমনই নিজের স্বার্থ ত্যাগ করে সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়তে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। সাজিদ ও তার ভাই-বোনরা মায়ের মুখের হাসির জন্য যে কোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত, ঠিক যেমন কবিতায় বাংলার বীর সন্তানেরা মায়ের মর্যাদার জন্য আত্মনিবেদন করেছে। সুতরাং, উভয় ক্ষেত্রেই মাতৃত্বের গৌরব, সংগ্রাম ও ত্যাগের চেতনা প্রকাশ পেয়েছে।
ঘ) উদ্দীপক ও 'গরবিনী মা-জননী' কবিতার প্রেক্ষাপট আলাদা হলেও উভয়ের মূল বক্তব্য একই-মায়ের প্রতি সন্তানের অকৃত্রিম ভালোবাসা, মায়ের আত্মত্যাগ, সংগ্রাম এবং গৌরব। উদ্দীপকে সাজিদের মা বাস্তব জীবনের একজন সংগ্রামী নারী, যিনি স্বামীহারা অবস্থায় পাঁচ সন্তানকে লালন-পালন করেছেন এবং দুঃখ-কষ্ট সয়ে তাদের শিক্ষিত ও সফল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছেন। তার সন্তানরা মায়ের এই ত্যাগ ও ভালোবাসাকে গভীরভাবে উপলব্ধি করে এবং মায়ের মুখের হাসির জন্য যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত। অন্যদিকে, 'গরবিনী মা-জননী' কবিতায় মাতৃরূপে চিত্রিত হয়েছে বাংলার জন্মভূমি।
কবিতায় দেখা যায়, বাংলার সন্তানেরা দেশের জন্য আত্মত্যাগ করেছে, শহীদ হয়েছে, মায়ের মর্যাদা রক্ষায় বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছে। যেমন সাজিদ ও তার ভাই-বোনেরা মায়ের জন্য জীবন উৎসর্গ করতেও প্রস্তুত, তেমনি কবিতার বীর সন্তানেরা দেশের জন্য নিজেদের সর্বস্ব উৎসর্গ করেছে। সাজিদের মা যেমন দুঃখ-কষ্ট সহ্য করেও সন্তানদের মানুষ করেছেন, তেমনি বাংলার মা-জননী যুগে যুগে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে নিজের গৌরবময় অবস্থানে এসেছে।
তাই, ব্যক্তিগত ও জাতীয়-দুই ক্ষেত্রেই মায়ের জন্য সন্তানের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, আত্মত্যাগ এবং মায়ের মর্যাদা রক্ষার বিষয়টি প্রবাহিত হয়েছে একই ধারায়।
সূত্র: বাংলা ১ম পত্র (সপ্তম শ্রেণি, সপ্তবর্ণা), অধ্যায় ১৪, গরবিনী মা-জননী