সৃজনশীল (CQ)
১. সামিহা : লাজিন, কিছু দিন আগে পত্রিকায় রিকশাওয়ালার খবরটি পড়েছিস?
লাজিন : হ্যাঁ পড়েছি। তার রিকশায় পড়ে থাকা একজন যাত্রীর এক লক্ষ টাকার একটি ব্যাগ পেয়েও নেয়নি। বরং যাত্রীর ঠিকানা খুঁজে বের করে পুরো টাকাটা যাত্রীকে ফেরত দেয়।
সামিহা : ঐ রিকশাওয়ালার মতো মানুষই আমাদের দেশের জন্য দরকার। সত্যিই রিকশাওয়ালার বিচক্ষণতা ও সচেতনতা প্রশংসার দাবিদার।
- ক) জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বে কততম দেশ?১
- খ) সাম্প্রদায়িকতা সুনাগরিকত্ব অর্জনের একটি অন্তরায়—কথাটি ব্যাখ্যা কর।২
- গ) উদ্দীপকের রিকশাওয়ালার মাঝে সুনাগরিকের কোন গুণটি প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা কর।৩
- ঘ) "সুনাগরিক হতে হলে রিকশাওয়ালার উক্ত গুণটিই যথেষ্ট"—তুমি কি একমত? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।৪
উত্তর দেখুন
ক) জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বে অষ্টম।
খ) সুনাগরিকত্ব অর্জনের জন্য দেশের সকল নাগরিককে উদার হতে হয়। সাম্প্রদায়িকতার ফলে দেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে অনেক সময় বিভেদ ও অশান্তি বিরাজ করে। যেমন : বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ভুক্ত জনগোষ্ঠীর একাংশে নানা কারণে সহিংসতা দেখা দেয়। এতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হয় এবং সমাজে সাম্প্রদায়িকতার উদ্ভব হয়। তাই সুনাগরিকত্ব অর্জনে সাম্প্রদায়িকতা প্রধান অন্তরায় হিসাবে কাজ করে।
গ) উদ্দীপকে রিকশাওয়ালার মাঝে সুনাগরিকের যে গুণটি প্রকাশ পেয়েছে তা হলো আত্মসংযম। একজন সুনাগরিককে তিনটি মৌলিক গুণাবলি সম্পন্ন হতে হয় যার মধ্যে আত্মসংযম অন্যতম। একজন সুনাগরিককে অবশ্যই আত্মসংযমী হতে হয়।
আত্মসংযমী মানুষ নিয়ম-কানুন মেনে চলে, লোভ-লালসা পরিহার করে, অন্যের মতামতকে শ্রদ্ধা করে এবং রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণের জন্য কাজ করে। সমাজ ও দেশের কল্যাণে নিজের স্বার্থকে তুচ্ছ করে একজন সুনাগরিক কাজ করে যায়। একজন আত্মসংযমী নাগরিক বিভিন্ন অসৎ কাজ যেমন : দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, স্বার্থপরতা ও পক্ষপাতিত্ব ইত্যাদি থেকে নিজেকে বিরত রেখে নিঃস্বার্থভাবে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে। তেমনি উদ্দীপকের রিকশাওয়ালা এক লক্ষ টাকার ব্যাগ পেয়েও সে তার লোভ-লালসাকে পরিহার করে আত্মসংযমী হয়। এরপর সে টাকার ব্যাগটি প্রকৃত মালিককে ফেরত দিয়ে সুনাগরিকতা ও আত্মসংযমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত দেখিয়েছেন। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে সুনাগরিকের অন্যতম গুণ আত্মসংযমের প্রকাশ পেয়েছে।
ঘ) সুনাগরিক হতে হলে আত্মসংযম গুণটিই যথেষ্ট এ ব্যাপারে আমি একমত নই। একজন সুনাগরিকের তিনটি মৌলিক গুণ থাকে তার মধ্যে আত্মসংযম একটি। আত্মসংযম ছাড়াও সুনাগরিকের আরও দুইটি মৌলিক গুণ রয়েছে। যথা : বুদ্ধি ও বিবেক-বিচার। দেশের একজন বুদ্ধিমান নাগরিক দেশ পরিচালনার জন্য উপযুক্ত প্রতিনিধি নির্বাচন, রাষ্ট্রের বিভিন্ন উন্নয়ন ও সফলতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একজন বুদ্ধিমান নাগরিক রাষ্ট্রের ও সমাজের যেকোনো সমস্যার বুদ্ধিবৃত্তিক সমাধানের প্রচেষ্টা চালায়। আবার একজন নাগরিককে শুধু বুদ্ধিমান ও আত্মসংযমী হলে চলবে না বরং কোন কাজ ভালো না মন্দ তা বিচারের ক্ষমতা থাকতে হবে এবং নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্যের জ্ঞান থাকা জরুরি। অর্থাৎ বিবেক-বিচার সুনাগরিকত্বের অন্যতম মৌলিক গুণাবলি। বিবেক হলো সুনাগরিকের জাগ্রত শক্তি। বিবেককে কাজে লাগিয়ে সে ভালো ও মন্দ কাজের ব্যবধান বুঝে এবং দেশের প্রতি তার দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হয়। উপর্যুক্ত আলোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, উদ্দীপকে উল্লিখিত আত্মসংযম গুণটি সুনাগরিকতার জন্য যথেষ্ট নয়।