সৃজনশীল (CQ)
১. বাংলা প্রথম মাসের প্রথম দিন। ফরিবা, রাইসা, রুপন্তি, প্রিয়তী সকলে মিলে ঠিক করে তারা রমনার বটমূলে যাবে। সকলে লাল-সাদা রঙের শাড়ি পরবে। সেখানে মেলায় গান ও কবিতা শুনবে। প্রতি বছরই এখানে অনেক মানুষের সমাগম হয়। তারা মুখোশ পরে গান গায়, অনেকে আবার মুখে বিভিন্ন ছবি আঁকে। সারাদিন আনন্দ উচ্ছ্বাসে কাটায়।
- ক) বাংলা প্রথম মাসের নাম কী?১
- খ) বাংলাদেশের কৃষি প্রধানত কীসের উপর নির্ভরশীল? ব্যাখ্যা কর।২
- গ) উদ্দীপকে বাংলার কোন মেলার কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।৩
- ঘ) বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বিকাশে উদ্দীপকের বর্ণিত মেলার ভূমিকা মূল্যায়ন কর।৪
উত্তর দেখুন
ক) বাংলা প্রথম মাসের নাম বৈশাখ।
খ) বাংলাদেশের কৃষিকাজ প্রধানত মাটি, মেঘ, রোদ, বৃষ্টি অর্থাৎ প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশের মাটি খুবই উর্বর। এই উর্বর মাটিতে ভালো ফসল জন্মে। ফসল ও শস্য উৎপাদনের জন্য প্রচুর বৃষ্টির পানির প্রয়োজন হয়। আবার অনেক সময় অতিবৃষ্টি বা অনাবৃষ্টির কারণে ফসল নষ্ট হয়ে যায়। তাই বলা যায়, বাংলাদেশের কৃষি প্রধানত প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল।
গ) উদ্দীপকে বাংলার বৈশাখী মেলার কথা বলা হয়েছে।
বৈশাখী মেলা বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে হয়ে থাকে। নববর্ষকে উৎসবমুখর করে তুলতেই এ মেলার আয়োজন করা হয়। বৈশাখী মেলা এখন গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এখন এ মেলা কেবল গ্রামেই নয়, শহরগুলোতেও অত্যন্ত জাঁকজমকভাবেই হয়ে থাকে। নববর্ষের প্রথম দিনে দেশের সর্বত্রই উৎসবের আমেজে ভরপুর থাকে। ছেলেরা বাংলার লোকজ ঐতিহ্যের ধারক যেমন- কুলা, তবলা, ডুগডুগি ইত্যাদির ছবি সংবলিত পাঞ্জাবি এবং মেয়েরা লাল-সাদা রঙের শাড়ি পরে দিনটিকে বরণ করে। শহরের মেলায় উৎসবের গান ও কবিতার আসর বসে। মেলায় আসা মানুষ মুখোশ পরে গান গায়, অনেকে আবার মুখে বিভিন্ন ছবি আঁকে। তেমনি উদ্দীপকে বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে ফরিবা, রাইসা, রুপন্তি ও প্রিয়তী লাল সাদা রঙের শাড়ি পরে রমনার বটমূলে যাবার সিদ্ধান্ত নেয়। সেখানে তারা গান ও কবিতা শুনবে। কারণ মেলা উপলক্ষে সেখানে প্রতিবছর অনেক নারী-পুরুষ আসে। তারা মুখোশ পরে গান গায়, মুখে বিভিন্ন ছবি আঁকে।
তাদের এসব কার্যকলাপ থেকে এটা সহজেই বলা যায় যে, উদ্দীপকে বাংলার বৈশাখী মেলার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
ঘ) বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বিকাশে উদ্দীপকের বর্ণিত মেলা তথা বৈশাখী মেলার অবদান অপরিসীম।
বাংলাদেশে যত মেলা হয়ে থাকে তার মধ্যে উদ্দীপকে উল্লিখিত বৈশাখী মেলাই সবচেয়ে বড় এবং উৎসবমুখর। বর্তমানে বৈশাখী মেলা একটি জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে। এ দিনটা সরকারি ছুটির দিন। বৈশাখী উৎসব উদ্যাপন করা হয় নানা রকম সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও কর্মসূচির মধ্য দিয়ে। এদিন রমনার বটমূলে ছায়ানটের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শুরু হয় বৈশাখী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। এছাড়াও শিশু একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি, উদীচীসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। সারাদেশে শহরে ও গ্রামগুলোতে বৈশাখী মেলা বসে। মেলাতে বাংলা সংস্কৃতি ও কৃষ্টির এক অপূর্ব সমাবেশ ঘটে। প্রায় সব মেলাতেই যাত্রা, থিয়েটার, পাঁচালি, কবিগান, কীর্তন, বাউল গানের আয়োজন থাকে। অনেক মেলাতে নাগরদোলা, ম্যাজিক, লাঠিখেলা, কুস্তি, পুতুল নাচ, বায়োস্কোপ ইত্যাদি থাকে। এগুলো সবই বাংলা সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। মেলাতে কুটিরশিল্প, হস্তশিল্প ও মৃৎশিল্পের নানা জিনিস বেচাকেনা হয়। বৈশাখী মেলা হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সকল ধর্মের ও বর্ণের সম্মিলিত জাতীয় উৎসব। পহেলা বৈশাখে হালখাতাও বাংলা সংস্কৃতির একটি অতি পুরাতন প্রথা। প্রকৃতপক্ষে বৈশাখী মেলা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।