সৃজনশীল (CQ)
১. ১৯৭৪ সালে ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যে আইন পরিষদের নির্বাচন হয়। উক্ত নির্বাচনে কয়েকটি দল একটি জোট গঠন করে নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। এই জোট জনগণের সামনে ২১ দফা কর্মসূচি প্রকাশ করেছিল।
- ক) কত সালে আমাদের ভাষা আন্দোলন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করে?১
- খ) ভাষা আন্দোলনে কারা প্রাণ দিয়েছিল?২
- গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত নির্বাচনের সাথে পূর্ববাংলার যে নির্বাচনের সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায় তা ব্যাখ্যা কর।৩
- ঘ) পূর্ববাংলার উক্ত নির্বাচনে কারা বিজয় লাভ করে? তাদের বিজয়ের কারণ তুলে ধর।৪
উত্তর দেখুন
ক) ১৯৯৯ সালে আমাদের ভাষা আন্দোলন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করে।
খ) ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষার দাবিতে ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিল বের করে। মিছিলে পুলিশ গুলি চালায়। গুলিতে নিহত হন রফিক উদ্দিন, আব্দুল জব্বার ও আবুল বরকত। আহতের সংখ্যা ছিল অনেক। এদের মধ্যে আবদুস সালাম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরদিন ২২শে ফেব্রুয়ারি শফিউর রহমান এবং ৯ বছরের কিশোর অহিউল্লাহও পুলিশের গুলিতে নিহত হন।
গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত নির্বাচনের সাথে পূর্ববাংলার ১৯৫৪ সালে অনুষ্ঠিত যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের সাদৃশ্য পাওয়া যায়। ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের ষড়যন্ত্র ও শোষণ থেকে মুক্তির উদ্দেশ্যে এদেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দল ও নেতৃবৃন্দ ১৯৫৪ সালের নির্বাচন সামনে রেখে একটি জোট গঠন করে, যা যুক্তফ্রন্ট নামে পরিচিত। এ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জনগণের সামনে তাদের ২১ দফা কর্মসূচি প্রকাশ করে। নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। উদ্দীপকে উল্লিখিত নির্বাচনটি ১৯৫৪ সালে পূর্ব বাংলায় অনুষ্ঠিত যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন ছিল পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর পূর্ববাংলায় প্রথম প্রাদেশিক নির্বাচন। এ নির্বাচনে জয়ের মধ্য দিয়ে পূর্ববাংলার নেতৃবৃন্দ রাজনৈতিকভাবে স্বীকৃতি লাভ করে। পূর্ব বাংলার গণমানুষ তাদের ভোটের আমানত প্রয়োগ করে তাদের ভবিষ্যৎ নেতাদের বরণ করে নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় পূর্ববাংলায় নেতৃত্বের বিকাশ ঘটে।
ঘ) পূর্ববাংলার উক্ত নির্বাচনে তথা ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট বিজয় লাভ করে। পূর্ববাংলা আইন পরিষদ নির্বাচনে ৩০৯টি আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২৩৬টি আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। আওয়ামী মুসলিম লীগ তাদের বরাদ্দকৃত ১৪৩টি আসনের মধ্যে সবকয়টিতেই জয়লাভ করে জনপ্রিয়তার প্রমাণ দেয়। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকে মুসলিম লীগের ভূমিকা বাঙালিকে হতাশ ও ক্ষুব্ধ করেছিল। এ অবস্থা থেকে মুক্তি লাভের জন্য যুক্তফ্রন্টে বিভিন্ন দল ও মতের মানুষ একত্রিত হয়েছিল। এ দলের কর্মসূচিতে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটে। বাংলা ভাষার মর্যাদা দান, প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন, কৃষক, শ্রমিক, ছাত্রসহ সকল শ্রেণির মানুষের কথা এতে ছিল। এক কথায় ২১ দফা কর্মসূচিও তাদের সহজ বিজয়ের কারণ। যুক্তফ্রন্টের ব্যাপকভিত্তিক সংগঠন, রাষ্ট্রভাষা বাংলার পক্ষে অবস্থান, যুক্তফ্রন্টের নেতৃত্ব, নির্বাচনি কর্মসূচি, ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা, পাকিস্তানকে ঘিরে বাঙালিদের স্বপ্নভঙ্গ, স্বায়ত্তশাসন ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার অঙ্গীকার, নির্বাচনী অভিযান প্রভৃতি কারণ ছিল এ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার নেপথ্যে। পাশাপাশি তরুণদের প্রচার অভিযান ছিল চোখে পড়ার মতো। এসব কারণে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট বিজয় লাভ করে।