সৃজনশীল (CQ)
১. অমিত সাহেব একটি পাঠাগার স্থাপনের জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। কিন্তু তাঁর একার পক্ষে এত বিশাল কাজ সম্পাদন কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। তিনি কারও সহযোগিতা নিতে সম্মত নন। পরে গ্রামের সকল শ্রেণির মানুষের সার্বিক সহযোগিতায় পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়। এখন সবাই পাঠাগার থেকে বই সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় জ্ঞান আহরণ করতে পারছে।
- ক) 'সাম্য' কবিতায় কোনটির মাধ্যমে জীবন মহীয়ান হয়?১
- খ) 'সংগ্রামে আর সাহসে প্রজ্ঞা'—দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?২
- গ) অমিত সাহেবের চরিত্রে 'সাম্য' কবিতার বৈসাদৃশ্যের দিকটি ব্যাখ্যা কর।৩
- ঘ) উদ্দীপকের মূলভাব যেন 'সাম্য' কবিতারই প্রতিরূপ।—বিশ্লেষণ কর।৪
উত্তর দেখুন
ক) 'সাম্য' কবিতায় কর্মের মাধ্যমে জীবন মহীয়ান হয়।
খ) 'সংগ্রামে আর সাহসে প্রজ্ঞা'—দ্বারা বোঝানো হয়েছে, মানুষের জীবন সংগ্রাম, সাহসিকতা এবং জ্ঞান-বুদ্ধির সমন্বয়। এখানে কবি বলতে চেয়েছেন, মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব তার কর্মে, সংগ্রামে ও সাহসে প্রকাশ পায়। জীবনযুদ্ধে টিকে থাকতে হলে শুধু পরিশ্রমই যথেষ্ট নয়, সঙ্গে প্রয়োজন সাহস এবং প্রজ্ঞা বা জ্ঞান। এই গুণগুলোর মাধ্যমে মানুষ তার জীবনকে মহিমান্বিত করে এবং পৃথিবীতে উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারে। ইতিহাস সাক্ষী যে, যারা কঠোর পরিশ্রম ও বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে এগিয়ে গেছে, তারাই সফলতা অর্জন করেছে এবং মানবজাতির অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।
গ) অমিত সাহেবের চরিত্রে 'সাম্য' কবিতার ভাবের দিকটি অনুপস্থিত। কবি সুফিয়া কামালের 'সাম্য' কবিতায় মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে অগ্রগতির ধারণা ফুটে উঠেছে। কবিতায় বলা হয়েছে— 'শতেকের সাথে শতেক হস্ত মিলায়ে একত্রিত সব দেশে সব কালে কালে সবে হয়েছে সমুন্নত।'
অর্থাৎ, মানুষের উন্নতি এবং সমাজের অগ্রগতি তখনই সম্ভব হয়, যখন সবাই একসঙ্গে কাজ করে। ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমেই যে কোনো বৃহৎ কাজ সফল করা সম্ভব।
কিন্তু উদ্দীপকের অমিত সাহেবের চরিত্রের ক্ষেত্রে এর বিপরীত চিত্র দেখা যায়। তিনি পাঠাগার প্রতিষ্ঠার জন্য সংকল্পবদ্ধ হলেও, কারও সাহায্য নিতে চাননি। এটি 'সাম্য' কবিতার ভাবধারার সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ, কারণ কবিতায় সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সমৃদ্ধি অর্জনের কথা বলা হয়েছে, অথচ অমিত সাহেব ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় কাজ সম্পন্ন করতে চেয়েছিলেন। পরবর্তীতে, গ্রামের সকল শ্রেণির মানুষ একত্রিত হয়ে পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করেন, যা কবিতার মূল ভাবের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সুতরাং, অমিত সাহেবের প্রাথমিক একক প্রচেষ্টা 'সাম্য' কবিতার সম্মিলিত প্রয়াসের চেতনার বিরোধী। তবে শেষে যখন সবাই একসঙ্গে কাজ করেন, তখন কবিতার মূল ভাবধারা প্রতিফলিত হয়।
ঘ) 'উদ্দীপকের মূলভাব যেন "সাম্য" কবিতারই প্রতিরূপ'—উক্তিটি যথার্থ। উদ্দীপকের মূলভাব এবং সুফিয়া কামালের 'সাম্য' কবিতার মধ্যে গভীর মিল রয়েছে, যা উদ্দীপকটিকে কবিতারই এক বাস্তব প্রতিরূপ হিসেবে উপস্থাপন করে।
'সাম্য' কবিতায় কবি বোঝাতে চেয়েছেন, একতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই প্রকৃত উন্নতি সম্ভব। মানুষ একা নয়, বরং সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই সমাজে বড় পরিবর্তন আনা যায়। উদ্দীপকেও দেখা যায়, অমিত সাহেব একাই পাঠাগার স্থাপনের চেষ্টা করেন, কিন্তু ব্যর্থ হন। পরে গ্রামের সবাই একসঙ্গে কাজ করে পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করেন, যা 'সাম্য' কবিতার ভাবধারার বাস্তব উদাহরণ।
সমাজের উন্নতি এবং মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ভর করে সম্মিলিত কঠোর পরিশ্রম ও বুদ্ধিমত্তার উপর। উদ্দীপকের ঘটনাতেও দেখা যায়, গ্রামের মানুষ একত্রে কাজ করার ফলে পাঠাগার প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সবাই সেখানে গিয়ে জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পায়। এটি কবিতার সেই মূল ভাবেরই প্রতিফলন।
'সাম্য' কবিতায় মানুষের অগ্রগতির জন্য পারস্পরিক ঐক্য, সহযোগিতা এবং সংগ্রামের কথা বলা হয়েছে। উদ্দীপকের ঘটনাতেও একক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলেও, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সফলতা আসে।
সুতরাং উদ্দীপকের মূলভাব 'সাম্য' কবিতার বাস্তব প্রতিরূপ, কারণ উভয় ক্ষেত্রেই ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে উন্নতি এবং লক্ষ্য অর্জনের কথা বলা হয়েছে। কবিতাটি যেমন সাম্যের আদর্শকে তুলে ধরে, তেমনি উদ্দীপকের ঘটনাও সেই ভাবনাকেই বাস্তব রূপ দেয়।