সৃজনশীল (CQ)
১. আরিক টেলিভিশনে 'বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ' সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দেখছিল। প্রতিবেদনের প্রথম অংশে দেখানো হয় কীভাবে উত্তরাঞ্চলের একটি গ্রামে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে কৃষিজমিগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবেদনের দ্বিতীয় অংশে দেখানো হয় উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ কীভাবে জনজীবন ও পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ঐ অঞ্চলে অবস্থানগত কারণে প্রায়শই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করে।
- ক) প্রচণ্ড গতিসম্পন্ন ঘূর্ণিঝড়কে কী বলে?১
- খ) কালবৈশাখী কী ? বুঝিয়ে লেখ।২
- গ) প্রতিবেদনের দ্বিতীয় অংশে দেখানো দুর্যোগ ঘটার কারণ ব্যাখ্যা কর।৩
- ঘ) প্রতিবেদনের প্রথম অংশে দেখানো দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়—ব্যাখ্যা কর।৪
উত্তর দেখুন
ক) প্রচণ্ড গতিসম্পন্ন ঘূর্ণিঝড়কে টর্নেডো বলে।
খ) কোনো স্থানের তাপমাত্রা প্রচুর বেড়ে গেলে সেখানকার বাতাস হালকা হয়ে উপরে যায় তখন পাশের অঞ্চলের অপেক্ষাকৃত শীতল বাতাস প্রবল বেগে এই শূন্যস্থানে ধেয়ে আসে ও ঝড়ের সৃষ্টি করে যা আমাদের দেশে কালবৈশাখী নামে পরিচিত। কালবৈশাখী হলো এক ধরনের ক্ষণস্থায়ী ও স্থানীয়ভাবে সৃষ্ট প্রচণ্ড ঝড়। সাধারণত বৈশাখ মাসেই এ ঝড় বেশি হয় বলে একে কালবৈশাখী ঝড় বলা হয়। কালবৈশাখী ঝড় সাধারণত উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয়।
গ) প্রতিবেদনের দ্বিতীয় অংশে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক দুর্যোগ সম্পর্কে বলা হয়েছে। এ অঞ্চলে সাধারণত ঘূর্ণিঝড় এবং জলোচ্ছ্বাস বেশি হয়ে থাকে। সাধারণত কোনো স্থানের বাতাসের তাপ বৃদ্ধি পেলে সেখানকার বাতাস হালকা হয়ে উপরে উঠে যায়। ফলে ওই অঞ্চলের বাতাসের চাপ কমে যায়। একে নিম্নচাপ সৃষ্টি হওয়া বলে। এ সময় আশপাশের অঞ্চল থেকে বাতাস প্রবলবেগে ওই নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে ছুটে আসে। ফলে ঘূর্ণিঝড় বা জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশের অধিকাংশ ঘূর্ণিঝড় বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে হয়ে থাকে। সমুদ্রে সৃষ্ট নিম্নচাপ ও ঝড়ের ফলে সমুদ্রের লোনা জল বিশাল উচ্চতা নিয়ে ও তীব্রবেগে উপকূলে আছড়ে পড়ে এবং স্থলভাগকে প্লাবিত করে। এর ফলে উপকূলের জনজীবন ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় যা উদ্দীপকের প্রতিবেদনের দ্বিতীয় অংশে দেখানো হয়েছে।
ঘ) প্রতিবেদনের প্রথম অংশে দেখানো দুর্যোগটি হলো খরা। উদ্দীপকে প্রতিবেদনের প্রথম অংশে দেখানো হয় কীভাবে উত্তরাঞ্চলের একটি গ্রামে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে কৃষি জমিগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে যা খরাকে নির্দেশ করে। পাঠ্যবই থেকে আমরা জানতে পারি, উত্তরাঞ্চলে খরার প্রকোপ বেশি এবং খরার কারণে কৃষিজমি শুকিয়ে যায়। খরা বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ। প্রাকৃতিক দুর্যোগ খরা পুরোপুরি প্রতিরোধ করা খুব সহজ নয়। তবে সচেতন হলে ও সময়মতো ব্যবস্থা নিলে ক্ষয়ক্ষতি অনেকখানি কমানো যেতে পারে। এজন্য ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পরীক্ষা করে মাটির নিচ থেকে পানি উত্তোলন বন্ধ করে খরা মোকাবিলা করা যেতে পারে। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে রাখতে হবে। সুষ্ঠু পানি ব্যবস্থাপনা ও পানি ব্যবহারে গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। উল্লিখিত ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করলে খরার ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে।
নোট: বইয়ে (বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, সপ্তম শ্রেণি, পৃ. ৬০) খরা মোকাবিলায় মাটির নিচ থেকে পানি উত্তোলন বন্ধ করার কথা দেওয়া; প্রকৃতপক্ষে খরার সময় সেচ লাগে, তাই ভূগর্ভস্থ পানির স্তর বুঝে অতিরিক্ত উত্তোলন বন্ধ রেখে পরিমিত উত্তোলনই বাস্তবসম্মত।
সূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অধ্যায় ৬, বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ